Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

ছানি অপারেশন

বার্ধক্যের অন্যতম চিহ্ন ছানি পড়া। বয়স একটু বাড়লেই চোখে ছানি পড়ে অনেকের। চোখের ভিতরের লেন্সে আলো প্রবেশের পথ বন্ধ হয়ে যায়

ছানি অপারেশন
  • ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১৫:০৪
Prefer us on Google

বার্ধক্যের অন্যতম চিহ্ন ছানি পড়া। বয়স একটু বাড়লেই চোখে ছানি পড়ে অনেকের। চোখের ভিতরের লেন্সে আলো প্রবেশের পথ বন্ধ হয়ে যায়। তখন রেটিনার উপর এক ধরনের আস্তরণ পড়ে। একে বলা হয় ছানি। এর ফলে ওই ব্যক্তির দৃষ্টিশক্তি ক্রমশ ক্ষীণ হতে থাকে। কোনো ওষুধ নয়, অস্ত্রোপচারই ছানির একমাত্র পথ। বর্তমানে ছানি অপারেশন একটি অত্যন্ত সহজ ও নিরাপদ চিকিৎসা পদ্ধতি। এর ইতিহাস হাজার বছরের পুরনো। চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতির এক অনন্য উদাহরণ হল ছানির অপারেশন। জানা যায়, শল্যচিকিৎসার জনক সুশ্রুত ছানি চিকিৎসার একটি পদ্ধতি বর্ণনা করেছিলেন। এই পদ্ধতির নাম ছিল কাউচিং। এতে একটি ধারালো সূঁচ দিয়ে চোখের ঘোলাটে লেন্সটিকে সরিয়ে চোখের ভেতরের দিকে ঠেলে দেওয়া হতো। ফলে আলো চোখের ভিতরে সহজেই প্রবেশ করতে পারত। এবং রোগী দেখতেও পেতেন। তবে এই প্রক্রিয়ায় ঝুঁকি ছিল। চোখের ফোকাস করার ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যেত অনেক সময়। দৃষ্টিও ভীষণ ঝাপসা হতো। তবুও সেই সময়ের জন্য এটি এক বৈপ্লবিক পদ্ধতি। এরপর ১৭৪৭ সালে ফরাসি সার্জন জ্যাক ড্যাভিয়েল প্রথম সফলভাবে চোখ থেকে ছানি অপসারণ করেন। তিনি চোখের কর্নিয়ায় ছোট ছেদ করে ঘোলাটে লেন্স বের করে দেন। এই পদ্ধতিকে বলা হয় এক্সট্রাক্যাপসুলার ক্যাটার‌্যাক্ট এক্সট্রাকশন। আধুনিক ছানি অস্ত্রোপচারের সূচনা এর হাত ধরেই। তবে ঝুঁকি ছিল এখানেও। উনিশ শতকে ছানি অপারেশনে বড় পরিবর্তন আসে। ১৮৮৪ সালে কার্ল কোলার কোকেনকে অ্যানাস্থেসিয়া হিসেবে ব্যবহার করেন। এর ফলে অপারেশনের সময় ব্যথা অনেক কমে যায়। রোগীকে অজ্ঞান করবার প্রয়োজনও হতো না। এতে ছানি অপারেশন অনেক বেশি নিরাপদ ও আরামদায়ক হয়ে ওঠে। ১৯৪৯ সালে ব্রিটিশ বিজ্ঞানী স্যার হ্যারল্ড রিডলি প্রথম কৃত্রিম চোখের লেন্স বা ইনট্রাঅকুলার লেন্স তৈরি করলেন। তিনি লক্ষ করেছিলেন, যুদ্ধবিমান চালকদের চোখে প্লাস্টিকের টুকরো ঢুকলেও কোনো ইনফেকশন হয় না। এই পর্যবেক্ষণ থেকেই তিনি কৃত্রিম লেন্স তৈরি করেন, যা অপারেশনের পর চোখে বসানো যেত। এর ফলে ছানি অপারেশনের পর রোগীরা আবার পরিষ্কারভাবে দেখতে পেতেন। ১৯৬০-এর দশকে ডাঃ চার্লস কেলম্যান ফেকোইমালসিফিকেশন নামক একটি অত্যাধুনিক পদ্ধতির আবিষ্কার করেন। এই পদ্ধতিতে আলট্রাসাউন্ড তরঙ্গ দিয়ে ঘোলাটে লেন্সকে ছোট ছোট টুকরো করে ভেঙে বের করে দেওয়া হয়। এতে খুব ছোট ছেদ করলেই অপারেশন করা যায়। ফলে সেলাইয়ের প্রয়োজন পড়ে না। রোগীর দ্রুত আরোগ্য লাভও সম্ভব হয়। বর্তমানে ছানি অপারেশন আরও উন্নত ও নিখুঁত হয়েছে। ২০০৮ সালে ডাঃ জোল্টান নাগি প্রথম ফেমটোসেকেন্ড লেজার ব্যবহার করে ছানি অপারেশন করেন। লেজারের মাধ্যমে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে কর্নিয়ায় ছেদ করা এবং ছানি কাটা সম্ভব হয়। এতে অপারেশন নির্ভুল হয়। ঝুঁকি কমে। এছাড়া বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের উন্নত কৃত্রিম লেন্স ব্যবহৃত হচ্ছে। এইসব লেন্স সব দূরত্বে পরিষ্কার দেখতে সাহায্য করে। 

Advertisement

লিখেছেন শান্তনু দত্ত

সম্পর্কিত সংবাদ