নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আজ, শুক্রবার দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন। শনিবার গণনা। ভোটের ফলাফলও প্রকাশিত হবে সেদিনই। তার আগে জল মাপছে যুযুধান তিন পক্ষই—এবিভিপি, এনএসইউআই এবং আইসা-এসএফআই জোট। কিন্তু এরই মধ্যে নির্বাচনি প্রচারে কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনা ভোট আবহের উত্তাপ শতগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাধীন মতিলাল নেহরু কলেজের এক অধ্যাপককে মারধরের ঘটনার রেশ কাটার আগেই ছাত্র সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি ‘কভার’ করতে যাওয়া একজন মহিলা সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এবিভিপির বিরুদ্ধে।
ওই মহিলা সাংবাদিকের পরনে থাকা স্কার্ফে লাল রঙের বর্ডার ছিল। তা দেখে বিদ্যার্থী পরিষদের কর্মী-সমর্থকরা ওই মহিলা সাংবাদিককে বামেদের দালাল বলে গালিগালাজ করতে থাকে বলে অভিযোগ। তাঁকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করার অভিযোগও উঠেছে। সার্বিকভাবে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের নিয়মকানুন ভঙ্গের অভিযোগে ইতিমধ্যে মামলা দায়ের হয়েছে দিল্লি হাইকোর্টে। বৃহস্পতিবার তার শুনানিও হয়েছে। সেখানে দিল্লি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়া কেন্দ্রীয় সরকার, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং দিল্লি পুলিশের কড়া সমালোচনা করে বলেছেন, ‘নিয়ম লঙ্ঘন আটকানোর ব্যাপারে ব্যর্থতা নিয়ে কোনো অজুহাত শুনব না। আপনারা যদি না পারেন, আমাদের বলুন। আইন কীভাবে রক্ষা করতে হয়, আমরা জানি।’ এই ঘটনায় দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের গণনা বন্ধ করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে আদালত।
দিল্লি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার ডিভিশন বেঞ্চ বৃহস্পতিবার স্পষ্ট জানিয়েছে, ‘নির্বাচন বন্ধ করার মতো নির্দেশ আদালত দিচ্ছে না। কিন্তু শনিবারের মধ্যে দায়িত্বপ্রাপ্তদের জানাতে হবে, তারা কী পদক্ষেপ করেছেন। সেই জবাবে সন্তুষ্ট না হলে গণনা বন্ধ কিংবা ফলাফল প্রকাশের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হতে পারে।’ আজ, শুক্রবার বেলা ১২টায় ফের এই মামলার শুনানি রয়েছে। উল্লেখ্য, এসংক্রান্ত বিষয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন আইনজীবী প্রশান্ত মানচান্দা। আজ, শুক্রবারের শুনানিতে ছাত্র সংগঠনের আইনজীবীদেরও হাজির থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।