নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ: ভয় দেখিয়ে ‘জয়’ করার চেষ্টা!
নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ: ভয় দেখিয়ে ‘জয়’ করার চেষ্টা!
ভোটকর্মীদের সামনেই রায়গঞ্জে মৃত্যু হল এক ভোটারের স্ত্রীর। তারপরেই ভয় দেখানোর অভিযোগ উঠেছে বিএলওর বিরুদ্ধে। মৃতা তফিযান বিবি (৭৭) রায়গঞ্জের মারাইকুরা গ্রাম পঞ্চায়েতের ৬১ নম্বর বুথের ভিটি এলাকার বাসিন্দা। এভাবে তাঁর মৃত্যুতে শুরু হয়েছে চরম রাজনৈতিক চাপানউতোর।
সোমবার শুরু হয়েছে বয়স্ক ও বিশেষভাবে সক্ষমদের বাড়ি গিয়ে ভোট নেওয়ার পর্ব। নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত দিনে এদিন সকালে ভিটি এলাকায় ভোট নিতে যান ভোটকর্মীরা। সেই গ্রামে বাড়িতে ছিলেন অশীতিপর কালু শেখ। অসুস্থ কালু ভালোভাবে চোখে দেখতেও পান না। অভিযোগ, তাঁর ভোট নেওয়াকে কেন্দ্র করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভোটকর্মীদের তুমুল বাগবিতণ্ডা হয়। পরিবারের দাবি ছিল, কালু দেখতে পান না বলে তাঁদের সামনেই ভোট নেওয়া হোক। এনিয়ে ভোটকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ তর্কাতর্কি চলতে থাকে। তাঁরা কালুকে বারবার বলেন, ‘একা ভোট দিন’। মৃতের মেয়ে জাহেদা খাতুনের কথায়, ‘বাবার ভোট নিতে এসেছিলেন ভোটকর্মীরা। কিন্তু তিনি ভোট দিতে পারছিলেন না। বিএলওকে বলি, আমাদের সামনে বাবার ভোট নিন। কিন্তু তিনি কথায় কান দেননি। আমাদের ঘর থেকে বের করে দেন তাঁরা। এরপরই বচসা শুরু হয়। চরম হেনস্তায় মা তফিযান বিবি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।’
ঘটনার কথা শুনেই ওই এলাকায় যান রায়গঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী কৃষ্ণ কল্যাণী। ভোটকর্মীদের সামনেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে তিনি আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, এসআইআরের নামে মানুষের প্রাণ নিয়ে চলেছে বিজেপি। এবার উদ্দেশ্য, ছলে, বলে, কৌশলে ভোট নেওয়া। সাধারণ মানুষকে মেরে বিজেপি গণতন্ত্রের হত্যা করছে।’
অভিযোগ প্রসঙ্গে বিএলও অলোক সুর রায়ের বক্তব্য, ‘নির্বাচন কমিশনের গাইডলাইন অনুযায়ী কাজ হচ্ছিল। এদিন সকালে কালু শেখের বাড়িতে ভোট নেওয়ার বিষয়টি জানিয়েছিলাম। সেই মতো ভোটকর্মী সহ তিনজন ওই বাড়িতে যাই। সঙ্গে পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী ছিল। কিন্তু পরিবারটির বক্তব্য ছিল, আগে কেন জানানো হয়নি। এনিয়ে কথা কাটাকাটি হয়।’
এবিষয়ে বিজেপির জেলা সভাপতি নিমাই কবিরাজের মন্তব্য, ‘এই মৃত্যুর দায় তৃণমূল সরকার ও তার পুলিশের। প্রকৃত ঘটনা হল, বাড়ি বাড়ি ভোট নিতে গিয়ে বিশাল সংখ্যায় পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছে। তা দেখেই কালু শেখের পরিবারের লোকজন ঘাবড়ে যায়।’ বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন উত্তর দিনাজপুর জেলাশাসক বিবেক কুমার। তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’