Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ছাড় পাননি ক্যান্সার আক্রান্ত শিক্ষিকা ইপ্সিতা, চাকরি গিয়েছে তাঁর স্বামীরও, দু’বছরের ছেলেকে নিয়ে অথৈ জলে দম্পতি

ছাড় পাননি ক্যান্সার আক্রান্ত শিক্ষিকা ইপ্সিতা, চাকরি গিয়েছে তাঁর স্বামীরও, দু’বছরের ছেলেকে নিয়ে অথৈ জলে দম্পতি
  • ৫ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: নলহাটির ক্যান্সার আক্রান্ত শিক্ষিকা সোমা দাসকে ছাড় দিয়েছে শীর্ষ আদালত। কিন্তু ছাড় পাননি কৃষ্ণনগরের ইপ্সিতা ঘোষাল নন্দী। তিনিও ক্যান্সার আক্রান্ত। দাঁইহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ছিলেন। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের রায়ে চাকরি হারিয়ে দিশাহারা তিনি। শুধু ইপ্সিতার চাকরিই যায়নি। চাকরি খুইয়েছেন তাঁর স্বামী কাটোয়ার রামকৃষ্ণ বিদ্যাপীঠের বিজ্ঞানের শিক্ষক অর্ক নন্দীও। প্রাথমিকে চাকরি পেয়ে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন তাঁরা। বিয়ের ছ’মাসের মধ্যেই ইপ্সিতার ক্যান্সার ধরা পড়ে। এরপর স্বামী-স্ত্রী দুজনে এসএসসি দিয়ে কাটোয়ার দু’টি স্কুলে চাকরি করছিলেন। আদালতের রায় শোনার পর শিক্ষক দম্পতির মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে। চিকিৎসার খরচ কীভাবে জোটাবেন, দু’ বছরের ছেলের কী হবে তা ভেবে কুলকিনারা পাচ্ছেন না তাঁরা। আদালতের নির্দেশে কাটোয়া মহকুমাজুড়ে শিক্ষক অশিক্ষক মিলিয়ে প্রায় দুশোজনের চাকরি বাতিল হয়েছে। বৃহস্পতিবার চাকরি হারানোর খবর শুনে চোখে সর্ষেফুল দেখতে শুরু করেন নন্দী দম্পতি। চোখে জল নিয়ে স্কুল ছাড়েন তাঁরা। দু’জনেই বিজ্ঞান পড়াতেন। ২০১৮ সালে এই চাকরিতে যোগ দেন। তার আগে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি করতেন দুজনে। সেই চাকরি ছেড়ে তাঁরা স্কুল সার্ভিস কমিশনে বসেন। অর্কবাবু বলেন, বিয়ের ছ’ মাসের মধ্যেই স্ত্রীর স্টমাক ক্যান্সার ধরা পড়ে। তারপর ব্যয়বহুল চিকিৎসা শুরু হয়। এখন কী করব বুঝতে পারছি না। কাটোয়া শহরে ভাড়াবাড়িতে থাকি। পরিবারের সবাই ভেঙে পড়েছেন। টিউশন করে পেট চালাতে হবে। আদালত বলেছে, পুরানো চাকরিতে ফিরতে পারব। কিন্তু সে ক্ষেত্রে আমার অসুস্থ স্ত্রীকে উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলায় যেতে হবে। কারণ আগে তিনি সেখানেই চাকরি করতেন। ইপ্সিতা বলেন, আমার মাসে ২০ হাজার টাকার ওষুধ লাগে। তার উপর দু’ বছরের ছেলে রয়েছে। কী করব ভেবে পাচ্ছি না। অর্ক যে স্কুলে শিক্ষকতা করতেন, সেই কাটোয়ায় রামকৃষ্ণ বিদ্যাপীঠের ৩ জন শিক্ষক ও ৩ জন চতুর্থ শ্রেণির কর্মী চাকরি খুইয়েছেন। স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুবীর মণ্ডল বলেন, এমন অবস্থা হয়েছে যে, তালা খোলার কেউ নেইআমাকেই স্কুলের তালা খুলতে হচ্ছে। কাটোয়ার দুর্গাদাসী চৌধুরানি বালিকা বিদ্যালয়ে ৬ জন চাকরি হারিয়েছেন। কাশীরাম দাস বিদ্যায়তনের ৪ জন। এর মধ্যে একজন অশিক্ষিক কর্মীও আছেন। পানুহাট রাজমহিষী বিদ্যালয়ের ৪ জনের চাকরি হারানোর খবর মিলেছে। এর মধ্যে ১ জন অশিক্ষক কর্মী। এছাড়া এখনও পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী দাঁইহাট গার্লস স্কুলে একজন চাকরি হারিয়েছেন, মেঝিয়ারি স্কুলে দু’ জন। তবে ক্যান্সার আক্রান্ত ইপ্সিতা ঘোষালের পরিবার শেষ হতে বসেছে। ভালোবেসে ভালো চাকরি পেয়ে সংসার পেতেছিলেন নন্দী দম্পতি। অসুস্থ স্ত্রীকে চিকিৎসা করাতে হিমশিম খেতে হচ্ছিল তাঁদের। এরমধ্যে চাকরি হারানোর খবরে দুশ্চিন্তায় মাথা খারাপ হওয়ার জোগাড় গোটা পরিবারের।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ