Bartaman Logo
৩ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রবিবার

বিড়ালের শহর

বিড়ালের শহর
  • ২৭ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০

কালীপদ চক্রবর্তী

Advertisement

সিটি অব জয়’ নামটা নিশ্চয়ই শুনেছ? হ্যাঁ, শহর কলকাতাকে বলা হয় সিটি অব জয়। অর্থাৎ আনন্দের শহর। ১৯৮৫ সালে দোমেনিক ল্যাপিয়ের কলকাতা শহরকে প্রেক্ষাপট করে ‘সিটি অব জয়’ নামে একটি উপন্যাস লেখেন। তারপর থেকেই শহর তিলোত্তমার অমন সুন্দর একটি নাম হয়। শুধু কলকাতা নয় দেশের বিভিন্ন শহরের এমন নাম রয়েছে— যেমন: পিঙ্ক সিটি বা গোলাপি শহর জয়পুর, কমলালেবুর শহর নাগপুর, শৈলরানি দার্জিলিং। শুধু দেশে কেন বিদেশেও শহরের ডাকনাম রয়েছে। ‘দ্য বিগ অ্যাপল’ বলা হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ককে। ছোট্ট বন্ধুরা, তোমরা কি বলতে পারবে, ‘সিটি অব ক্যাটস’ মানে বিড়ালের শহর কাকে বলা হয়?
ইস্তানবুলের নাম তো অনেকেই শুনে থাকবে। ইস্তানবুল হল তুরস্কের অন্যতম প্রধান শহর। এই শহরটির প্রথমে নাম ছিল বাইজান্টিয়াম। তখন বাইজানটাইন সাম্রাজ্য। পরে শহরের নাম বদলে রাখা হয় কনস্টান্টিনোপল। পূর্ব রোমান সাম্রাজ্যের সেই বিখ্যাত রাজা কনস্টানটাইনের নামানুসারে এই নামকরণ করা হয়েছিল। কনস্টানটাইনই ছিলেন প্রথম রাজা যিনি খ্রিস্ট ধর্মগ্রহণ করেন এবং এই ধর্মকে স্বীকৃতি দেন। পরে শহরটি নাম দেওয়া হয় ইস্তানবুল। এই ইস্তানবুলকে বলা হয় বিড়ালের শহর।
ইস্তানবুলের গলি, সরু রাস্তায়, বাড়ির ছাদ, জানলার কার্নিশ, দরজার কাছে, বাড়ির প্রায় প্রতিটি কোণে বিড়াল দেখা যায়। সেগুলোর বিভিন্ন রং, বিভিন্ন বয়স এবং বিভিন্ন আকার। এত বিড়াল! কি খুব আশ্চর্য হয়ে যাচ্ছ তাই তো?
এই বিড়ালগুলো কখনও কখনও খাবারের সন্ধানে দোকান বা বাজারে ঢুকে পরে। ইস্তানবুল শহরের যেদিকেই চোখ যাবে, সেদিকেই চোখে পড়বে বিড়াল। বিড়াল এই শহরের বাসিন্দাদের জীবনযাপনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।
সারা শহর জুড়ে এত বিড়াল আছে যে, অফিসের মিটিং রুমে ঢুকে মিটিংয়ের চলাকালীন একটি বিড়াল হেঁটে গেলে কেউ অবাক হবেন না। কারণ শহরের মানুষ এতে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছেন।
দোকান মালিক এবং স্থানীয়রা তাঁদের আশেপাশ থাকা বিড়ালগুলি নামও জানেন। একটি হিসাব বলছে, তুরস্কের এই শহরে ১ লক্ষ ২৫ হাজার থেকে প্রায় ২ লক্ষ গৃহপালিত বিড়াল রয়েছে। ইস্তানবুলের সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গিয়েছে 
এই প্রাণী।
শীতের রাতে গরম রাখার জন্য অনেকেই ঘরে একাধিক বিড়াল রাখেন। সেই বিড়ালের জন্য আবার বিড়ালের ঘরও থাকে। ইস্তানবুলে বিড়াল কেনাবেচার বিরাট বাজার রয়েছে। এসব বাজারে বিভিন্ন উৎসব বা বিশেষ দিনে বিড়ালের দামে ছাড়ও দেওয়া হয়।
শুধু তাই নয়, ওখানকার মানুষজন বিড়াল কেনার ক্ষেত্রে দাম নিয়ে বেশি ভাবেন না। বেশি দাম দিতেও তাঁরা তৈরি থাকেন। এই শহরের মূল গৃহপালিত পশু বিড়াল। আর শহরবাসী অত্যন্ত 
মার্জার-প্রিয়। 
যদি কখনও দেখা যায় শহরের রাস্তায় কোনও বিড়াল অসুস্থ হয়ে পড়ে রয়েছে, তাহলে তাকে তুলে নিয়ে সেবাশুশ্রূষা করা হয় বা পশু হাসপাতালে নিয়ে যায়। পুরোপুরি সুস্থ হয়ে গেলে আবার তাকে রাস্তায় ছেড়ে দেওয়া হয়। ইস্তানবুলের সিহাইগির জেলায় রাস্তার ধারে বিড়ালের জন্য এরকম অনেক আশ্রয়কেন্দ্র দেখা যায়। এখান থেকে অনেকে পোষার জন্য বিড়াল নিয়ে যান। 
বিড়ালের সঙ্গে খেলাধুলো করতেও পছন্দ করেন শহরবাসী। তাঁরা মনে করেন, এই মার্জার-সংস্কৃতির সাক্ষী থাকার জন্য ইস্তানবুলে পর্যটক আসার সংখ্যাও অনেক বেড়েছে।
ইস্তানবুলের বাসিন্দারা রাস্তার বিড়ালদের জন্য খাবার বিতরণ করে। একটা গল্প খুবই প্রচলিত আছে সেখানে। একটি বিড়াল প্রার্থনারত এক যাজককে বিষাক্ত সাপের হাত থেকে বাঁচিয়েছিল। তারপর থেকেই নাকি এখানকার মানুষজন বিড়ালদের খুব যত্নসহকারে লালনপালন করা শুরু করেন। এভাবেই তুরস্কের প্রাচীন শহর ইস্তানবুল ‘বিড়ালের শহর’ হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছে।

সম্পর্কিত সংবাদ