নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ডাকঘরের সঞ্চয় প্রকল্পগুলিতে সুদ বেড়েছে ঠিকই। তবে সেসব প্রকল্প বিক্রি করে এজেন্টরা যে কমিশন পান, ইতিমধ্যেই তা তলানিতে এসে ঠেকেছে। পিপিএফ, সুকন্যা সমৃদ্ধি-সহ কয়েকটি প্রকল্পে কোনও কমিশনই নেই। এমনকী গত আর্থিক বছরে শেষ হওয়া মহিলা সম্মান সেভিংস সার্টিফিকেটেও দেওয়া হয়নি কমিশন। তাঁদের কমিশন বৃদ্ধির দাবিতে সরব হলেন ডাকঘর এজেন্টরা। তাঁদের বক্তব্য, কমিশনের পাশাপাশি একসময় দেওয়া হতো নগদ ‘জলপানি’। সেই ক্যাশ রিওয়ার্ড বা নগদ প্রাপ্তির সুযোগও ফেরানো হোক, দাবি তুললেন এএজন্টরা।
ওয়েস্ট বেঙ্গল স্মল সেভিংস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে ভারতসভা হলে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বঞ্চনার প্রতিবাদে এক সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নির্মল দাস বলেন, যেখানে জিনিসপত্রের দাম আকাশছোঁয়া, সেখানে আমাদের রোজগার উল্টো পথে হাঁটছে। একদিকে যেমন বিভিন্ন প্রকল্পে কমিশন নেই, তেমনই যেখানে কমিশন আছে, তা কমানো হয়েছে অনেকটা। কমিশন মেলে মাত্র ০.৫ শতাংশ। আগে কমিশনের উপর ২০ শতাংশ বাড়তি নগদ প্রাপ্তি হতো। ২০১১ সাল থেকে তাও বন্ধ করা হয়েছে। আমাদের দাবি, সব ক’টি স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্পেই কমিশন ফেরানো হোক। নির্মলবাবুর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার কয়েক বছর আগে বলেছিল কমিশন বৃদ্ধি ও রিওয়ার্ডের বিষয়টির রিভিউ করা হবে। কিন্তু কোথায় সেই রিপোর্ট? আদৌ রিভিউ হয়েছে কি না, তারও কোনও প্রমাণ নেই।
অনুষ্ঠানে অনেকেই অভিযোগ করেছেন, গ্রাহক ডাকঘর থেকে মুখ ফেরাচ্ছেন। অথচ কারও হেলদোল নেই। অনেক ক্ষেত্রে ডাকঘর কর্মীদের দুর্ব্যবহার বাড়ছে। তা ক্ষতি করছে সুষ্ঠু পরিষেবায়। সংগঠনের সভাপতি সুব্রত ভড় বলেন, পরিস্থিতি এমন, ডাকবিভাগ এবং স্বল্প সঞ্চয় দপ্তর এজেন্টদের মানুষ হিসেবেই গণ্য করতে চায় না। বারবার হেনস্তার শিকার হতে হয়। নিয়মকে শিখণ্ডী করে এজেন্টদের রসিদ বই চেকিংয়ের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে, যা রীতিমতো হয়রানির। এতে কাজেরও ক্ষতি হয়। রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে বারবার পরিচয়পত্র দেওয়ার আবেদন করেও, কোনও সুরাহা পাইনি আমরা। কিন্তু প্রতিবাদের উপায় নেই। এই সভায় প্রাক্তন স্বল্প সঞ্চয় আধিকারিক হরেকৃষ্ণ গুহ এবং শিক্ষাবিদ এইচ পি সমাদ্দার বলেন, আর্থিক সমৃদ্ধি ও স্বচ্ছতার লক্ষ্যে এজেন্টদের দাবিগুলি সরকারের বিবেচনা করা উচিত।