সংবাদদাতা, বর্ধমান: বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের স্ক্র্যাপ বিক্রি সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কয়েক কোটি টাকার অনিয়ম নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের হয়েছে। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ইউনিভার্সিটি ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি(ইউআইটি)–র প্রাক্তন অধ্যক্ষ অভিজিৎ মিত্র মামলাটি দায়ের করেছেন। মামলাটি গ্রহণ করেছে হাইকোর্ট। আবেদনে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় নানা ধরনের অনিয়ম ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রমোশন দেওয়া ও নিয়োগের ক্ষেত্রে বেনিয়মের উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় এজি বেঙ্গলের রিপোর্টে তুলে ধরা আর্থিক অনিয়মের বিষয়টিও আনা হয়েছে।
ইউআইটির প্রাক্তন অধ্যক্ষ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় নানা অনিয়ম হয়েছে। নিয়ম না মেনে অকশন করে হেরিটেজ সামগ্রী বিক্রি করা হয়েছে। সর্বোচ্চ দর দেওয়া সংস্থাকে না দিয়ে অনেক কম দর দেওয়া সংস্থাকে হেরিটেজ সামগ্রী বিক্রি করা হয়েছে। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা ধরনের অনিয়ম হয়েছে। এজি বেঙ্গলের রিপোর্টেও তার উল্লেখ রয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনের নানা মহলে জানানো হয়। উচ্চ শিক্ষা দপ্তরেও বহুবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। তারপরেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করা হয়েছে। মামলাটি হাইকোর্ট গ্রহণ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়ম নিয়ে সিবিআই তদন্ত দাবি করছি।
এনিয়ে জানতে ফিনান্স অফিসারকে বেশ কয়েকবার ফোন করা হয়। হোয়াটস অ্যাপে মেসেজও করা হয়। কিন্তু, তিনি ফোন ধরেননি। মেসেজেরও উত্তর দেননি।
এই মামলায় উপাচার্য, রেজিস্ট্রার, ফিনান্স অফিসারকে পক্ষভুক্ত করা হয়েছে। উচ্চ শিক্ষা দপ্তরের নির্দেশে রেজিস্ট্রার পদে সুজিত চৌধুরীর মেয়াদ দু’বছর বাড়ানো হয়েছে। যদিও তিনি কাজে যোগ দিতে পারেননি। মামলা প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, এব্যাপারে আমার কোনও বক্তব্য নেই। ঘটনা আমার সময়ে হয়নি। রাজ্য সরকার রেজিস্ট্রার পদে আমার কার্যকালের মেয়াদ দু’বছর বাড়িয়েছে। কিন্তু, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাকে কাজে যোগ দিতে দিচ্ছে না। এনিয়েও হাইকোর্টে মামলা চলছে। নিয়ম ভাঙা, অনিয়ম করা বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয়ের দস্তুর হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আবেদনে জানানো হয়েছে, বর্ধমান রাজবাড়ি ক্যাম্পাস হেরিটেজ। এখানকার স্ক্র্যাপ বিক্রি করতে হলে সরকারি নিয়ম মেনে ই–অকশন করতে হয়। অকশনে সর্বোচ্চ দর পাওয়া সংস্থাকে বিক্রি করা হয়। কিন্তু, স্ক্র্যাপ বেচার ক্ষেত্রে নিয়ম মানা হয়নি। গত বছরের ৬ মার্চ নোটিশ দিয়ে ইন্টারন্যাল কমিটি তৈরি করে পরের দিন স্পট অকশন করা হয়। তাতে একটি সংস্থা সর্বোচ্চ ৫২ লক্ষ টাকা দর দেয়। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দরপত্র হয় ৪৮ লক্ষ টাকা। তৃতীয় সংস্থা ৩৬ লক্ষ টাকা দর দেয়। কম দর দেওয়া সত্ত্বেও সেই সংস্থাকেই অকশনে জিনিসপত্র বেচা হয়। কীভাবে সর্বনিম্ন দর দেওয়া সংস্থাকে স্ক্র্যাপ দেওয়া হল তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে আবেদনে। এছাড়াও ২০২৩ সালে এজি বেঙ্গলের অডিটে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রায় ১০–১২ কোটি টাকার অনিয়মের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। সেগুলি সংশোধনের জন্য বলা হয়। কিন্তু, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তা নিয়ে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। এগজিকিউটিভ কমিটির মিটিং নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এছাড়াও পদোন্নতির ক্ষেত্রেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনিয়ম করেছে বলে মামলার আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পদোন্নতির জন্য বেশ কিছু পদ তৈরি করা হয়েছে, যা আগে ছিল না। অবসরপ্রাপ্ত এক কর্মীকে দু’জায়গায় নিয়োগ করা হয়েছে। দু’জায়গা থেকেই তিনি বেতন পাচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কার্যত দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ।