সংবাদদাতা, তেহট্ট: তেহট্টের নিশ্চিন্তপুরে বালককে অপহরণ করে খুনের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। শনিবার রাতে প্রতিবেশী সাতজনের বিরুদ্ধে তেহট্ট থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের করেন মৃত স্বর্ণাভ বিশ্বাসের বাবা সত্যেন বিশ্বাস। ধৃতদের নাম ছোট্টু মণ্ডল, সুপ্রিয়া ভৌমিক, কার্তিক মণ্ডল ও সুচিত্রা মণ্ডল। ছোট্টু ও সুপ্রিয়া গণপ্রহারে মৃত দম্পত্তির ছেলে ও বউমা। কার্তিক ও সুচিত্রা উত্তেজিত জনতার গণপ্রহারে মৃত উৎপলের মামা ও মামি। তারাও মৃতের প্রতিবেশী। রবিবার তাদের তেহট্ট আদালতে তোলা হলে বিচারক ১০দিন পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। বালককে খুনে অভিযুক্ত সন্দেহে বিক্ষুব্ধ জনতার মারধরে দম্পতির মৃত্যুর ঘটনায় প্রায় ২০০জন গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করেছে পুলিশ। সৌম্যজিৎ বিশ্বাস ওরফে বুবাই নামে এক যুবককে করিমপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।
বালকের দেহ উদ্ধারের পর বিক্ষুব্ধ জনতার গণপ্রহারে দম্পতি উৎপল মণ্ডল ও সোমার মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের বড় ছেলের স্ত্রী নিশা কৃষ্ণনগর শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। বাকি দু’জন সহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার ময়নাতদন্তের পর স্বর্ণাভর দেহ গ্রামে ফিরতেই প্রচুর মানুষ ভিড় জমান। মৃত দম্পতির মৃতদেহ ময়নাতদন্তের পর তাঁর ছোট ছেলে ছোট্টুর হাতে তুলে দেয় পুলিশ। মৃতদেহ নবদ্বীপ মহাশ্মশানে দাহ করে ফেরার পর পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।
এদিন গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, চারদিকে থমথমে পরিবেশ। স্বর্ণাভর বাড়িতে রয়েছেন কয়েকজন প্রতিবেশী। মাঝেমধ্যে বাড়ি থেকে ভেসে আসছে কান্নার রোল। বাড়ির আশপাশে স্থানীয় বাসিন্দাদের জটলা দেখা যায়। গ্রামের বাসিন্দাদের একাংশ উৎপলের পরিবারের উপর দোষ চাপাচ্ছেন। ওই বুথের প্রাক্তন সদস্য সনৎ দাস বলেন, সবাই ওকে ভালোবাসতাম। শুক্রবার সকালে আমার সঙ্গে স্বর্ণাভর দেখা হয়েছিল। এবারও পুজোয় বিরিয়ানি খাওয়াতে হবে বলে আবদার করেছিল। পলাশীপাড়ায় ঠাকুর দেখতে গিয়ে খাওয়াব বলে ওকে বলেছিলাম। তারমধ্যেই সব শেষ হয়ে গেল। ওকে এলাকার সবাই খুব ভালোবাসত। হাসিখুশি নিষ্পাপ ছেলেটার যে এই অবস্থা হবে তা কেউ দুঃস্বপ্নে ভাবতে পারিনি। মৃত বালকের বাবা সত্যেন বলেন, ছেলেকে নিয়ে শনিবার তেহট্টে পুজোর বাজার করতে যাওয়ার কথা ছিল। শপিং মলে যাবে বলে আনন্দ করছিল। কিন্তু তার আগেই সব শেষ হয়ে গেল। এই ঘটনার জন্য উৎপলের পরিবারকে দায়ী করে তিনি বলেন, ছোট থেকেই উৎপলের সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব ছিল। যখন ছেলের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না তখন ওদের প্রতি সন্দেহ হয়নি। কিন্তু রাতে বাড়ির পিছনে বাঁশবাগান ও ডোবায় খোঁজাখুঁজির সময় উৎপল বা কার্তিকের পরিবারের কেউ আসেনি। ওরাই যে খুনের সঙ্গে জড়িত তা নিশ্চিত হই।
স্বর্ণাভকে খুনের ঘটনায় বেশকিছু প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ। শুক্রবার দুপুর ২টো নাগাদ শৌচালয়ে যায় সে। তারপর আর তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। বাড়ির ভিতর থেকে নাকি বাইরে থেকে কেউ তুলে নিয়ে গিয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিসের প্রাথমিক অনুমান, তাকে শ্বাসরোধ করে খুন করে ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোথায়, কখন তাকে খুন করা হয়েছে তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, কী কারণে ওই বালককে খুন করা হয়েছে তা জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। নিজস্ব চিত্র