Bartaman Logo
২১ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

গাড়ি ঘোরাতে গিয়ে সোজা নর্দমায়, ভেস্তে গেল মুক্তিপণ আদায়ের ছক, পুলিশের জালে ৩

যাত্রী সেজে অ্যাপ ক্যাবে উঠে অপহরণ করা হয়েছিল চালককে। ভয় দেখাতে গাড়ির মধ্যে চালানো হয় গুলি।

গাড়ি ঘোরাতে গিয়ে সোজা নর্দমায়, ভেস্তে গেল মুক্তিপণ আদায়ের ছক, পুলিশের জালে ৩
  • ২১ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: যাত্রী সেজে অ্যাপ ক্যাবে উঠে অপহরণ করা হয়েছিল চালককে। ভয় দেখাতে গাড়ির মধ্যে চালানো হয় গুলি। অপহৃতকে ওই গাড়িতে নিয়ে সারারাত গোটা কলকাতা ঘুরে বেড়ায় অপহরণকারীরা। মুক্তিপণ আদায়ে কড়েয়া এলাকায় এসে অপটু হাতে গাড়ি ঘোরাতে গিয়ে চাকা সোজা গিয়ে পড়ে নর্দমায়। সেখান থেকে পালিয়েও শেষ রক্ষা হল না। পুলিশের জালে ধরা পড়ে গেল তিন অপহরণকারী। উদ্ধার গাড়ি। তাদের জেরা করে লুট করা সামগ্রী ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা হচ্ছে।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পেশায় অ্যাপ কাব চালক বিলাস সিং বুধবার রাত সাড়ে ১১ টা নাগাদ বারাসত থেকে নিউটাউন যাওয়ার একটি বুকিং পান। পিকআপ স্পটে তিন যুবক গাড়ির সওয়ারি হয়। যাত্রী সেজে ওঠা যুবকদের মধ্যে দুজন পিছনে, একজন সামনে বসে। বিমানবন্দরের কাছ থেকে চালক নিউ টাউনের রাস্তা ধরার উদ্যোগ নিলে স্বমূর্তি ধারণ করে তিন অভিযুক্ত। মাথায় আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে চালককে গঙ্গারামপুরের দিকে যেতে বাধ্য করা হয়। চালককে আগ্নেয়াস্ত্রের বাট দিয়ে মারধর শুরু করে। এরপর তাঁকে চালকের সিট থেকে তুলে পিছনের আসনে নিয়ে যাওয়া হয়। দুষ্কৃতীদের একজন গাড়ি চালাতে শুরু করে। চালককে বলা হয়, বাড়িতে ফোন করে টাকা চাইতে। তারা জানায়, মুক্তিপণ না মিললে, খুন করা হবে। চালক বিলাসের দাবি, এই সময় এক রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। যদিও গুলি চলার প্রমাণ এখনও পর্যন্ত পায়নি পুলিশ। অপহরণকারীদের কথামতো অ্যাপ ক্যাব চালক কাকদ্বীপে থাকা স্ত্রীকে ফোন করে বলেন, ৬০ হাজার টাকা কলকাতায় নিয়ে আসতে। অপহরণকারীরা জানায়, তারা পার্ক সার্কাস স্টেশনে মুক্তিপণের টাকা নেবে। সকালের প্রথম ট্রেন ধরে স্ত্রী আসবে বলে জানালে, রাতভর ওই ক্যাব চালককে নিয়ে রাজারহাট, নিউটাউন, উল্টোডাঙা, পার্কসার্কাস সহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বেড়ায় অপহরণকারীরা। কেড়ে নেওয়া হয় চালকের মোবাইল ও সোনার চেন।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ কড়েয়া এলাকার পাঞ্জাবিপাড়ায় গাড়ি নিয়ে হাজির হয় তারা। দুষ্কৃতীদের একজন মুক্তিপণ আদায় করতে পার্ক সার্কাস স্টেশনে যায়। বাকি দু’জন ক্যাব চালকের মাথায় পিস্তল  ঠেকিয়ে বসে থাকে। গাড়িটি  সাইড করতে এক দুষ্কৃতী বসে চালকের আসনে। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়ির চাকা নর্দমায় গিয়ে পড়ে। স্থানীয় যুবকরা সাহায্যে এগিয়ে এলে ক্যাব চালক জানান, তাঁকে অপহরণ করে নিয়ে আসা হয়েছে। এলাকার লোকজন দুষ্কৃতীদের মারধর শুরু করে।
কিন্তু কোনওক্রমে দুষ্কৃতীরা পালাতে সক্ষম হয়। স্থানীয় এক ব্যক্তির ফোন থেকে অপহৃত কথা বলেন স্ত্রীর সঙ্গে। ক্যাব চালক অভিযোগ দায়ের করেন কড়েয়া থানায়। এরমাঝে তাঁর স্ত্রীও থানায় পৌঁছে যান। অপহরণকারীদের ধরতে তাঁকে দিয়ে ফাঁত পাতে পুলিশ। বিলাসের স্ত্রী জানতে চান, মুক্তিপণ কোথায় দেবেন। অভিযুক্তরা তাঁকে নারায়ণপুর এলাকার বাবলাতলায় আসতে বলে। সেইমতো পুলিশও সেখানে পৌঁছে যায়। বিলাসের স্ত্রী টাকা দেওয়ার সময় অপহরণকারীদের পান্ডা রাহুল সর্দার ও তার এক শাগরেদকে পাকড়াও করে পুলিশ। তাদের জেরা করে গ্রেপ্তার করা হয় আরও একজনকে। জেরায় ধৃতরা জানিয়েছে, নেশার টাকা জোগাড় করতেই  অপহরণ করেছিল ক্যাব চালককে। রাতের দিকে ক্যাব বুকিং করে তারা এভাবেই লুটপাট করত। এর আগে তারা কতগুলি ঘটনা ঘটিয়েছে, খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ