নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: জলের তোড়ে ময়ূরাক্ষী নদীর উপরে থাকা ফেরিঘাট তথা কজওয়ে ভেসে গিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ওই কজওয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সাঁইথিয়া পুরসভা সহ একাধিক গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দারা সমস্যায় পড়েছেন। ওইসব এলাকার বাসিন্দাদের বেশকিছুটা ঘুরপথে চলাচল করতে হচ্ছে। কজওয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শহরের ভিতরে যানজট ক্রমশ বেড়েই চলেছে। এহেন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ দ্রুত কজওয়ে সংস্কারের দাবিতে সরব হয়েছেন। যদিও পুরসভার তরফে জানা গিয়েছে, পুজোর আগে ওই কজওয়ে সংস্কারের কোনও সম্ভাবনা নেই।
পুরসভার চেয়ারম্যান বিপ্লব দত্ত বলেন, এখনও ময়ূরাক্ষী নদীর জলস্তর কমেনি। এই পরিস্থিতিতে কজওয়ে সংস্কারের কাজ করা সম্ভব নয়। জলস্তর কমলেই সংস্কারের কাজ হবে।
চলতি বর্ষার মরশুমের শুরু থেকেই তিলপাড়া ব্যারাজের একাধিক লকগেট খুলে দেওয়া হয়। জুলাই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ময়ূরাক্ষীতে জলস্ফীতি হয়। তার জেরে সাঁইথিয়ায় ময়ূরাক্ষী নদীর উপর থাকা কজওয়ে ভেসে যায়। এই পরিস্থিতিতে ওই পথ ধরে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরিভাবে থমকে গিয়েছে। সাধারণ মানুষকে ঘুরপথে শহরের ভিতর দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এমনকী, দূরপাল্লার পণ্যবাহী গাড়িও শহরের ভিতর দিয়ে ছুটে চলেছে। তার জেরে শহরের ভিতরে যানজটের সমস্যা বেড়েই চলেছে। সেইসঙ্গে কজওয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সাঁইথিয়া ব্লকের একাধিক পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দাদের থানা কিংবা হাসপাতালে পৌঁছতে কিছুটা হলেও বেগ পেতে হচ্ছে। এছাড়াও সাঁইথিয়া ও সিউড়ির যোগাযোগও কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। পাশাপাশি মল্লারপুরের সঙ্গে যোগাযোগও একটু ঘুরপথে চলছে। স্বাভাবিকভাবেই সকলে একযোগে দ্রুত কজওয়ে সংস্কারের দাবি জানাতে শুরু করেছেন।
সাঁইথিয়ার বাসিন্দা সুধাময় মণ্ডল বলেন, কজওয়ে দিয়ে চলাচল অনেকটাই সহজ হয়। এখন আমাদের শহরের ভিতর দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। সেক্ষেত্রে অনেকটাই ঘুরপথে যাওয়া-আসা করতে হচ্ছে। এছাড়াও যানজটের সম্মুখীনও হতে হচ্ছে। পুজোর আগেই কজওয়ে সংস্কার না হলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে। পুরসভার তরফে দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে কজওয়েটি আবার চালু করা প্রয়োজন। সিউড়ির বাসিন্দা শেখ নুর কালাম বলেন, ওই কজওয়ে দিয়ে প্রায়ই যাতায়াত করতাম। তবে কজওয়ে ভেঙে যাওয়ায় শহরের ভিতর দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। তাতে খানিকটা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। কজওয়েটি দ্রুত সংস্কার করা হলে খুব ভালো হয়। আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেকটা মসৃণ হবে। -নিজস্ব চিত্র