নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিচারকের গাড়ির সামনে পার্ক করা হয়েছিল অন্য একটি গাড়ি। সেই গাড়ি সরিয়ে নিতে বলায় জুডিশিয়াল অফিসারদের ভয় দেখানো, সরকারি কর্মীদের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চালকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত চালক শুভজিৎ চট্টোপাধ্যায় তাঁদের লক্ষ্য করে অশ্লীল ইঙ্গিত করেন বলেও অভিযোগ। সংশ্লিষ্ট বিচারকের অভিযোগের ভিত্তিতে ওই চালককে গ্রেপ্তার করেছে নিউ আলিপুর থানা। বৃহস্পতিবার নিউ আলিপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিউ আলিপুর এলাকায় বিচারকের গাড়ি পার্ক করা ছিল নির্দিষ্ট পার্কিং প্লেসে। ওই জায়গাটি তাঁর গাড়ির জন্যই নির্দিষ্ট। অন্যান্য জুডিশিয়াল অফিসারের গাড়িও সেখানে পার্ক করা থাকে। বৃহস্পতিবার ওই পার্কিংয়ের জায়গায় এলোমেলোভাবে গাড়ি রাখেন অভিযুক্ত চালক। দীর্ঘ সময় পরও গাড়িটি না সরানোয় প্রচণ্ড সমস্যা হচ্ছিল। সেখানকার নিরাপত্তারক্ষীরা গাড়িটি সরাতে বললেও চালক পাত্তা দেননি বলে অভিযোগ। তখন জুডিশিয়াল অফিসাররা বেরিয়ে এসে গাড়িটি সরিয়ে নিতে অনুরোধ করেন। অভিযোগ, একথা শুনে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন ওই চালক। গাড়ি সেখান থেকে সরাবেন না বলে জানিয়ে দেন। তারপরেও জুডিশিয়াল অফিসাররা একই অনুরোধ করলে তাঁদের উদ্দেশে অশ্লীল মন্তব্য করেন ওই চালক। এমনকি, তিনি বলেন, তাঁর গাড়ি এখান থেকে সরানো হবে না। কেউ যদি সরাতে আসে, তাহলে তিনি তাঁকে দেখে নেবেন! এরপরই বিষয়টি থানায় জানান জুডিশিয়াল অফিসাররা। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। থানার অফিসারদের দেখেই গাড়ি বার করে দ্রুত চম্পট দেন অভিযুক্ত। পুলিশকর্মীরা পিছু ধাওয়া করেও তাঁকে ধরতে পারেননি। বিচারকের তরফে লিখিত অভিযোগ করা হয় নিউ আলিপুর থানায়। তার ভিত্তিতে পুলিশ রাস্তা দখল করে গাড়ি রাখা, সরকারি কর্মীদের কাজে বাধাদান, অশ্লীল শব্দ ব্যবহারসহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে। সিসি ক্যামেরা দেখে অভিযুক্তের গাড়ির নম্বর হাতে আসে তদন্তকারীদের। সেটি দেখে গাড়ির মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুলিশ। জানা যায়, গাড়িটি চালাচ্ছিলেন শুভজিৎ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর বাড়ি নিউ আলিপুরের বকুলমাঠ এলাকায়। রাতেই সেখানে হানা দিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।