Bartaman Logo
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বেআইনি পার্কিংয়ে কেস! গাড়ি চালিয়ে খুনের চেষ্টা সার্জেন্টকে

বেআইনি পার্কিংয়ে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ির বিরুদ্ধে কেস করায় এক সার্জেন্টকে পিষে মারার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে মালিক তথা চালকের বিরুদ্ধে। গত ১১ সেপ্টেম্বর ঘটনাটি ঘটেছে প্রিন্স আনোয়ার শা রোডে।

বেআইনি পার্কিংয়ে কেস! গাড়ি চালিয়ে খুনের চেষ্টা সার্জেন্টকে
  • ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বেআইনি পার্কিংয়ে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ির বিরুদ্ধে কেস করায় এক সার্জেন্টকে পিষে মারার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে মালিক তথা চালকের বিরুদ্ধে। গত ১১ সেপ্টেম্বর ঘটনাটি ঘটেছে প্রিন্স আনোয়ার শা রোডে। ওই ঘটনায় যাদবপুর ট্রাফিক গার্ডের সার্জেন্ট সিকান্দার কুমার সিংয়ের পেলভিক বোন ভেঙেছে। এতবড় ঘটনার পরেও চারু মার্কেট থানা খুনের চেষ্টার কেস রুজু করেনি। উল্টে অনিচ্ছাকৃত খুনের চেষ্টার মামলা করে দায়সারাভাবে তদন্ত চালিয়েছে বলে অভিযোগ। এই সুযোগে জামিন পেয়ে যান গাড়ির চালক অভিযুক্ত শান্তনু ঘোষ। চারু মার্কেট থানার এই উদাসীনতায় রীতিমতো ক্ষুব্ধ তাঁর পরিবার। পুলিশ কর্মীর ক্ষেত্রে চারু মার্কেট থানার যদি এই ভূমিকা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে কী হবে, এটা ভেবেই আতঙ্কিত সকলে। বিষয়টি জানিয়ে লালবাজারের শীর্ষ কর্তাদের দ্বারস্থ হচ্ছে সার্জেন্টের পরিবার।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে খবর, ওই দিন সন্ধ্যায় প্রিন্স আনোয়ার শা রোডে ডিউটি করছিলেন যাদবপুর ট্রাফিক গার্ডের সার্জেন্ট সিকান্দার কুমার সিং। প্রিন্স আনোয়ার শা রোড থেকে লেক গার্ডেন্স ফ্লাইওভার যাওয়ার জন্য যে সিগন্যাল রয়েছে, সেখানে একটি গাড়ি বেআইনিভাবে পার্কিং করে রেখেছিল। এটি সার্জেন্টের নজরে এলে গাড়িটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য গাড়ির হর্ন বাজান। চিৎকার করে জানতে চান গাড়িটি কার?  তখন কেউ এগিয়ে আসেনি। তিনি বাইকে বসে গাড়ির ছবি তুলে কেস করার জন্য প্রয়োজনীয় কাজকর্ম করছিলেন। সার্জেন্টের বাবা মহেন্দ্র সিং জানিয়েছেন, এই সময় আচমকাই এসে শান্তনু ঘোষ নামে ওই চালক গাড়ি স্টার্ট করে তাঁর ছেলের বাইকে ধাক্কা মারেন। ওই সার্জেন্ট পড়ে যান। তাঁকে টানতে টানতে প্রায় ৪০ মিটার নিয়ে যায় গাড়িটি। তাঁর পায়ের উপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে পালিয়ে যান ওই চালক। সার্জেন্টকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা ছুটে আসেন। এলাকার লোকজনই বেপরোয়া ওই গাড়িটিকে আটকান। খবর পেয়ে আসে চারু মার্কেট থানা। সার্জেন্টকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা জানান, পেলভিক বোন ভেঙে গিয়েছে ওই অফিসারের। শরীরের অন্য হাড় ভেঙেছে। অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচেন তিনি।
চারু মার্কেট থানার তদন্তকারী অফিসার গোটা ঘটনা শোনেন সার্জেন্টের কাছে।  খুনের চেষ্টার ধারায় কেস রুজু হবে বলে জানানো হয়। অথচ অনিচ্ছাকৃত খুনের চেষ্টার ধারায় কেস রুজু করা হয় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে। আটক ব্যক্তি জানান, তিনি গাড়ির মালিক। পেশায় ইঞ্জিনিয়ার ওই ব্যক্তির কয়েকদিন পরেই  জামিন হয়ে যায়।  চারু মার্কেট থানার তদন্তকারী অফিসার জামিনের বিরোধিতা করার ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা নেননি বলে অভিযোগ। তদন্তও গা ছাড়া ভাবে করেন। সার্জেন্টের বাবা জানিয়েছেন, এফআইআরের কপি চাইলে থানার তরফে বলা হয়, অভিযোগকারী সার্জেন্টকে এসেই নিয়ে যেতে হবে।  অথচ বিএনএসএসে স্পষ্ট বলা হচ্ছে অভিযোগকারী এফআইআরের কপি আনতে না পারলে, তাঁর পাঠানো প্রতিনিধিকে সেটি দেওয়া যায়। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টের পুরো সই ও আধার কার্ডের ফটো কপি জমা নিতে হবে। সার্জেন্টের পরিবার তদন্তকারী অফিসারের কাছে খুনের চেষ্টার ধারা না যুক্ত করার কারণ জানতে চাইলে, থানার তরফে বলা হয়, থানার ছোটবাবুর সঙ্গে কথা বলতে হবে। থানার ভূমিকায় ক্ষুব্ধ সার্জেন্টের পরিবার বিষয়টি জানিয়ে লালবাজারের শীর্ষ কর্তাদের কাছে চিঠি দিচ্ছেন। খুনের চেষ্টার ধারা যে দেওয়া হয়নি, চিঠিতে উল্লেখ করা হবে তাও। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ