বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: সোমবার বেলা ২টো। ঠা ঠা রোদে বেলেঘাটার আইডি হাসপাতালের ইমার্জেন্সির সামনে লম্বা লাইন। আর কয়েকজন দাঁড়ালেই লাইন পেরিয়ে যাবে গেট! তাহলে কি ফের শহর বা রাজ্যের কোথাও কলেরা, ডায়ারিয়া বা জলবাহিত অসুখ মাথাচাড়া দিল? উত্তর হল, তেমনটা নয় মোটেই। চরম অস্বস্তিকর গরমে রাজ্যের সংক্রামক রোগের এই রেফারাল হাসপাতালে ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে এই লাইন আসলে কুকুরে কামড়ানোর ভ্যাকসিন (অ্যান্টি র্যাবিস ভ্যাকসিন) নেওয়ার ভিড়। বহু মানুষ বুঝে গিয়েছে, একবার যদি জলাতঙ্ক হয়, রক্ষা নেই। এই রোগে আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুহার ১০০ শতাংশ। শুধু আইডিতেই কুকুর ও বিভিন্ন প্রাণীর কামড় খেয়ে রোজ ভ্যাকসিন নিচ্ছেন কমবেশি ১০০ জন!
জলাতঙ্ক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, কুকুর ছাড়াও বিড়াল, বাঘ, চিতা, বাদুড়, ভোঁদড় সহ যে কোনো স্তন্যপায়ী প্রাণীর কামড়েই হতে পারে জলাতঙ্ক। তালিকায় আছে শিয়ালও। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, রাজ্যে শিয়ালের আক্রমণের ঘটনা বাড়ছে উল্লেখযোগ্য হারে। আইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, মূলত দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে ২০২৫ সালে শিয়ালের কামড়ের ক্ষত নিয়ে ছ’জন এসেছিলেন। এ বছর মার্চের মধ্যেই শিয়ালের কামড়ে আহত হয়ে হাসপাতালে এসেছেন ছ’জন। মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, পুরুলিয়া ও দক্ষিণ দিনাজপুর— এই জেলাগুলি থেকেই শিয়ালের কামড়ের কেস বেশি আসছে।
কিন্তু কেন? জলাতঙ্কের বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ সুমিত পোদ্দার বলেন, শিয়ালের কামড়ের ঘটনা বাড়ছে। বোঝাই যাচ্ছে লাগামছাড়া নগরায়নের ফলে ওদের ঘোরাঘুরির এলাকায় মানুষ ঢুকে পড়ছে। ওরাও তাই বাধ্য হয়ে চলে আসছে শহরে। কালবিলম্ব না করে ফক্স বাইটে জলাতঙ্কের টিকা নিতে হবে। কুকুর, বিড়াল, শিয়াল সহ স্তন্যপায়ী প্রাণীদের কামড়ে তিন ধরনের বাইট হয়। কামড়ালো না, শুঁকে চলে গেল, ক্যাটাগরি এ। কামড়ালো কিন্তু রক্ত বের হল না, ক্যাটাগরি বি। কামড়াল এবং রক্ত বের হল, ক্যাটাগরি সি। তিন ক্ষেত্রেই প্রথম কাজ ক্ষত বা সম্ভাব্য স্পর্শের জায়গা ১৫ মিনিট ধরে সাবান দিয়ে পরিষ্কার করা। তারপর সরকারি হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে ০, ৩, ৭ এবং ১৪ দিনের মাথায় ভ্যাকসিন নেওয়া। শেষোক্ত কেসে ভ্যাকসিনের পাশাপাশি নিতেই হবে ইমিউনোগ্লোবিউলিন। আইডি’র এক কর্তা বলেন, আজও র্যাবিস নিয়ে সচেতনতার অভাব রয়েছে। গত ক’বছরে যে ক’জন এই ভয়ংকর রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন, তাঁরা হয় টিকা নেননি, নয়তো ভ্যাকসিনের কোর্সই সম্পূর্ণ করেননি।