নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: গতির বলি হলেন দুই যুবক। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ঘটনাটি ঘটেছে সোনারপুর থানার চৌহাটি বাইপাসের কাছে একটি বেসরকারি স্কুলের সামনে। পুলিশ জানিয়েছে, অত্যন্ত দ্রুতগতিতে আসছিল গাড়িটি। চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে গাড়িটি রাস্তার পাশে একটি গাছে ধাক্কা মেরে উলটে যায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় দু’জনের। আহত হয়েছেন আরও তিনজন। তাঁদের এম আর বাঙ্গুর হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে। মৃতদের নাম শৌণক ভট্টাচার্য (২২) ও সাগ্নিক সেন (২১)। তাঁদের বাড়ি যাদবপুর ও গল্ফগ্রিন এলাকায়। মৃত্যুর খবর পেয়ে তাঁদের বাড়ির লোকজন ছুটে আসেন সোনারপুর থানায়। দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানোর আগে সাগ্নিকের বোন তাঁর দাদার হাতে শেষবারের মতো রাখি পরিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
জানা গিয়েছে, বারুইপুর থেকে কলকাতার দিকে যাচ্ছিলেন ওই পাঁচজন। রাত তখন প্রায় ৩টে। কামালগাজি বাইপাস সেই সময় ফাঁকা। দুর্ঘটনার সময় গাড়ির গতি ঘণ্টায় ১০০ কিমির উপর ছিল বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। চৌহাটির কাছে কোনো কারণে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে গাড়িটি সজোরে গিয়ে একটি গাছে ধাক্কা মেরে উলটে যায়। একজন ছিটকে পড়েন রাস্তায়। বাকিরা গাড়ির ভিতরেই ছিলেন। বিকট শব্দ শুনে আশপাশের বাড়ির লোকজন বেরিয়ে আসেন। চলে আসেন টহলরত পুলিশকর্মীরাও। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় সাগ্নিক ও শৌণকের। বাকিদের আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাঁদের হাসপাতালে ভরতি করা হয়। এদিন সকালে মৃতদের বাড়িতে খবর পাঠানো হয়। আহতদের অবস্থা স্থিতিশীল হলে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করার পরিকল্পনা করেছেন তদন্তকারীরা। তবে, এই ঘটনা নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন উঠেছে। কে গাড়ি চালাচ্ছিলেন? গাড়ি চালানোর সময় তিনি ঘুমিয়ে পড়েছিলেন কি না? চালক সহ বাকিরা মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন কি না? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়ি। -নিজস্ব চিত্র