Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

হোমগার্ডের রহস্যমৃত্যুতে গ্রেপ্তার ক্যানিং থানার এসআই

ক্যানিং থানার বারাকে হোমগার্ড গুলজার পারভিন মোল্লা ওরফে রেশমি মোল্লার অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় ওই থানার সাব-ইনসপেক্টর (এসআই) সায়ন ভট্টাচার্যকে গ্রেপ্তার করল তাঁরই থানা।

হোমগার্ডের রহস্যমৃত্যুতে গ্রেপ্তার ক্যানিং থানার এসআই
  • ২ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ক্যানিং থানার বারাকে হোমগার্ড গুলজার পারভিন মোল্লা ওরফে রেশমি মোল্লার অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় ওই থানার সাব-ইনসপেক্টর (এসআই) সায়ন ভট্টাচার্যকে গ্রেপ্তার করল তাঁরই থানা।  বুধবার গভীর রাতে তিনি থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেন। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন। অভিযোগ হোমগার্ড রেশমির সঙ্গে তাঁর  সম্পর্ক ছিল। এদিকে ঘটনায় আরও এক সায়ন প্রামাণিকের নাম উঠে এসেছে। যিনি আবার সম্পর্কে অভিযুক্ত অফিসারের শ্যালক। সায়নও পলাতক। তরুণী গর্ভবতী ছিলেন। গর্ভস্থ সন্তানটি সাব ইনসপেক্টরের কি না, তা জানতে তাঁর ডিএনএ পরীক্ষা করাবেন তদন্তকারীরা।

Advertisement

গত শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছটা নাগাদ ক্যানিং থানার পুলিশ বারাক থেকে উদ্ধার হয় মহিলা হোমগার্ড রেশমির দেহ।  শুক্রবার সারাদিন তাঁকে ফোনে না পেয়ে বোন রুকসানা খাতুন বারাকে গিয়ে দিদিকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরিবারকে বিষয়টি জানালে মৃতার কাকা থানায় অভিযোগ করেন। তাতে উল্লেখ করা হয়, থানার এসআই সায়ন ভট্টাচার্যের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল রেশমির। ওই অফিসার ভাইঝিকে খুন করেছেন। পুলিশ খুনের মামলা শুরু করে। তদন্তে নেমে পুলিশ ওই মহিলার কল ডিটেইলস বের করে জানতে পারে, প্রতিদিন তাঁর সঙ্গে একাধিকবার কথা হতো ওই সাব ইনসপেক্টরের। সায়নের সঙ্গে যে ‘সম্পর্ক’ ছিল, সেটিও তদন্তে উঠে আসে। দুজনে অনেক জায়গায় বেড়াতেও গিয়েছেন। সম্প্রতি তিনি এই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন। এরপর তরুণী ওই সাব-ইনসপেক্টরের শ্যালক সায়ন প্রামাণিকের সঙ্গেও সম্পর্কে জড়ান। অবিবাহিতা মহিলা হোমগার্ড গর্ভবতী ছিলেন। তাঁর গর্ভস্থ সন্তানটি কার, তাই নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। মহিলার সঙ্গে কি ওই অফিসারের শ্যালক ঘনিষ্ঠ হয়েছিলেন? সন্দেহ দানা বাঁধছে। গ্রেপ্তারের পর এসআই দাবি করেছেন, ওই হোমগার্ডকে তিনি খুন করেননি। পুলিশের দাবি, ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টেও বলা হয়েছে ওই মহিলা আত্মঘাতী হয়েছেন। 
অপরদিকে, সায়ন প্রমাণিকের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি জানত না রেশমির পরিবার। যেহেতু এসআইয়ের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি জানা ছিল, তাই তাঁর নামে অভিযোগ আনা হয়েছে। পলাতক সায়নের খোঁজ চলছে। বৃহস্পতিবার অভিযুক্ত অফিসারকে আলিপুর আদালতে তোলা হয়। তাঁর আইনজীবী সুব্রত সর্দার বলেন, সায়ন ভট্টাচার্য ঘটনার সময় ছুটিতে ছিলেন। পুলিশের তরফে বলা হয়, অভিযুক্ত জামিন পেলে তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করবেন। সেই সঙ্গে তাঁর ডিএনএ পরীক্ষা করাতে হবে। সওয়াল শেষে তাঁকে ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দেয় আদালত।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ