Bartaman Logo
৩ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

লরির সঙ্গে গাড়ির সংঘর্ষ, বাংলার তিন শিক্ষিকা ও শিশু সহ ছত্তিশগড়ে মৃত ৫

পুজোর ছুটিতে ভিন রাজ্যে ঘুরতে গিয়ে ঘটে গেল মর্মান্তিক ঘটনা! লরির সঙ্গে পর্যটকদের গাড়ির সংঘর্ষে প্রাণ হারালেন বাংলার তিন স্কুলশিক্ষিকা, গাড়ির চালক এবং এক শিক্ষিকার ১০ বছরের মেয়ে।

লরির সঙ্গে গাড়ির সংঘর্ষ, বাংলার তিন শিক্ষিকা ও শিশু সহ ছত্তিশগড়ে মৃত ৫
  • ৭ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা, চুঁচুড়া ও তমলুক: পুজোর ছুটিতে ভিন রাজ্যে ঘুরতে গিয়ে ঘটে গেল মর্মান্তিক ঘটনা! লরির সঙ্গে পর্যটকদের গাড়ির সংঘর্ষে প্রাণ হারালেন বাংলার তিন স্কুলশিক্ষিকা, গাড়ির চালক এবং এক শিক্ষিকার ১০ বছরের মেয়ে। গাড়ির অন্যান্য সওয়ারিও গুরুতর জখম অবস্থায় চিকিৎসাধীন। মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তিশগড়ের বিভিন্ন জায়গায় বেড়াতে গিয়েছিলেন তাঁরা। রবিবার তাঁরা মধ্যপ্রদেশের জব্বলপুর থেকে ছত্তিশগড়ের বিলাসপুর যাচ্ছিলেন। ছত্তিশগড়ের চিল্ফিঘাটির কাছে তাঁদের এসইউভির সঙ্গে একটি লরির সংঘর্ষ হয়। প্রাণ হারান পপি বর্মা (৪৪), অন্বেষা সোম (৪০), পরমা মিত্র ভট্টাচার্য (৪২) এবং তাঁর ছোট মেয়ে অদৃতি ভট্টাচার্য (১০)। মারা গিয়েছেন গাড়ির চালক। তিনজনই একসময় হুগলির ডানকুনি শ্রীরামকৃষ্ণ বিদ্যাশ্রম (এসআরকেভি) স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন। তবে গণিতের শিক্ষিকা পরমাদেবী ২০১৬ সালে কলকাতার ঢাকুরিয়ার বিনোদিনী গার্লস হাইস্কুলে যোগ দেন। পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে দুই মেয়েকে নিয়ে বেরিয়েছিলেন তিনি। তাঁর ছোট মেয়ে অদৃতির জন্মদিন ছিল আজ, মঙ্গলবার। ঠাকুমাকে সে বলে গিয়েছিল, ফিরে এলে তার জন্য পছন্দের রান্না করতে। তার মধ্যেই এল মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর! যাদবপুর বাপুজিনগরের বাসিন্দা, পরমাদেবীর স্বামী ইন্দ্রজিৎ ভট্টাচার্য সোমবারই বিলাসপুরের দিকে রওনা হয়েছেন। তাঁদের বড় মেয়ে অদ্রিকা আশঙ্কাজনক অবস্থায় আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। 

Advertisement

কল্যাণীর বাসিন্দা পপি বর্মার ছেলে ঋতভাষও জখম হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। অন্বেষা সোমের স্বামী চিরঞ্জিৎ মাজি কাঁথি শহরের নামকরা স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ। ফোন করা হলে তিনি জানান, মেয়ে সুপ্রীতির সঙ্গে কথা বলে  ঘটনাস্থলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনিও। অন্যদিকে, শ্রীরামপুরের বাসিন্দা, জখম মুনমুন বাগের স্বামী অভিজিৎ দাসও ছত্তিশগড়ের পথে রওনা হয়েছেন। তাঁদের ছেলে অর্ণদীপও এই ঘটনায় জখম হয়ে হাসপাতালে ভর্তি।
প্রত্যেক শিক্ষিকাই পড়ুয়া মহলে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন। তাই স্কুলের এলাকায় তো বটেই, প্রাক্তনীদের মধ্যেও শোকের ছায়া। এসআরকেভির প্রাক্তনী অঙ্কিতা রায় বলেন, ‘ম্যাডামদের সঙ্গে স্কুল ছাড়ার পরেও যোগাযোগ ছিল। এভাবে সব কিছু শেষ হয়ে যাবে, ভাবতে পারছি না।’ পরমাদেবীর মৃত্যুর খবরে ভেঙে পড়েছেন বিনোদিনী গার্লস হাইস্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা সুস্মিতা বসাক। তিনি বলেন, ‘ও বেড়াতে গিয়েছিল জানতাম। সেদিন দেখলাম, খাজুরাহোর ছবি স্টেটাসে দিয়েছে। মর্মান্তিক ঘটনা জানার পর কোনওমতে সাহস সঞ্চয় করে তাঁর স্বামীর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন।’ হুগলি জেলার শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ সুবীর মুখোপাধ্যায় শিক্ষিকাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তিনি বলেন, ‘এই  পরিস্থিতিতে শুধু হুগলি নয়, অন্য জেলার শিক্ষিকাদের পরিবারের পাশেও থাকার চেষ্টা করছি।’ ডানকুনি পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান প্রকাশ রাহা বলেন, ‘ছাত্রীদের মধ্যে খুবই জনপ্রিয় ছিলেন এই শিক্ষিকারা। স্কুলের বড় ক্ষতি হয়ে গেল।’ 

সম্পর্কিত সংবাদ