সংবাদদাতা, রামপুরহাট: বুধবার রাতে একেবারে ফিল্মি কায়দায় অবৈধ বালি ও কয়লা বোঝাই বেশ কয়েকটি গাড়ি আটক করল জেলা এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ (ইবি)। আটক করা হয়েছে দশজনকে। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার সকালে পাচারের আগেই গোরু বোঝাই দু’টি গাড়ি আটক করে রামপুরহাট থানার পুলিস। উদ্ধার হয় ৪০টি গোরু। গ্রেপ্তার হয় দুই গাড়ির দুই চালক। পুলিসের দাবি, গোরু বোঝাই গাড়ি দু’টি মুর্শিদাবাদের দিকে যাচ্ছিল।
বর্ষায় বালি উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে জেলা প্রশাসনের। তারপরও জেলার বিভিন্ন নদনদী থেকে দেদার বালি উত্তোলন চলছে। পাশাপাশি জেলা এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের অভিযানও চলছে। ধরাও পড়ছে অবৈধ বালি বোঝাই যানবাহন। কিন্তু তা সত্ত্বেও পাচারে মরিয়া বালি মাফিয়ারা। তারা সতর্ক হয়ে কাজ করছে। এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের গাড়ি রাস্তায় নামলেই অবৈধ কারবারিদের কাছে খবর চলে যাচ্ছে। তাই বুধবার রাতে কৌশল বদল করেন ইবি-র আধিকারিকরা। গভীর রাতে ডিএসপি ডিইবি সরকারি নীলবাতির গাড়ির বদলে ভাড়া করা গাড়িতে চেপে অভিযানে নামেন। তাতেই সাফল্য এসেছে।
প্রথমে সিউড়ি থানার তারাপুরের কাছে সিউড়িগামী বালি বোঝাই দু’টি ট্রাক্টর, দুই চালক সহ আটক করা হয়। অভিযোগ, খটঙ্গা অবৈধ বালি মজুত কেন্দ্র থেকে বালি বোঝাই করে পাচার করা হচ্ছিল। এদিকে মহম্মদবাজার থানার প্যাটেল নগরের কাছে মুর্শিদাবাদগামী বালি বোঝাই ডাম্পার যেতে দেখে পিছু ধাওয়া করেন তাঁরা। কিন্তু পুলিসের গাড়ি বুঝতে পেরে দ্রুতগতিতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে ডাম্পারের চালক। তবে শেষ অবধি ডাম্পারটিকে দাঁড় করাতে সমর্থ হন ইবি-র আধিকারিকরা। চালককে জেরা করে তাঁরা জানতে পারেন, মহম্মদবাজারের খড়িমাটি ঘাট থেকে এই অবৈধ বালি সংগ্রহ করেছে। বৈধ কাগজ দেখাতে না পারায় চালক ও খালাসিকে আটক করা হয়। একইভাবে ময়ূরেশ্বরের কলেশ্বর মোড়ের কাছে মুর্শিদাবাদগামী আরেকটি বালি বোঝাই ডাম্পার আটক করা হয়। ইবি-র কর্তাদের দাবি, সাঁইথিয়া নতুন সেতুর কাছে অবৈধ ব্লক থেকে বালি সংগ্রহ করে মুর্শিদাবাদে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। ডাম্পারের চালক ও খালাসিকে আটক করেন তাঁরা। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার ভোরে সিউড়ি থানার নগরী গ্রামের কাছে কয়লা বোঝাই দু’টি সাইকেল সহ চারজনকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার হয় পাঁচ কুইন্টাল কয়লা।
ডিএসপি ডিইবি স্বপনকুমার চক্রবর্তী বলেন, আটক যানবাহন, চালক ও সহকারীদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। অবৈধ ব্যবসার জন্য ব্যবহৃত প্রতিটি যানবাহনের মালিকদের বিরুদ্ধে মামলা শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাচার রুখতে অভিযান জারি থাকবে।
এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে মনসুবা মোড়ের কাছে তারাপীঠ যাওয়ার রাস্তা থেকে গোরু বোঝাই দু’টি পিকআপ ভ্যান আটক করে রামপুরহাট থানার পুলিস। যদিও পুলিস দেখে এক চালক পালিয়ে যায়। অপর গাড়ির চালক বিহারের বাসিন্দা মহম্মদ ইনতিয়াজ শেখ ধরা পড়ে। দু’টি গাড়ি মিলিয়ে উদ্ধার হয় ৪০টি গোরু। পুলিস জানিয়েছে, গোরুগুলি মুর্শিদাবাদে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। ধৃতকে জেরা করে কোথা থেকে গোরু নিয়ে আসা হচ্ছিল এবং এই কারবারে আর কারা যুক্ত তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। নিজস্ব চিত্র