নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আর্থিক তছরূপ সংক্রান্ত এক মামলার নিষ্পত্তি হতেই গড়িয়ে গেল দীর্ঘ ৩১টি বছর। মামলার বিচার চলাকালীনই মারা গিয়েছেন দুই অভিযুক্ত। বাকি একজন অভিযুক্তকে নিয়েই চলছিল বিচার প্রক্রিয়া। সম্প্রতি ওই মামলায় প্রমাণের অভাবে বেকসুর খালাস পেলেন জামিনে থাকা সেই অভিযুক্ত। ব্যাঙ্কশালের বিশেষ আদালতের বিচারক লীনা গোলদার ওই বৃদ্ধকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। মামলার রায় দিতে গিয়ে বিচারক চরম উষ্মা প্রকাশ করেন। ভরা এজলাসে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘একটি মামলার নিষ্পত্তি হতে এতটা সময় গড়িয়ে গেল, এটা দুর্ভাগ্যের। এমনটা কোনো মতেই ঠিক নয়। কোনো মামলা অনন্তকাল ধরে চলবে, এটা তো হতে পারে না। সব থেকে আশ্চর্যের বিষয়, দীর্ঘদিন গড়িয়ে যাওয়ায় এই মামলার বেশ কয়েকজন সাক্ষীর মৃত্যু হয়েছে।’ ব্যাঙ্কশাল কোর্টের পূর্বতন সরকারি কৌঁসুলি প্রবীর মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘মামলার অন্যতম হাতিয়ার হলেন সাক্ষী। সাক্ষীদের মধ্যে যদি কয়েকজন মারা যান, অভিযুক্তও যদি মারা যান, সেই মামলায় আর কী থাকতে পারে? তাই যা হওয়ার, তাই হয়েছে।’ আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯৯৪ সালে কলকাতার এক সংস্থার তরফে আর্থিক তছরূপের মামলাটি দায়ের করা হয় পার্ক স্ট্রিট থানায়। সংস্থার অভিযোগ ছিল, জমি কেনাবেচা সংক্রান্ত একটি আইনি বিষয়কে অন্ধকারে রেখে অভিযুক্তরা বেশ কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, এক অভিযুক্ত নিজেকে আদালতের রিসিভার বলে পরিচয় দিয়েছিলেন অভিযোগকারী সংস্থার কাছে। তিনজনের মধ্যে একজন ছিলেন ব্যাংককর্মী। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতারণা, দুর্নীতি নিরোধক আইনে মামলা দায়ের করে পুলিশ। তদন্ত শেষ করে তারা আদালতে চার্জশিট পেশ করে। পরে তিন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে শুরু হয় মূল মামলার বিচার। কিন্তু নানা আইনি জটে মামলার শুনানি বারবার থমকে যায়। ফলে মামলা বিলম্বিত হতে থাকে। এদিকে, এজলাসে মামলা চলাকালীন একাধিক বিচারক বদলি, কোনো সময় বিচারকশূন্য অবস্থায় পড়ে থাকা, অভিযুক্তের মৃত্যুসহ নানা কারণে মামলা শেষ হতে গড়ায় দীর্ঘ সময়। শুনানি বারবার ব্যাহত হয়। শেষে এই মামলা নিষ্পত্তি করতে উদ্যোগী হয় আদালত। সম্প্রতি বিচারক একমাত্র বেঁচে থাকা অভিযুক্তকে বেকসুর খালাস ঘোষণা করে মামলার নিষ্পত্তি করেন।



