Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বিজেপি নেতা খুনে বিধায়ক ও দুই কাউন্সিলারের বিরুদ্ধে চার্জশিট সিবিআইয়ের

বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকার খুনের মামলায়  নতুন মোড়।

বিজেপি নেতা খুনে বিধায়ক ও দুই কাউন্সিলারের বিরুদ্ধে চার্জশিট সিবিআইয়ের
  • ৩ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকার খুনের মামলায়  নতুন মোড়। সিবিআইয়ের জমা দেওয়া দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে এবার জুড়ল তৃণমূল বিধায়ক পরেশ পালের নাম। তাঁর সঙ্গে  কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদ স্বপন সমাদ্দার ও ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার পাপিয়া ঘোষের (বিশ্বাস) নাম রয়েছে। একইসঙ্গে নারকেলডাঙা থানার প্রাক্তন ওসি শুভজিৎ সেন ও ঘটনার তদন্তকারী অফিসার রত্না সরকার ও এই থানার হোমগার্ড দীপঙ্কর দেবনাথের নাম রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সবমিলিয়ে ১৮ জনের নাম রয়েছে। চার্জশিটে দাবি করা হয়েছে, বিধায়কের প্রত্যক্ষ মদতে এই খুনের ঘটনা ঘটে।

Advertisement

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের দিন সন্ধ্যায় নারকেলডাঙা এলাকায় খুন হন অভিজিৎ সরকার। তাঁর বাড়িতে দুষ্কৃতীরা হামলা চালায় বলে অভিযোগ।  গলায় তার প্যাঁচানোর পর পিটিয়ে মারা হয় এই বিজেপি কর্মীকে। এমনটাই অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছিল। অভিজিতের পরিবার দাবি করে, স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব এই খুনের পিছনে রয়েছে। প্রথমে তদন্ত শুরু করে নারকেলডাঙা থানা। অভিজিতের পরিবার কলকাতা পুলিসের তদন্তে সন্তুষ্ট না হয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়। আদালত সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয়। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা অভিজিতের দাদার সঙ্গে কথা বলেন। তাঁর বয়ান রেকর্ড করা হয়। থানার কাছ থেকে কেস ডায়েরি নেন সিবিআইয়ের আধিকারিকরা। এজেন্সি এরপর একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এমনকী বিধায়ক পরেশ পালের সঙ্গেও কথা বলেন তদন্তকারীরা। সপ্তাহখানেক আগে এই মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত পলাতক অরুণ দে ধরা পড়ে তেঘরিয়ায়। এখনও বেশ কয়েকজন ধরা পড়েনি। এই মামলায় পুলিস প্রথমে ১৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছিল। ২০২১ সালে প্রথম সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে ২০ জনের নাম ছিল। এরপর সোমবার বিচারভবনের বিশেষ আদালতে দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট জমা পড়ল। সিবিআই তাদের প্রেস রিলিজে জানিয়েছে, এই চার্জশিটে বিধায়ক পরেশ পাল, কাউন্সিলার স্বপন সমাদ্দার ও কাউন্সিলার পাপিয়া ঘোষ বিশ্বাসের নাম রয়েছে। এই বিষয়ে মেয়র পারিষদ সদস্য স্বপন সমাদ্দারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। যেদিন ঘটনা ঘটেছে সেদিন ধারেপাশে আমি ছিলাম না। তিনি আরও বলেন, অভিজিৎ সরকারের দাদা এলাকায় তোলাবাজি করছেন। পাপিয়া বিশ্বাসের বক্তব্য, আমি বিষয়টি জানি না। সেদিন কাউন্টিং হলে ছিলাম। পরেশ পালের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। প্রাক্তন ওসির ফোন বেজে গিয়েছে।   

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ