Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ক্রেতাদের স্বার্থরক্ষায় আইন চান গাড়ি বিক্রেতারাই, সরকারের দ্বারস্থ সংগঠন

ক্রেতাদের স্বার্থরক্ষায় আইন চান গাড়ি  বিক্রেতারাই, সরকারের দ্বারস্থ সংগঠন
  • ১২ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গাড়ির ক্রেতাদের স্বার্থরক্ষায় আইন চাইছেন গাড়ি বিক্রেতারাই। তাঁদের বক্তব্য, আইন এলে তাঁদের স্বার্থও সুরক্ষিত হবে। এই বিষয়ে কেন্দ্রের পাশাপাশি রাজ্য সরকারগুলির কাছেও দরবার করেছেন তাঁরা। কিন্তু এখনও তেমন আশার আলো দেখা যায়নি বলেই জানাচ্ছে গাড়ি শিল্পমহল। 

Advertisement

নয়া আইনের দাবি কেন করছেন গাড়ি বিক্রেতারা? তাঁদের সংগঠন ফেডারেশন অব অটোমোবাইল ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনসের সভাপতি সি এস ভিগনেশ্বরের কথায়, ক্রেতারা চান, তাঁদের গাড়ির বিক্রয়-পরবর্তী পরিষেবা সুষ্ঠু হোক। কোনও প্রয়োজনে গাড়ির যন্ত্রাংশ পাওয়া যায় যেন সহজেই। অথচ দেখা যাচ্ছে, বিদেশি গাড়ি সংস্থা ভারতে কারখানা চালুর পর, তা আচমকা গুটিয়ে নিচ্ছে। অথচ ডিলারদের থেকে গাড়ির ‘স্টক’ যেমন তারা তুলে নিচ্ছে না, তেমনই রেখে দিচ্ছে গাড়ির যন্ত্রাংশও। এক্ষেত্রে গাড়ির বিক্রি তলানিতে ঠেকায় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে ডিলারদের, দাবি প্রেসিডেন্টের।
অন্যদিকে ডিলাররা বলছেন, এতে ক্রেতারা হয়রান হচ্ছেন। কারণ, যাঁরা ইতিমধ্যেই গাড়ি কিনে ফেলেছেন, গাড়ির কোনও সমস্যা হলে তাঁরা সুষ্ঠু পরিষেবা পাচ্ছেন না। তেমনই বিপাকে পড়ছেন হাজার হাজার কর্মীও। সাম্প্রতিককালে একটি মার্কিন গাড়ি সংস্থা ভারত থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ায় ক্রেতাদের পাশাপাশি প্রায় ৬৫ হাজার কর্মী সমস্যায় পড়েন বলে দাবি করেছেন ডিলাররা। তাঁদের কথায়, দু’চাকা গাড়ির ডিলারশিপ নিতে ৭৫ লক্ষ থেকে দু’কোটি টাকা খরচ হয়। চারচাকা গাড়ির ক্ষেত্রে সেই খরচ ১৩ থেকে ৪৫ কোটি টাকা। গাড়ি সংস্থা তাদের ব্যবসা আচমকা গুটিয়ে নিলে বিপুল ক্ষতি হয় ডিলারদের। তাঁদের স্বার্থ রক্ষার্থেই ‘রিটেল প্রোটেকশন’ আইন চান তাঁরা। তার জন্য ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের একাধিক মন্ত্রক এবং রাজ্য সরকারগুলির কাছে দরবার করেছেন তাঁরা। জানিয়েছেন ফেডারেশনের কর্তারা।   
এই সংগঠন আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী দাবি করেন, রাজ্যে যেমন ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে তেমনই বেড়েছে গাড়ি চালানোর পরিকাঠামোও। তাঁর কথায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ক্ষমতায় আসার সময় রাজ্যে ২৯ হাজার কিমি পাকা রাস্তা ছিল। তা এখন বেড়ে এক লক্ষ কিমি হয়েছে। পাশাপাশি সেইসময় রা঩জ্যের জিডিপি ছিল ৪ লক্ষ ৬১ হাজার কোটি টাকা। তা এখন বেড়ে ১৮ লক্ষ ১৫ হাজার কোটি টাকা হয়েছে। এর অর্থ, মানুষের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। পাশাপাশি তিনি জানান, বাংলাদেশে গাড়ি রপ্তানির সুবিধা করে দিতে ‘সুবিধা’ পোর্টাল চালু হয়েছে। এতে যেমন সহজ হয়েছে পণ্য পরিবহণ, তেমনই গত দু’বছরে ৬৫০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে সরকারের। সাধারণ মানুষের হায়রানি কমাতে আরটিওগুলিতে ৭২টি ক্ষেত্রে ‘ফেসলেস’ পরিষেবা চালু হয়েছে বলে এদিন দাবি করেন মন্ত্রী।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ