Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

লালবাতি লাগানো গাড়ি, বিভাসকে ঘিরে সশস্ত্র ‘বাহিনী’, বেলেঘাটায় পুলিসের নাকের ডগাতেই ‘আন্তর্জাতিক থানা’

বীরভূমের কীর্তিমান বিভাস অধিকারী ভুয়ো আন্তর্জাতিক থানার শাখা অফিস খুলেছিলেন কলকাতাতেও।

লালবাতি লাগানো গাড়ি, বিভাসকে ঘিরে সশস্ত্র ‘বাহিনী’, বেলেঘাটায় পুলিসের নাকের ডগাতেই ‘আন্তর্জাতিক থানা’
  • ১২ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বীরভূমের কীর্তিমান বিভাস অধিকারী ভুয়ো আন্তর্জাতিক থানার শাখা অফিস খুলেছিলেন কলকাতাতেও। ‘ইন্টারন্যাশানাল পুলিস অ্যান্ড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো’ নামে ওই জাল থানা চলছিল বেলেঘাটা থানা থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে। দেখেশুনেই ওই বাড়ি ভাড়া নিয়েছিলেন জালিয়াত বিভাস। লাল-নীল বাতি লাগানো গাড়ি থেকে শুরু করে কোমরে আগ্নেয়াস্ত্রধারী নিরাপত্তারক্ষী সবই ছিল। এলাকার লোকজনের কাছে বাড়িটি পরিচিত ছিল ইন্টারন্যাশনাল থানা হিসেবে। বিভাস গ্রেপ্তারের সঙ্গে সঙ্গেই  ওই নকল থানার বিষয়টি সামনে এসেছে। যদিও পুলিস জানিয়েছে ৩০ জুলাই বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই যে এনজিও এই সাইন বোর্ড লাগিয়েছিল, তাদের ডেকে পাঠিয়ে সেটি খুলে ফেলতে বলে। সেইমতো সরে গিয়েছিল বোর্ড।

Advertisement

প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় নাম জড়িয়েছিল বীরভূমের বিভাস অধিকারীর। সেই সময় তাঁর আমহার্স্ট স্ট্রিট এলাকার একটি ফ্ল্যাটে তল্লাশি অভিযানও চালিয়েছিল কেন্দ্রীয় এজেন্সি। বীরভূমের নলহাটির কৃষ্ণপুরের অত্যন্ত প্রভাবশালী এই ব্যক্তি বিভিন্ন জায়গায় গল্প শোনাতেন ইন্টারপোলের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের। এমনকী আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের হয়ে তিনি মামলা লড়েন। এহেন বিভাস নয়ডায় গ্রেপ্তার হন জাল থানা খুলে। তাঁকে জেরা করে জানা যায়, কলকাতা সহ বাংলার বিভিন্ন জায়গায় তিনি আন্তর্জাতিক থানার শাখা খুলেছিলেন। সেখানে পুলিস সেজে বিভিন্ন লোকজন বসত। বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের নাম করে টাকা নেওয়া হতো। এমনকী বিভিন্ন ব্যক্তিকে ফোন করে ভয়ও দেখাতেন। এমনকী ভুয়ো নোটিস ছাপিয়েও পাঠাতেন। কেস মিটমাট করে দেওয়ার নাম করে টাকা তুলতেন বলে অভিযোগ। জাল নথি দেখিয়ে দাবি করতেন, এই থানা খোলার অনুমতি আন্তর্জাতিক আদালত থেকে তিনি পেয়েছেন। 
বেলেঘাটা থানা এলাকায় আন্তর্জাতিক থানার শাখা অফিস খোলা হয়েছে বিষয়টি সামনে আসতেই রীতিমতো হইচই পড়ে যায়। কলকাতা পুলিস সূত্রে খবর বেলেঘাটা থানা থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে একটি  ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে বোর্ড লাগানো হয়েছিল ‘ইন্টারন্যাশানাল পুলিস অ্যান্ড ক্রাইম ইমভেস্টিগেশন ব্যুরো’র। এই হোর্ডিংটি লাগিয়েছিল একটি এনজিও।  লালবাজারের দাবি, ৩০ জুলাই বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই তারা ওই এনজিওকে ডেকে পাঠিয়ে হোডিং খুলে ফেলার নির্দেশ দেয়। তারপরই সেটি নামিয়ে নেওয়া হয়। পুলিস তদন্তে নেমে জেনেছে, প্রথমে মানিকতলা এলাকায় জাল থানা খুলেছিলেন বিভাস অধিকারী। মাস খানেক আগে সেখান থেকে এই নকল থানা স্থানান্তর হয়ে আসে বেলেঘাটার সিআইটি স্কিম এলাকায়।  ওই বাড়ির মালিক অরুণ ঘোষ জানিয়েছেন, মাস খানেক আগে বাড়িটি ভাড়া নেন বিভাগ। তাঁকে বলা হয়েছিল, পুলিসের বিভিন্ন কাজ হবে এই বাড়ি থেকে। বাড়ি ভাড়ার জন্য ১১ মাসের চুক্তি হয়েছিল তাঁর সঙ্গে। তবে  স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিসকে জানিয়েছেন, ভুয়ো থানা তৈরি হওয়ার পর দিন-রাতে লাল-নীল বাতি লাগানো গাড়ি নিত্য আসা যাওয়া করত। একাধিক লোক আসতেন এই ‘থানায়’। ভুয়ো থানার বাইরে আর্মস নিয়ে ঘুরে বেড়াত লোকজন। বাউন্সাররা ঘিরে থাকত গোটা বাড়ি।  সারারাত এখানে কাজ চলত। লোকজনকে বলা হতো, আন্তর্জাতিক থানার শাখা খোলা হয়েছে এখানে। বিদেশ থেকে অন লাইনে তাদের কাছে কেস আসছে। সেইমতো তারা তদন্ত করছে। অনেক লোককে তারা গ্রেপ্তারও করেছে। তদন্ত রিপোর্ট তারা ইন্টারপোলে পাঠিয়ে দিচ্ছে।     

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ