Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঘাটালে অল্পবয়সিদের মধ্যে গাঁজার নেশা বাড়ছে, উদ্বিগ্ন প্রশাসন ও অভিভাবকরা

ঘাটালে অল্পবয়সিদের মধ্যে গাঁজার নেশা বাড়ছে, উদ্বিগ্ন প্রশাসন ও অভিভাবকরা
  • ৯ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ঘাটাল: ঘাটাল শহর ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় অল্পবয়সি ছেলে-মেয়েদের গাঁজা খাওয়ার প্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে। এর মধ্যে স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীরাও রয়েছে। এই ঘটনায় রীতিমতো উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা। ঘাটাল মহকুমার এক পুলিস আধিকারিক জানান, অল্পবয়সীদের মধ্যে গাঁজা খাওয়ার খবর আমাদের কাছেও এসেছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা খুব শীঘ্র এলাকাভিত্তিক সেমিনার করার ব্যবস্থা করছি। আবগারি দপ্তরের ঘাটাল সার্কেলের ওসি পরীক্ষিত বর্মন বলেন, এনিয়ে আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই। গাঁজার ব্যবহার বা গাঁজার ঠেক নিয়ে আমাদের কাছে কেউ যদি গোপনেও অভিযোগ করেন তাহলে তাঁর নাম পরিচয় গোপন রেখে আমরা সেই সমস্ত ঠেক বা দোকানগুলিতে হানা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারি।

Advertisement

এই মহকুমায় এক সময় গাঁজা খাওয়ার বিষয়টি শুধুমাত্র শিবের গাজনের সময় দেখা যেত। শিব মন্দিরে যাঁরা মহাদেবের ভক্ত হতেন তাঁদেরই ‘প্রসাদ’ হিসেবে গাঁজা দেওয়া হত। বিগত ১০-১৫ বছর হল গাঁজা সেবনের বিষয়টি সেই সীমা পেরিয়ে এক শ্রেণির মানুষের নেশা হিসেবেই কুখ্যাতি লাভ করেছে। আর বর্তমানে ঘাটাল মহকুমার বহু এলাকায় ১২-১৪ বছরের বালকেরাও নিয়মিত গাঁজার নেশা করছে বলে জানা গিয়েছে। তারা তাদের সিনিয়র দাদাদের কাছ থেকে অবলীলাক্রমে ওই ওই নেশার তালিম নিচ্ছে। বাদ যায়নি কিশোরী এবং যুবতীরাও। তবে ছেলেদের থেকে মেয়েদের গাঁজার নেশা করার প্রবণতাটা তুলনামূলকভাবে কম। কিন্তু কিশোরী বা যুবতীদের মধ্যে যারা নিয়মিত গাঁজার নেশা করে তারা অনেকটাই বেপরোয়া।  দাসপুর থানার এক সাব ইন্সপেক্টর বলেন, কিছুদিন আগে জোতঘনশ্যাম এলাকায় এক উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্রী রাতে টিউশনি যাওয়ার নাম করে বন্ধুদের সঙ্গে গাঁজার আড্ডায় বসে। নেশায় এতোটাই বিভোর ছিল নির্দিষ্ট সময়ে বাড়ি ফিরতে পারেনি। অনেক রাতে বাড়ির সামনে গাঁজার নেশায় বেঘোর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘাটাল শহরের অলিতে-গলিতে পান দোকানে গাঁজা পাওয়া যায় বলে অভিযোগ। গাঁজা সহজলভ্য হওয়ায় ছাত্রছাত্রীরা কৌতূহল বশে দাদা-দিদিদের কাছ থেকে এক-দু’টান দেয়। পরে সেটা তাদের নেশায় পরিণত হয়ে যায়। পুলিস জানিয়েছে, যেহেতু ২০-৩০ টাকার মধ্যেই গাঁজার নেশা করা যায়। আর বাইরে থেকে গাঁজার নেশা বোঝা যায় না তাই পরে ওই ছাত্রছাত্রীরাও নিয়মিত গাঁজার নেশা করে থাকে। 
ঘাটাল মহকুমার তিনটি থানা এলাকায় বেশ কয়েকটি গাঁজার ঠেক রয়েছে। বেলা পড়লেই  সেই সমস্ত ঠেকগুলিতে নব্য-আদি গাঁজারুদের লুকোচুরি শুরু হয়ে যায়। ঘাটাল শহরের এক নামী স্কুলের শিক্ষক বলেন, সন্ধ্যার পর শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বা ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের শ্মশানের পাশ দিয়ে আসি দেখি আমাদের স্কুলের ছাত্ররাই কল্কে হাতে নিয়ে গাঁজা টেনে মুখ টিপে দাঁড়িয়ে রয়েছে।
নিয়মিত গাঁজা খাওয়ার জন্য ছাত্রছাত্রীরা পড়াশোনায় মনযোগ হারাচ্ছে। যুবকরা অন্যান্য অসামাজিক কাজের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। পুলিস স্বীকার করেছে, যে সমস্ত দুষ্কৃতীকে ছিটকে চুরি বা ছোটখাটো দুষ্কর্মের জন্য ধরা হয়েছে তাদের অধিকাংশই স্বীকার করছে গাঁজার আড্ডার শেষে তারা ওই সমস্ত কাজের পরিকল্পনা করেছিল। ঘাটাল শহরের কুশপাতার বাসিন্দা তরুণ দাস গাঁজা বিক্রি এবং গাঁজার নেশার বিরুদ্ধে বরাবরই সরব। তিনি বলেন, এনিয়ে আমি বার বার সমাজ মাধ্যমে পোস্ট করার পাশাপাশি পুলিসকেও জানিয়েছি। কিন্তু কোনও কাজের কাজ কিছু হয়নি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ