Bartaman Logo
১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গণনার টেনশন কাটাতে সামাজিক অনুষ্ঠান, চা চক্রে প্রার্থীরা, কর্মীদের সঙ্গে চুলচেরা বিশ্লেষণ

ভোটের টেনশন কাটাতে হলদিয়া শিল্পাঞ্চল ও লাগোয়া বিধানসভার প্রার্থীরা কেউ সপরিবারে পুজো দিলেন মন্দিরে, কেউ ব্যস্ত চা চক্রে, ক্লাব কিংবা সামাজিক অনুষ্ঠানে।

গণনার টেনশন কাটাতে সামাজিক অনুষ্ঠান, চা চক্রে প্রার্থীরা, কর্মীদের সঙ্গে চুলচেরা বিশ্লেষণ
  • ১ মে, ২০২৬ ০৪:০০

সংবাদদাতা, হলদিয়া: ভোটের টেনশন কাটাতে হলদিয়া শিল্পাঞ্চল ও লাগোয়া বিধানসভার প্রার্থীরা কেউ সপরিবারে পুজো দিলেন মন্দিরে, কেউ ব্যস্ত চা চক্রে, ক্লাব কিংবা সামাজিক অনুষ্ঠানে। কেউ আবার মন দিয়েছেন নিজের ব্যবসায়। তবে মন পড়ে রয়েছে ৪মে গণনার দিকে। গণনার দিন যত এগিয়ে আসছে প্রার্থী থেকে নেতা-কর্মীদের টেনশন বাড়ছে। পার্টি অফিসে বুথভিত্তিক ভোট পর্যালোচনা চলছে। পঞ্চায়েত ও পুরসভার ওয়ার্ডগুলি থেকে এলাকাভিত্তিক রিপোর্ট আসছে। তা নিয়ে লিড ও ডেফিসিটের অঙ্ক কষা চলছে। ইভিএম থাকা স্ট্রংরুম পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রার্থীরা। গণদেবতার রায়ের উপর ভরসা রাখছেন হলদিয়া, মহিষাদলের মূল দুই প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল ও বিজেপির প্রার্থীরা। মহিলা ভোট ভরসা হলেও এই দুই কেন্দ্রে শ্রমিক ভোটই তুরুপের তাস। তৃণমূলের দাবি, সিওডির মাধ্যমে বেতন বাড়ায় খুশি শ্রমিকরা শাসকের পক্ষে রায় দেবেন। একইসঙ্গে বাম ভোট বাড়বে, দাবি সিপিএমের দুই প্রার্থীর। ফলে খানিকটা স্বস্তি তৃণমূল শিবিরে। বিজেপির আশা, মানুষ এবার পরিবর্তনের পক্ষে থাকবে শিল্পাঞ্চল। গত দেড় মাস ধরে প্রবল গরমে ভোটপ্রচারে রীতিমতো কাহিল হয়ে পড়েছেন তৃণমূল, বিজেপি, সিপিএম সব দলের প্রার্থীই। এখন আবার গণনার টেনশন। হলদিয়ার তৃণমূল প্রার্থী তথা বিদায়ী বিধায়ক তাপসী মণ্ডল বলেন, রেজাল্ট নিয়ে টেনশন থাকা তো স্বাভাবিক। এখন বিভিন্ন ক্লাবের পুজো, অনুষ্ঠানে যাচ্ছি, মনটা হালকা হচ্ছে। কাউন্টিং এজেন্টদের নিয়ে সকালে মিটিং করেছি। অঞ্চল ও ওয়ার্ডের রিপোর্ট নিয়ে কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করছি। উল্লেখ্য, গত লোকসভা ভোটে হলদিয়ায় তৃণমূল প্রায় ১৮হাজার ভোটে পিছিয়েছিল। ২০২৫সালে তাপসী তৃণমূলে যোগ দেন। তাঁর দলবদলের বিষয়টি এবার ভোটে ইস্যু করার চেষ্টা করে পদ্মশিবির। হলদিয়ার তৃণমূল নেতারা মহিলা ভোটের পাশাপাশি শ্রমিক ভোট নিয়ে আশাবাদী। রাজনৈতিক মহলের মতে, হলদিয়ায় শতাংশের বিচারে পুরুষদের তুলনায় মহিলা ভোটার বেশি ভোট দিয়েছেন।

Advertisement

তাপসীর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি প্রার্থী প্রদীপ বিজলি ভোটের পরদিন থেকেই শহর থেকে গ্রাম সর্বত্র চা চক্র করছেন। প্রদীপবাবু নিজে বন্দরের শ্রমিক নেতা। তিনি বলেন, ভোটের জন্য এলাকায় প্রচুর হেঁটে প্রচার করেছি। খুব ক্লান্ত ছিলাম, বিশ্রাম নেওয়ার পর শরীর ঠিক হয়েছে। তবে জনসংযোগ বজায় রাখতে চা চক্র করছি। এলাকার কর্মীদের নিয়ে পর্যোলোচনা চলছে। হলদিয়ার মানুষ পাল্টানোর পক্ষেই রায় দিয়েছেন।
বুধবার সন্ধ্যায় হলদিয়া ও মহিষাদলের সব দলের প্রার্থী ও কর্মীরা শেষ দফার ভোট রিভিউ মিটিংয়ে বসেন। মহিষাদলের তৃণমূল প্রার্থী তথা বিদায়ী বিধায়ক তিলক চক্রবর্তী মঙ্গলবার মন্দিরে পুজো দিয়েছেন। তিনি বলেন, দ্বিতীয় দফার ভোট শেষ হলেই রাজ্যে বিধানসভা ভিত্তিক ভোট রিভিউ রিপোর্ট পাঠাতে হবে। এজন্য মিটিং করেছি। মহিষাদলের ৮০হাজার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রাপক মহিলার উপর ভরসা রয়েছে তৃণমূলের। মহিলা ভোট বেশিও পড়েছে এবার। মহিষাদল বিধানসভার বিজেপি নেতা চন্দন সামন্ত বলেন, আমাদের প্রার্থী সুভাষচন্দ্র পাঁজা রাজনীতিতে নতুন হলেও ভোটের সময় দারুণ জনসংযোগ করেছেন। 
মহিষাদলে এবার নীরব বিপ্লব হয়েছে। নির্মাণ ব্যবসায়ী সুভাষবাবু ভোটের পরদিন থেকেই অফিস সামলানোর কাজে মগ্ন। হলদিয়া শিল্পাঞ্চল ও লাগোয়া মহিষাদলে এবার রামের ভোট বামে ফিরবে বলে আশা করছেন বাম নেতারা। তাঁদের ধারনা, হলদিয়া ও মহিষাদলে সিপিএম প্রার্থীদের ভোট ৩-৪শতাংশ বেড়ে যাবে। হলদিয়ায় সিপিএমের ভোট বেড়ে ১১ শতাংশ থেকে ১৩-১৪ শতাংশ হতে পারে। মহিষাদলে ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ১০শতাংশ হতে পারে। সিপিএম প্রার্থী পরিতোষ পট্টনায়ক বলেন, প্রথম দফার ভোট শেষ করে দ্বিতীয় দফার ভোটপ্রচারে ছিলাম। পর্যালোচনা করে দেখেছি, বামেদের ভোট বাড়বে। বিজেপির প্রতি মানুষের মোহভঙ্গ হয়েছে। 

সম্পর্কিত সংবাদ