সুমন তেওয়ারি, আসানসোল: নিমচা কোলিয়ারি হিন্দি এফপি স্কুল। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নজরদারিতে শান্তিতে ভোট হচ্ছিল বুথে। নিরাপত্তা রক্ষীকে নিয়ে বুথে ঢুকলেন অগ্নিমিত্রা। বোরখা পরে সংখ্যালঘু মহিলাদের লম্বা লাইন। বুথের ভেতরে ঢুকে অগ্নিমিত্রা বেরিয়ে এলেন। বুথের ভেতর থেকে কংগ্রেস পোলিং এজেন্ট পরিচয় দিয়ে অনিক চাকলাদার অগ্নিমিত্রা পলকে গোপনে কিছু বললেন। এরপরই অগ্নিশর্মা অগ্নিমিত্রা।
কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের উদ্দেশে বলেন, কেন আপনারা মহিলাদের মুখে খুলে দেখে বুথে ঢোকাচ্ছেন না। কেন্দ্রীয় বাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক শম্ভু সিং বলেন, এটা বিএলওর কাজ। অগ্নিমিত্রা বলেন, বিএলও তো রাজ্য সরকারের কর্মী। আপনাদের আনা হয়েছে কি জন্য। নির্দেশ ভাঙবেন না। এরপরই সুর সপ্তমে তুলে তিনি বলেন, তৃণমূল কী আপনাদের খিলায়া, পিলায়া? জাওয়ান বলেন, মহিলাদের মুখ খুলে আমরা কী করে দেখব? মহিলা নেত্রী বলেন, তা বললে হবে না। প্রয়োজনে মহিলা বাহিনী আনুন। পরে সংবাদমাধ্যমে তিনি বলেন, মুখ ঢেকে যেই আসবে তাঁর মুখ খুলে দেখতে হবে। এরপর মহিলা কেন্দ্রীয় বাহিনী তা করতে গেলে স্থানীয় মহিলারা প্রতিবাদ করেন। ততক্ষণে এলাকা ছেড়েছেন বিজেপি প্রার্থী।
বেলা বাড়ার সাথে সাথে তিনি নিজের বিধানসভা এলাকার রহমতনগর যান। তিনি অভিযোগ করেন, সেখানে পাথর দিয়ে তাঁর গাড়ির কাঁচ ভাঙা হয়েছে। সেই গাড়ি নিয়ে হীরাপুর থানা গেলেও লিখিত অভিযোগ করেননি। হিজাব খোলানোর ফরমান দেওয়া অগ্নিমিত্রাই আবার বলেন, রহমতনগর মুসলিম এলাকা। মুসলমান তৃণমূলের সম্পত্তি নয় আমাদেরও কাছের লোক। ওই এলাকার স্থানীয় মানুষের দাবি, উনি নাটক করছেন।
এদিন নিমচা এলাকায় অগ্নিমিত্রার সঙ্গে এক পুলিশ আধিকারিকের বচসা হতেও দেখা যায়। পুলিশ আধিকারিক বলেন, প্রার্থীর তিনটির বেশি গাড়ি নিয়ে ঘুরতে পারেননা। অগ্নিমিত্রা বলেন, এগুলির মিডিয়ার গাড়ি। আমার দুটি গাড়ি। এদিন সকালে আসানসোলে ভোট দিতে যাওয়ার সময়েই তিনি বলেন, কমিশন এমন ব্যবস্থা করেছে এবার একটা মাছিও গলতে পারবে না। তৃণমূল খুব চিন্তায় আছে। তার কিছুক্ষণ পরেই আবার বলেন, তৃণমূল খড়গপুর থেকে দুষ্কৃতী এনেছে। বিভিন্ন এলাকায় হুমকি দিয়ে মানুষকে ভয় দেখানো শুরু করেছে। এভাবেই দিনভর নিজের অবস্থান বদল করেছেন রাজ্য বিজেপির সহ সভাপতি।
আসানসোলে ভোট দিয়েই তিনি চলে যান আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভা এলাকার গ্রামীণ এলাকাগুলিতে। তিরাট, হাড়াভাঙা, ডামালিয়া বিভিন্ন জায়গায় যান। দামী গাড়িতে নেত্রী তাঁর পিছনে তাঁর কেন্দ্রীয় নিরাপত্তার বাহিনীর গাড়ি। আর রাজ্যের বিরোধী নেত্রীর পিছনে একের পর এক মিডিয়ার গাড়ি। গ্রামের রাস্তা দিয়ে প্রার্থীর গাড়ি ছুটেছে কনভয়ের ধাঁচে। ভোট দিতে যাচ্ছিলেন রীতা ঘোষ। তিনি বলেন, গাড়িগুলো কেমন কারে যাচ্ছে দেখলেন। মনে হচ্ছে পিষে দেবে। গাড়ির কাঁচ তোলা থাকায় নেত্রীর কানে সেই খবর পৌঁছায়নি। অদূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন বৈদ্যনাথ বাউরি। তিনি বলেন, তাপস দা আমাদের ঘরের লোক, অগ্নিমিত্রা এতদিন কোথায় ছিলেন!
গ্রামের অলিতে গলিতে ভোটার তালিকা নিয়ে বসে রয়েছেন মানুষ। পুরুষদের পাশে রয়েছেন মহিলারাও। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এরা সবাই তৃণমূলের হয়ে ভোট করাচ্ছেন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে লোকদের নিয়ে আসছেন। আর অগ্নিমিত্রাকে দেখলেই দশ
হাতে দূরে সরে যাচ্ছেন। তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী তাপস বন্দোপাধ্যায়ের এই নীরব ভোট কৌশল বুঝেই কী মেজাজ হারাচ্ছেন নেত্রী! তাপস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমাদের প্রতিটি কর্মী পরিশ্রম করে তৃণমূলের জয় নিশ্চিত করে দিয়েছে। এটা বুঝতে পেরেই উনার এমন দশা। - নিজস্ব চিত্র