তিরুবনন্তপুরম: ভূগোল স্যারের হাতে লকলকে বেত! তাতেই কেল্লা ফতে। পড়াশোনায় মনোযোগী গোটা ক্লাস। নেই টু শব্দটি...
তিরুবনন্তপুরম: ভূগোল স্যারের হাতে লকলকে বেত! তাতেই কেল্লা ফতে। পড়াশোনায় মনোযোগী গোটা ক্লাস। নেই টু শব্দটি...
নিষেধাজ্ঞার জেরে জেন-জিকে স্কুলে ‘বেতাসুরে’র সম্যক সাক্ষাৎ পেতে হয়নি বটে। তবে কেরলে এক ছাত্রকে বেত পেটা করে বিপাকে পড়তে হয় স্কুলের শিক্ষককে। তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করেছিলেন ছাত্রের অভিভাবক। তবে কেরল হাইকোর্ট ওই শিক্ষকের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা খারিজের নির্দেশ দিল। আদালত জানিয়ে দিল, অবাধ্য ও বেআদব ছাত্রকে বাগে আনতে শিক্ষক যদি সীমিত পরিসরে বেত্রাঘাত করেন, তাহলে মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যায় না।
কেরল হাইকোর্টের বিচারপতি সি প্রতীপ কুমার রায় ঘোষণা করতে গিয়ে বলেন, ছাত্রকে শৃঙ্খলার পাঠ দিতে শিক্ষকের ব্যবহার করা ‘বেত’ ভারতীয় ন্যয় সংহিতার (বিএনএস) ১১৮ নম্বর ধারায় বর্ণিত বিপজ্জনক অস্ত্রের তালিকায় পড়ে না। আদালতের স্পষ্ট বক্তব্য, ছাত্রের ক্ষতি করার কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে শিক্ষকের যদি না থাকে, তাহলে সরল বিশ্বাসে যুক্তিসঙ্গত শারীরিক শাস্তিপ্রদানের এক্তিয়ার তাঁর রয়েছে। এক্ষেত্রেও ওই স্কুল শিক্ষক তাঁর অধীনে থাকা এক ছাত্রকে শৃঙ্খলার পাঠ দিতে ও তার আচরণ সংশোধনের লক্ষ্যে সীমিত পরিসরে শারীরিক শাস্তি দিয়েছেন। তিনি তাঁর এক্তিয়ার অতিক্রম করেননি। কোনো অভিভাবকের সজ্ঞানে তাঁর সন্তানকে শিক্ষকের কাছে পাঠানোর অর্থ হল তিনি সেই এক্তিয়ার স্বীকার করছেন। কোনো ছাত্র স্কুলের নিয়ম মেনে উপযুক্ত আচরণ না করলে তার চরিত্র ও ব্যবহারে উন্নতির লক্ষ্যে শিক্ষক কোনো খারাপ উদ্দেশ্য ছাড়া যদি শাস্তি প্রদান করেন, তাহলে তিনি নিজের এক্তিয়ার ও সীমার মধ্যেই রয়েছেন বলে ধরতে হবে।
৩৬ বছরের ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিএনএসের ১১৮(১) ধারার পাশাপাশি জুভেনাইল জাস্টিস আইনের ৭৫ ধারাতেও (শিশুর উপর নির্দয়তার কারণে শাস্তি) মামলা করেছিলেন ছাত্রটির অভিভাবক। আদালতের নথি বলছে, ছাত্রকে স্টাফরুমের মধ্যে বেত্রাঘাতের ওই ঘটনা ঘটেছিল ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি। তবে এফআইআর দায়ের হয় তিন দিন পর, অর্থাৎ ১৩ তারিখ। মেডিকেল রেকর্ড অনুযায়ী, ভিঝিনজামের একটি কমিউনিটি হেল্থ সেন্টারে ছাত্রটির চিকিৎসা করানো হয়েছিল। তবে চিকিৎসকেরা বড়ো কোনো বাহ্যিক আঘাতের সন্ধান পাননি। আর সেই কারণেই জুভেনাইল জাস্টিস আইনের ৭৫ ধারায় শিশুর উপর নির্দয়তা প্রদর্শনের অভিযোগও খারিজ করে দেয় আদালত। কেরল হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ, শিশুকে অভিভাবক স্কুলে পাঠাচ্ছেন মানে, ছাত্রকে শৃঙ্খলার পাঠ দিতে সরল বিশ্বাসে শিক্ষকের বকাঝকা এমনকি সীমিত পরিসরে শারীরিক শাস্তিপ্রদানে তাঁদের সম্মতি রয়েছে বলেই ধরে নিতে হবে। শিক্ষকের আবেদনে সাড়া দিয়ে তিরুবনন্তপুরমের অতিরিক্ত দায়েরা আদালতে চলা ফৌজদারি মামলা খারিজ করার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। ছবি: এআই