Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

স্বামীর নামে গাড়ি, ভাড়া মেটানো হচ্ছে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের বরাদ্দ থেকে!

স্বামীর নামে গাড়ি, ভাড়া মেটানো হচ্ছে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের বরাদ্দ থেকে!
  • ২৬ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ ও সংবাদদাতা, মানিকচক: তৃণমূলের পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পিঙ্কি মণ্ডলের স্বামীর নামে গাড়ি। অথচ বিল মেটানো হচ্ছে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকা থেকে! এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠল মানিকচকে। অভিযোগ জমা পড়ল মানিকচক ব্লক প্রশাসন ও জেলাশাসকের কাছে। 

Advertisement

মালদহ জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি এটিএম রফিকুল ইসলাম বলেন, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির যতটুকু প্রয়োজন, ঠিক ততটাই তিনি গাড়ির জন্য খরচ করবেন। সরকারি টাকার যেন অপচয় না হয়। যে গাড়ি ভাড়া নিয়ে অভিযোগ উঠেছে, সেটা ব্লক প্রশাসন খতিয়ে দেখবে।  
পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির গাড়ি ভাড়ার অভিযোগ নিয়ে সরব হয়েছে বিজেপিও। পদ্ম শিবিরের তরফে ইতিমধ্যেই নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সরকারি টাকা বেলাগাম খরচের অভিযোগ আনা হয়েছে। এনিয়ে তারা মানিকচকের বিডিওকে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে। যার প্রতিলিপি পাঠানো হয়েছে জেলাশাসকের কাছেও।
মানিকচকের বিডিও অনুপ চক্রবর্তী বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। আগামী সপ্তাহে তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। 
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মানিকচক পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার একমাস পরেই নিজস্ব ব্যবহারের জন্য একটি প্রাইভেট নম্বরের গাড়ি ভাড়া করেন পিঙ্কি। গাড়ির ভাড়া বাবদ প্রতি মাসে ৩৬ হাজার টাকা পঞ্চায়েত সমিতির নিজস্ব তহবিল থেকে মেটানো হবে বলে রেজুলেশনও পাশ করা হয়। পরে দেখা যায় সভাপতির ভাড়া করা গাড়ির মালিক খোদ তাঁর স্বামী অপু মণ্ডল। যিনি আবার মানিকচকের মথুরাপুরের তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতিও। অভিযোগ,কোনও রকম টেন্ডার ও কোটেশন ছাড়াই সভাপতির গাড়ি ভাড়ার বরাত পান অপু। এমনকী রেজুলেশনে পঞ্চায়েত সমিতির নিজস্ব তহবিল থেকে গাড়ির ভাড়া দেওয়ার কথা থাকলেও প্রতিমাসে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের খাত থেকে টাকা দেওয়া  হচ্ছে।  পিঙ্কির কথায়, এবিষয়ে যা বলার বিডিও বলবেন।
নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি পদে আসীন কোনও জনপ্রতিনিধির নিকট আত্মীয় টেন্ডার সহ কোনও রকম কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে পারেন না। এমনকী কোনও সরকারি অর্থ নিজস্ব অ্যাকাউন্টেও তিনি গ্রহণ করতে পারবেন না। কিন্তু এক্ষেত্রে সরকারি নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় সরকারি খাতের টাকা নিচ্ছেন অপু।
এদিকে অভিযোগকারী বিজেপির মানিকচক-২ মণ্ডল সভাপতি সুভাষ যাদব বলেন, আমরা গোটা বিষয়টি মানিকচক ব্লক ও জেলা প্রশাসনের কাছে লিখিতভাবে জানিয়েছি। এবার তারা তদন্ত করে দেখুক।
এবিষয়ে সভাপতির স্বামী অপু মণ্ডল বলেন, নিয়ম অনুযায়ী টেন্ডার করা হয়েছে। সেই টেন্ডারে আমি পেয়েছি। এখানে কোনও স্বজনপোষণের প্রশ্ন নেই। এবার ব্লক প্রশাসন যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার নেবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ