Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গাড়ি মালিককে নৃশংসভাবে হত্যা, চালকের যাবজ্জীবন, ১৯ বছর পর সাজা ঘোষণা তমলুক আদালতের

গাড়ি মালিককে নৃশংসভাবে হত্যা, চালকের যাবজ্জীবন, ১৯ বছর পর সাজা ঘোষণা তমলুক আদালতের
  • ২১ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০৫
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: পণ্যবাহী গাড়ির চালককে কাজ থেকে ছাড়িয়ে দিয়েছিলেন মালিক। সেই রোষে লোহার রড দিয়ে মেরে মালিকের মাথার খুলি ফাটিয়ে নৃশংস খুন করে ওই চালক। নন্দকুমার থানার ইড়খা এলাকায় একটি নয়ানজুলিতে দেহ ফেলে চম্পট দিয়েছিল চালক অমিত চট্টোপাধ্যায়। ১৯ বছর আগে এরকম একটি খুনের ঘটনায় বৃহস্পতিবার যাবজ্জীবন সাজা ঘোষণা করলেন তমলুকের ডিস্ট্রিক্ট জজ প্রিয়ব্রত দত্ত। এই মামলায় গত ১৯ বছরে সাতজন বিচারক বদলি হয়েছেন। মামলার তদন্তকারী অফিসার এবং ময়নাতদন্তকরী চিকিৎসকও মারা গিয়েছেন। নানা ঘাত প্রতিঘাত পেরিয়ে অবশেষে বৃহস্পতিবার যাবজ্জীবন সাজা শোনালেন বিচারক। সেইসঙ্গে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও পাঁচ মাস সাজার নির্দেশ দেন বিচারক। এই সাজা ঘোষণার দিন মৃতের পরিবারের কেউ আদালতে হাজির ছিলেন না।

Advertisement

জানা গিয়েছে, সাজাপ্রাপ্ত অমিতের বাড়ি দক্ষিণ ২৪পরগনার মহেশতলায়। সেই এলাকার বাসিন্দা সঞ্জিত নাহার একটি পণ্যবাহী গাড়ি ছিল। সেই গাড়ি চালাত অমিত। দু’জনের মধ্যে ঝামেলার জেরে সঞ্জিতবাবু গাড়ির চালক অমিতকে কাজ থেকে ছাড়িয়ে দেন। অমিতের জায়গায় অন্য একজনকে গাড়ি চালানোর দায়িত্ব দেন।  কাজ থেকে ছাড়িয়ে দেওয়ায় অমিত মালিকের উপর প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করে। ২০০৬ সালের ১১ নভেম্বর অমিত গাড়ির মালিক সঞ্জিতবাবুকে হলদিয়ায় একটি কারখানা থেকে লোভনীয় ভাড়ার টোপ দেয়। সঞ্জিতবাবু তাঁর কু-মতলব সম্পর্কে বিন্দুমাত্র টের পাননি। তিনি সরল মনে অমিতের সঙ্গী হন। ঘটনার দিন অমিত তার পরিচিত অমরজিৎ সাউ নামে এক যুবককেও গাড়িতে তুলে হলদিয়ার উদ্দেশে রওনা দেয়। অমরজিৎ মহেশতলার একটি নারকেল তেল কারখানায় কাজ করত। 
কোলাঘাটে সঞ্জিতবাবুকে প্রচুর মদ খাইয়ে বেহুঁশ করে দেওয়া হয়। এরপর রাতের দিকে নন্দকুমার হাই রোডে একটি জায়গায় গাড়ি থামিয়ে রড মেরে সঞ্জিতবাবুর মাথার খুলি ফাটিয়ে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। তারপর দেহটি নয়ানজুলিতে ফেলে গাড়ি নিয়ে অমিত এবং অমরজিৎ দীঘার দিকে পালিয়ে যাচ্ছিল। সেই সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে তাদের গাড়িটি। যেকারণে স্থানীয়রা দু’জনকে আটকে রাখে। স্থানীয়দের কোনওরকমে বুঝিয়ে অমরজিৎ বাড়ি ফিরে যায়। এরপর কারখানায় গিয়ে মালিককে সব ঘটনা খুলে বলে। কারখানার মালিক তাকে সোজা লালবাজারে নিয়ে যান। সেখানেই সব ঘটনা জানিয়ে দেয় অমরজিৎ।
ওই ঘটনায় অমিত চট্টোপাধ্যায় একবার ধরা পড়লেও হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়ে যায়। তারপর তার নাগাল পাওয়া যাচ্ছিল না। এই অবস্থায় অভিযুক্তের হদিশ পেতে আদালত থেকে হুলিয়া জারি করা হয়। তার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়। শেষপর্যন্ত ২০২৪ সালে ১১ আগস্ট নন্দকুমার থানার পুলিস তাকে গ্রেপ্তার করে।  মামলার সরকারি আইনজীবী সৌমেন দত্ত বলেন, গাড়ির চালককে কাজ থেকে ছাড়িয়ে দেওয়ায় মালিককে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছিল। ২০২৪ সালে অমিত পুলিসের জালে ধরা পড়ে। ওই মামলায় মোট ৩১ জন সাক্ষ দিয়েছেন। বুধবার অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করেছিলেন বিচারক। বৃহস্পতিবার তার যাবজ্জীবন সাজা ঘোষণা হয়েছে। নিহত সঞ্জিত নাহার পরিবার থেকে কোনওরকম যোগাযোগ করা হয়নি। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ