নিউ ইয়র্ক: ‘সবার কাছেই জানতে চাইছি। আমার এই নতুন হেয়ারকাট কি আপনাদের পছন্দ?’ মাইক হাতে প্রশ্ন কার্লোস আলকারাজের। প্রথমে যদিও তাঁকে চেনাই যায়নি। একমাথা কালো চুল উধাও। ২২ বছর বয়সির এই ‘বোল্ড বাজ কাট’ একেবারে অচেনাই করে দিয়েছে তাঁকে। আর চমকে দেওয়া নতুন রূপেই কেরিয়ারের দ্বিতীয় ইউএস ওপেন খেতাব জেতার লড়াই শুরু করলেন তিনি। পাশাপাশি, স্প্যানিশ তারকার লক্ষ্য র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর জায়গাও। প্রথম রাউন্ডে রেইলি ওপেলকাকে ৬-৪, ৭-৫, ৬-৪ সেটে অনায়াসে হারালেন তিনি। তারপরই দর্শকদের জন্য রাখেন ওই প্রশ্ন। জবাবে হাততালি দিয়ে, সিটি বাজিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন টেনিসপ্রেমীরা। আর তাতেই পরিষ্কার, আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকদের ন্যাড়া মাথার আলকারাজ অপছন্দ হয়নি। প্রত্যুত্তরে, সবাইকে ‘ধন্যবাদ’ বলেন তিনি।
কিন্তু কেন এই চুল ছেঁটে ফেলা? আলকারাজ বলেছেন, ‘চুলটা বড্ড বড় হয়ে গিয়েছিল। এই আসরের আগে একটা হেয়ারকাটেরও দরকার ছিল। কিন্তু তা করতে গিয়েই দেখি, প্রয়োজনের চেয়ে বেশি কাটা হয়ে গিয়েছে। তখন এই হেয়ারকাট ছাড়া উপায় ছিল না। তবে খুব খারাপ লাগছে না আমাকে, তাই না?’
বিশ্ব ক্রমপর্যায়ে ১৭ নম্বরে থাকা আমেরিকার ফ্রান্সেস টিয়াফো অবশ্য অন্য কথাই বলেছেন। তাঁর মতে, আলকারাজের এই হেয়ার স্টাইল ভয়াবহ। তিনি বলেছেন, ‘ভয়ঙ্কর। জঘন্য। উৎকট। একইসঙ্গে মজারও। জানি না, কে ওকে এটা করতে বলেছিল। তবে খুব খারাপ লাগছে দেখে। ও তো ভালো হেয়ার স্টাইলের জন্য গর্ববোধ করত। সেখানে এমন স্টাইল, ভাবতেই পারছি না।’
টিয়াফোর মন্তব্য অবশ্য হেসেই উড়িয়ে দিয়েছেন আলকারাজ। মজার সুরে বলেছেন, ‘কারও এটা পছন্দ হয়েছে, কারও হয়নি। আমি তো মানুষের প্রতিক্রিয়া দেখে হেসেই চলেছি। তবে এখন তো আর আমার কিছু করার নেই। আর টিয়াফো নিশ্চিতভাবেই মিথ্যা কথা বলছে। ও এই হেয়ার স্টাইলকে জঘন্য বলতেই পারে না। আমাকে তো বলল, নতুন স্টাইলে ভালোই লাগছে!’
এতে কি কোর্টে নড়াচড়ায় সুবিধা হবে তাঁর? উত্তরটা জানেন না আলকারাজ। তবে অনুরাগীদের সান্ত্বনা দেওয়ার মেজাজে তাঁর মন্তব্য, ‘যখনই চুল কাটাই, দুই-তিন দিনের মধ্যেই তা বড় হতে শুরু করে। তাই তিন দিনের মধ্যেই আপনারা আমাকে নতুন হেয়ার স্টাইলে দেখতে পাবেন।’ উল্লেখ্য, বুধবার মাতিয়া বেলুচ্চির বিরুদ্ধে দ্বিতীয় রাউন্ডে নামবেন তিনি।