


লখনউ: তখনও জ্ঞান হয়নি। মা মারা যায়। তারপর থেকেই মামাবাড়িতে বেড়ে ওঠা। গত বুধবার দিদার সঙ্গে গ্রামের এক আত্মীয়ের বিয়েতে গিয়েছিল ১১ বছরের চমন। চারদিকে আলো, ফুল, গানবাজনা। সবাই আনন্দে মেতে। ছোট্ট চমনও এদিক-ওদিক ছুটে বেড়াচ্ছিল। কিছুক্ষণ পর খাওয়া-দাওয়া শুরু। থরে থরে সাজানো নানা রকমের তরকারি, মিষ্টি। রসগোল্লা দেখে লোভ সামলাতে পারেনি খুদে। বেশ কয়েকটি রসগোল্লা খেয়ে ফেলেছিল। এটাই ছিল তার ‘অপরাধ’। বালককে বারবার রসগোল্লা নিতে দেখে রেগে যান বিয়েবাড়ির এক কেটারিং কর্মী। অভিযোগ, তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে উনুনে (তন্দুরে) ফেলে দেন ওই ব্যক্তি। যোগীরাজ্য উত্তরপ্রদেশের বস্তি জেলার এমন নৃশংস ঘটনাকে কেন্দ্র করে চারদিকে নিন্দার ঝড়। আগুনে ঝলসে গিয়েছে বালকের মুখ থেকে কোমর পর্যন্ত শরীরের একাধিক অংশ। আশঙ্কাজনক অবস্থায় লখনউ মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা চলছে দ্বিতীয় শ্রেণির ওই পড়ুয়ার। এদিকে, পরিস্থিতি বেগতিক দেখে চম্পট দেয় অভিযুক্ত। তাঁর খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।
চমনের বাড়ি উত্তরপ্রদেশের গোন্ডা জেলায়। মা মারা যাওয়ার পর থেকে বস্তি জেলায় মামাবাড়িতেই রয়েছে সে। বুধবার নেমন্তন্ন খেতে গিয়েই কাল হল। এক প্রত্যক্ষদর্শীর কথায়, ‘চমন বারবার রসগোল্লা চাওয়ায় রেগে যান ওই কেটারিং কর্মী। বালককে প্রথমে ভয় দেখান। তারপর কোলে তুলে জ্বলন্ত তন্দুরের কাছে নিয়ে যান। সেইসময় উনুনে পড়ে যায় চমন। ও কোলের মধ্যে লাফালাফি করছিল। অসাবধানতায় এই ঘটনা ঘটেছে বলে মনে হয়।’ চিৎকার শুনে তড়িঘড়ি চমনকে উদ্ধার করে অযোধ্যা মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যায় বিয়েবাড়িতে উপস্থিত লোকজন। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় পরে তাকে লখনউ মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। পলাতক ওই ব্যক্তির সন্ধানে তল্লাশি শুরু হয়েছে। এনিয়ে ডিএসপি স্বর্ণিমা সিং জানিয়েছেন, যত দ্রুত সম্ভব অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হবে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।