নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: আজ, খুশির ইদ। আর এই উৎসবের আবহে জনসংযোগের সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইছেন না জেলার যুযুধান প্রার্থীরা। উত্সবের এই দিনটিতে সংখ্যালঘু মানুষদের সঙ্গে কাটিয়ে নিজেদের ভোট ব্যাংক সুনিশ্চিত করতে চাইছেন জেলার হেভিওয়েট প্রার্থীরা। ইদগাহ থেকে মাজার সরাসরি প্রচার না হলেও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মোড়কে জনসংযোগ করবেন প্রার্থীরা। রাজনৈতিক মহলের অবশ্য দাবি, ইদের দিন ইদগাহে যাওয়া বা পাড়ায় পাড়ায় অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া এখন আর নিছক ধর্মীয় সৌজন্য নয়, বরং ভোটের কঠিন পাটিগণিতে টিকে থাকার চাবিকাঠি।
সিউড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় ইদ উপলক্ষে নিজের যাবতীয় আনুষ্ঠানিক প্রচার দু’দিনের জন্য স্থগিত রেখেছেন। তবে এই ‘বিরতি’ আসলে এক গভীর রণকৌশল। জানা গিয়েছে, আলুন্দ, সাহাপুর ও নগরী পঞ্চায়েত এলাকার অন্তত ১৫টি ইদের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ রয়েছে তাঁর। রাজনৈতিক মহলের মতে, সরাসরি ভোট না চেয়েও সংখ্যালঘু মানুষের কাছে পৌঁছে গিয়ে ব্যক্তিগত হৃদ্যতা তৈরি করাই উজ্জ্বলবাবুর আসল লক্ষ্য। সিউড়ির মতো কেন্দ্রে যেখানে সংখ্যালঘু ভোট জয় পরাজয়ের নির্ণায়ক হতে পারে, সেখানে এই দু’দিনের ‘ম্যারাথন’ জনসংযোগ বিরোধীদের তুলনায় তাঁকে অনেকটাই এগিয়ে রাখবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
একই ছবি রামপুরহাটেও। বিদায়ী মন্ত্রী তথা তৃণমূল প্রার্থী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ইদগাহ মাঠ বা শহরের বিভিন্ন সংখ্যালঘু পাড়ায় যাবেন। বোলপুরের প্রার্থী চন্দ্রনাথবাবুও ইদগাহে গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি একাধিক নিমন্ত্রণ রক্ষা করবেন। তবে, তৃণমূল প্রার্থীরা জানাচ্ছেন, ইদের সঙ্গে ভোটের কোনো সম্পর্ক নেই।
কিন্তু, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন অন্য কথা। জেলার অধিকাংশ আসনে সংখ্যালঘু ভোট ব্যাংক তৃণমূলের অন্যতম শক্তি। বিজেপি যখন হিন্দুত্বের তাস খেলছে, তখন সংখ্যালঘু ভোট যাতে কোনোভাবেই হাতছাড়া না হয়, তা নিশ্চিত করতেই তৃণমূল প্রার্থীরা উৎসবের আঙিনাকেই রাজনৈতিক মঞ্চ হিসেবে বেছে নেবেন।
অবশ্য বিপরীত মেরুতে হাসনের তৃণমূল প্রার্থী কাজল শেখ। তিনি ইদের দিন ঘরোয়া পরিবেশেই থাকতে চান। পরিবার ও আত্মীয়দের সঙ্গে ইদ কাটানোর পাশাপাশি নিজের গড়ে জনসংযোগ করবেন তিনি। আবার বীরভূমের দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডল ইদের দিন দুপুরে দলীয় কার্যালয়েই কাটাবেন বলে খবর। সেখানে বিভিন্ন স্তরের মানুষ তাঁর সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করতে আসবেন। এর মাধ্যমে তিনি দলীয় কর্মীদের চাঙ্গা রাখার পাশাপাশি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গেও সংযোগ রক্ষা করবেন।
পিছিয়ে নেই বাম প্রার্থীরাও। সিউড়ির বাম প্রার্থী মতিউর রহমান আজ, ইদের দিন পুরোদস্তুর জনসংযোগের কাজে লাগাবেন। সংখ্যালঘু ভোটব্যাংকে তৃণমূলের একাধিপত্যে ফাটল ধরাতে তাঁর এই সক্রিয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চোখেই দেখছে রাজনৈতিক মহল।