নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: নাগাড়ে বৃষ্টি চলছে উত্তর সিকিমে। সেই সঙ্গে রাস্তায় ছোট-বড় ধস। অত্যন্ত বিপদসঙ্কুল হয়ে উঠেছে পাহাড়ি রাস্তা। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার রাতে ঝুঁকি নিয়েই সেই পথ ধরে যেতে গিয়ে ঘটে গেল ভয়াবহ দুর্ঘটনা। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে হাজার ফুট নীচে তিস্তায় পড়ে গেল পর্যটকদের গাড়ি। চালক সহ মোট ১১ জন ছিলেন গাড়িতে। তাঁরা পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও ওড়িশার বাসিন্দা। সিকিম প্রশাসন সূত্রে খবর, শুক্রবার রাত পর্যন্ত মাত্র দু’জন পর্যটককে সঙ্কটজনক অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। গ্যাংটকের হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে তাঁদের। দীর্ঘ তল্লাশির পর শুক্রবার বিকেলে দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়ির কমবয়সি চালক পাশাং শেরপার দেহ উদ্ধার হয়। বাংলার পর্যটক সহ এখনও নিখোঁজ আটজন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ওড়িশার বিজেপি মহিলা মোর্চার সম্পাদিকা ইতিশ্রী নায়েক জেনা। জাজপুরের বাসিন্দা তিনি। সপরিবারে উত্তর সিকিমে বেড়াতে এসেছিলেন।
গুরুদংমার লেক দেখে ফিরছিলেন পর্যটকরা। রাত ৯টা নাগাদ লাচেন থেকে লাচুংয়ের দিকে যাওয়ার পথে মুন্সিথাংয়ের কাছে দুর্ঘটনাটি ঘটে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, টানা বৃষ্টির কারণে রাস্তা পিছল হয়ে গিয়েছিল। বাঁক নেওয়ার সময় চাকা পিছলে নিয়ন্ত্রণ হারায় গাড়িটি। সোজা গিয়ে পড়ে হাজার ফুট নীচে তিস্তার খাদে। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় উদ্ধারকারী দল। সেনাবাহিনীর পাশাপাশি উদ্ধারকাজে হাত লাগায় সিকিম পুলিস, ইন্দো-টিবেটিয়ান বর্ডার পুলিস (আইটিবিপি)। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে যথেষ্ট বেগ পেতে হয় উদ্ধারকাজের কর্মীদের। ওই অবস্থায় রাতভর তল্লাশি চলে। শেষরাতে পাহাড়ি খাদ থেকে দুই পর্যটককে গুরুতর জখম অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয় সেনা।
ভয়াবহ দুর্ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং। পর্যটকদের উদ্ধার করতে সবরকম চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি। উদ্ধার হওয়া পর্যটকদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন। দুর্ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে উদ্ধারকাজ তদারকি করতে দেখা যায় মঙ্গনের জেলাশাসক অনন্ত জৈন ও পুলিস সুপার সোনম ডিচু ভুটিয়াকে। চুংথাংয়ের মহকুমাশাসক অরুণ ছেত্রী বলেন, ‘পর্যটকদের উদ্ধারে সিকিম প্রশাসন আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে। তিস্তায় এনডিআরএফ এবং ডুবুরি নামানো হয়েছে।’ এদিন দুপুরের পর ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছুটা দূরে তিস্তায় দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়ির খোঁজ মেলে। দড়ি বেঁধে সেটি টেনে তোলার চেষ্টা চলে। বিজেপির মহিলা মোর্চার নেত্রী ও তাঁর পরিবার এবং রাজ্যের একাধিক পর্যটকের বিপদে পড়ার খবর পেয়ে এদিনই সিকিমের মুখ্যমন্ত্রীকে ফোন করেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাজি। সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে জানান, তিস্তায় পড়ে যাওয়া গাড়িতে ওড়িশার ৬জন পর্যটক রয়েছেন। উদ্ধারের পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসা নিয়ে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেন তিনি।
এদিকে, শুক্রবারই সিকিমের জোড়থাং থেকে লেগশিপ যাওয়ার পথে তাতোপানির কাছে পর্যটকদের আরও একটি গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। বাঁক নেওয়ার সময় অপর একটি গাড়ির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। তবে হতাহতের কোনও খবর নেই। - নিজস্ব চিত্র