নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: দুর্গাপুজোর কার্নিভাল ঘিরে সাজো সাজো রব রাজ্যের সর্বত্র। উত্তর ২৪ পরগনাতেও কার্নিভাল নিয়ে সারা পড়ে যায় শনিবার। জেলা সদর বারাসতেও কার্নিভাল ঘিরে ছিল প্রবল উৎসাহ। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বারাসত মহকুমার ১৩টি সেরা প্রতিমা নিয়ে আয়োজন হয়েছিল এই ভ্রাম্যমাণ আনন্দ উৎসবের। চাঁপাডালি মোড়ে হয়েছিল মূল মঞ্চ। অন্যদিকে বনগাঁতেও অনুষ্ঠিত হয় পুজো কার্নিভাল। বনগাঁর ১০টি পুজো অংশ নিয়েছিল। এছাড়া বারাকপুর চিড়িয়ামোড়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণময় কার্নিভাল। ১১টি পুজো কমিটি অংশগ্রহণ করেছিল।
বারাসতে জেলা প্রশাসন ও বারাসত পুলিস জেলার ব্যবস্থাপনায় শনিবার বিকেলে সেরা প্রতিমা নিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী রথীন ঘোষ, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, জেলা পরিষদের সভাধিপতি নারায়ণ গোস্বামী, জেলাশাসক শরদকুমার দ্বিবেদী, পুলিস সুপার প্রতীক্ষা ঝাড়খাড়িয়া প্রমুখ। টাকি রোডের কাছে শতদল ক্লাবের মাঠ থেকে কার্নিভাল শুরু হয়। মূল মঞ্চ হয়েছিল চাঁপাডালি মোড়ে। সেখানে প্রতিমা প্রদর্শনের পাশাপাশি পুজো কমিটিগুলি সাংস্কৃতিক ও সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান করে। অনুষ্ঠান দেখতে যশোর রোড ও টাকি রোডের দু’ধারে দেখা গিয়েছে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। অনেকে বাড়ি বা ফ্ল্যাটের ছাদে বসে শোভাযাত্রা দেখেন।
বনগাঁয় চাকদহ সড়কে পথের সাথী মোড় থেকে পুজো কার্নিভালের সূচনা হয়। ক্লাবগুলি তাদের সুসজ্জিত প্রতিমা নিয়ে শোভাযাত্রা করে। বনগাঁ ত্রিকোণ পার্ক এলাকায় নানা ধরনের অনুষ্ঠানও করে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বনগাঁর মহকুমা শাসক ঊর্মি দে বিশ্বাস, বনগাঁ পুলিশ জেলার সুপার দীনেশ কুমার, পুরপ্রধান গোপাল শেঠ প্রমুখ। এর পাশাপাশি বসিরহাট শহরে ১৫টি পুজো কার্নিভালে অংশ নিয়েছিল। এছাড়া প্রথম বছরই নজর কেড়েছে বসিরহাট হিঙ্গলগঞ্জের সান্ডেলবিলের কার্নিভাল। সান্ডেলরবিল গ্রাম পঞ্চায়েত ও কনকনগর গ্রামবাসীদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে ভ্রাম্যমাণ শোভাযাত্রা। তা ঘিরে কনকনগর হাইস্কুল মাঠে ছিল উৎসবের আমেজ। মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
এর পাশাপাশি বারাকপুর চিড়িয়ামোড়ে কার্নিভালে একাধিক পুজো কমিটি নানা ধরণের অনুষ্ঠান করে। অনেক নাচের স্কুল পারফর্ম করে। পুলিশের পক্ষ থেকেও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কি ধরণের ব্যবস্থা নেওয়া হয় তা দেখানো হয়েছে। শনিবার দুপুর থেকে বারাকপুরের ব্যস্ততম চিড়িয়ামোড় সংলগ্ন এলাকায় যান নিয়ন্ত্রণ করা হয়। সমস্ত গাড়ি ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ব্যাপক ভিড় দেখা গিয়েছে। কেউ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূর্তি বানিয়ে নিয়ে এসেছিলেন। পুজো কমিটি রাজ্য সরকারের প্রকল্পগুলি তুলে ধরেছিল শোভাযাত্রায়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ সৌগত রায়, পার্থ ভৌমিক, বিধায়ক নির্মল ঘোষ, রাজ চক্রবর্তী, সোমনাথ সেন, সোমনাথ শ্যাম, সনৎ দে, পুলিশ কমিশনার মুরলিধর শর্মা এবং একাধিক পুরসভার চেয়ারম্যান।