সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: বাজারের সামনের রাস্তা যেন সাইকেল স্ট্যান্ড! বাজার করতে আসা মানুষজন যত্রতত্র রাস্তার উপর মোটর বাইক ও সাইকেল রেখে চলে যায়। এমনকী, দীর্ঘ সময় ধরে রাস্তার পাশে টোটো ও রিকশ দাঁড়িয়ে থাকছে। প্রতিদিন বাজারের সময় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ওলাদেবীতলার রাস্তার সামনে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে তীব্র যানজট লেগেই থাকে। ফলে, সমস্যায় পড়তে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দা, স্কুল-কলেজ পড়ুয়া থেকে বিষ্ণুপ্রিয়া স্টেশনগামী যাত্রীদের। স্থানীয় বাসিন্দাদের
দাবি, যানজট মোকাবিলায় পুরসভা হস্তক্ষেপ করুক।
ওলাদেবীতলা বাজার সংলগ্ন এই রাস্তাটি মূলত বিষ্ণুপ্রিয়া হল্ট স্টেশনে যাওয়ার মূল যোগাযোগ মাধ্যম। এই রাস্তা দিয়েই ছাত্রছাত্রীরা কলেজে যান। এমনকী, এই রাস্তা দিয়ে নবদ্বীপের ১ ও ১৪নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা যাতায়াত করেন। শহরের মূলকেন্দ্র পোড়ামা মন্দির সহ বিভিন্ন মঠ-মন্দির কিংবা মায়াপুর দর্শনের জন্য ফেরিঘাটে পৌঁছতে হয় এই রাস্তা ধরেই। কিন্তু বাজার চলাকালীন এই রাস্তায় প্রতিদিন চূড়ান্ত যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। তাতে বহিরাগত তীর্থযাত্রীদের কাছে ভালো ছবি ধরা পড়ছে না বলেই স্থানীয়দের ক্ষোভ। স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে যানজট মুক্ত হোক। বাজার চলাকালীন সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত যানজট লেগেই থাকে। স্থানীয় বাসিন্দা বছর পঁচাত্তরের বৃদ্ধ বসন্ত নন্দী বলেন, প্রতিদিনই যানজট সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে।
দোকানের সামনে বাইক, স্কুটি রেখে বাজারে চলে যাচ্ছে। সরিয়ে রাখতে বললে অনেকে বলে, ‘আমি কি আপনার জায়গায় গাড়ি রেখেছি?’ বাজার করতে যাওয়ার সময় যানজটের কারণে রাস্তায় অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। রাস্তা ফাঁকা হলে তবেই যাতায়াত করতে পারি। মাঝেমধ্যেই তো দুর্ঘটনা ঘটছে। সকলেরই তো বিবেচনা থাকা উচিত। এখন তো বাইক-স্কুটি সস্তা হয়ে গিয়েছে। তাই যেখানে সেখানে রাস্তার উপর রেখে দিয়ে চলে যাচ্ছে।
ওলাদেবীতলা মুক্তকেশী মাতা বাজার কমিটির সম্পাদক তথা স্থানীয় কাউন্সিলার বৃন্দাবন মণ্ডল বলেন, একসময় রাস্তার উপর কিছু দোকানপাট বসত। সেগুলি এখন বাজারের ভিতরে বসে। তবে বাইক, সাইকেল রেখে একশ্রেণির মানুষ বাজারে আসে। সেকারণে যানজট হচ্ছে। আমরা তাদের কাছে আবেদন করব, বাজারের ভিতরে জায়গা আছে। সেখানেই গাড়িগুলি রাখুক। তবেই যানজট থেকে মুক্তি মিলবে।