Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রাজ্যে দ্রুত কমছে গবাদি পশু, উদ্বেগ

রাজ্যে দ্রুত কমছে গবাদি পশু, উদ্বেগ
  • ৩ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: রাজ্যে উদ্বেগজনকভাবে কমেছে গবাদি পশুর সংখ্যা। সম্প্রতি বাংলাজুড়ে প্রাণী সুমারির প্রাথমিক রিপোর্ট এসেছে। তাতেই এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে। দেখা যাচ্ছে, ২০১৯ সালের তুলনায় এবার গবাদি পশুর সংখ্যা নিম্নমুখী। গোটা রাজ্যে গবাদি পশুর সংখ্যা প্রায় ৪০ লক্ষ কমেছে। রাজ্যে বিভিন্ন জেলায় গড়ে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ গবাদি পশু ‘হারিয়ে’ গিয়েছে। যদিও এই তথ্য কেন্দ্রের অনুমোদনে সরকারিভাবে প্রকাশ করা হয়। তবে গবাদি পশুর সংখ্যা কমার এই প্রবণতা উদ্বেগ বাড়িয়েছে প্রাণী সম্পদ বিকাশ দপ্তরের আধিকারিকদের। পাশাপাশি দেখা যাচ্ছে, গোটা রাজ্যেই পোল্ট্রির সংখ্যা তাৎপর্যপূর্ণভাবে বেড়েছে। যার অন্যতম কারণ হল, চাহিদা বৃদ্ধি। অন্যদিকে, পরিবেশে গোখাদ্যের পরিমাণ কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে গবাদি পশুর সংখ্যায়। 

Advertisement

বিগত কয়েক মাস ধরে রাজ্যজুড়ে চলছিল ২১তম প্রাণী সুমারি। বিভিন্ন গ্রামে, বাড়িতে গিয়ে গোরু, ষাঁড়, ভেড়া, ছাগল, শুয়োর, হাঁস, মুরগির গণনা করছিলেন প্রাণী সম্পদ বিকাশের আধিকারিকরা। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী ২০তম প্রাণী সুমারির তুলনায়দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলায় ১ লক্ষের বেশি, আলিপুরদুয়ার জেলায় প্রায় ২ লক্ষ, বীরভূম জেলায় প্রায় ১ লক্ষ ৪০ হাজার, কোচবিহার জেলায় প্রায় ২ লক্ষ ৫০ হাজারের অধিক, উত্তর দিনাজপুর জেলায় ৩ লক্ষের অধিক, হুগলি জেলায় ২ লক্ষ ৮০ হাজারের অধিক, পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ৪ লক্ষের অধিক, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় সাড়ে ৩ লক্ষের অধিক, নদীয়া জেলায় প্রায় আড়াই লক্ষ, পূর্ব বর্ধমান জেলায় সাড়ে ৩ লক্ষের অধিক গবাদি পশুর সংখ্যা কমেছে। 
প্রাণীবিদদের কথায়, গবাদিপশু চাষের থেকে মানুষ ক্রমশ মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। তার অন্যতম কারণ হল, অত্যধিক খরচ। বর্তমানে রাজ্যজুড়ে সর্বত্রই সবুজ ঘাস অপ্রতুল হয়ে পড়ছে। যার ফলে গোরুর সহজাত খাবার অনায়াসে মিলছে না। তার উপর বিভিন্ন জায়গায় অত্যধিক রাসায়নিক সার ও কীটনাশক প্রয়োগ, নাড়া পোড়ানোর ফলে জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধান ঝাড়াই করার ফলে বিপুল পরিমাণ খড় মাঠেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তা গবাদি পশুর খামার পর্যন্ত পৌঁছচ্ছে না। শুধু তাই নয়, ধান পাকার আগেই বর্তমানে বিভিন্নরকম ওষুধ ব্যবহার করছেন চাষিরা। যার ফলে গোখাদ্যে ‘বিষক্রিয়া’ দেখা দিচ্ছে। যার ফলে চাষিরা অনেক টাকা দিয়ে গোরুর খাবার কিনতে সমস্যায় পড়ছেন। 
নদীয়া জেলার ডিস্ট্রিক্ট নোডাল অফিসার দেবাশিস জানা বলেন, প্রাণী সুমারির করার সময়ে আমরা দেখি যে, গবাদি পশুর সংখ্যা নিম্নমুখী। সেই জায়গায় পোল্ট্রির মুরগি ও ছাগলের সংখ্যা বেড়েছে। কারণ চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু গোখাদ্যের পরিমাণ ও গুণগতমান কমে যাওয়া, গবাদি সংখ্যায় বিরূপ প্রভাব ফেলছে।‌
নদীয়া জেলায় অক্টোবর মাস থেকে প্রাণী গণনা শুরু হয়েছিল। নদীয়া জেলার প্রাণীসম্পদ বিকাশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাণী সুমারির জন্য ৩৯২ জন গণনাকারী, ৭১ জন সুপার ভাইজার ও একজন জেলা নোডাল অফিসারকে নেওয়া হয়েছিল। বিগত পাঁচ মাসে নদীয়া জেলার ১৫৫৭টি এলাকার ১৪ লক্ষ হাউজহোল্ড ভিজিট করা হয়। জানা গিয়েছে, ২০১৯ সালের প্রাণী সুমারির রিপোর্ট অনুযায়ী, নদীয়া জেলায় গবাদি পশুর সংখ্যা ছিল ৮ লক্ষ ৯ হাজার ১৩৩টি, ছাগল ছিল ৯ লক্ষ ১৬ হাজার ৬৩০টি, হাঁস ও মুরগি মিলিয়ে পোল্ট্রির সংখ্যা ছিল ৫৪ হাজার।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ