Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রেল হাসপাতালের টালবাহানায় চরম ভোগান্তি ক্যান্সার আক্রান্ত রেলকর্মীর

রেল হাসপাতালের টালবাহানায় চরম ভোগান্তি ক্যান্সার আক্রান্ত রেলকর্মীর
  • ৪ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: রেল হাসপাতালের টালবাহানায় চিকিৎসা করাতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হলেন ক্যান্সার আক্রান্ত রেলকর্মী। ঘটনাটি ঘটেছে আসানসোলের ডিভিশনাল রেলওয়ে হাসপাতালে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবার তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। প্রাক্তন রেলকর্মীরা হাসপাতালে এসে তুমুল বিক্ষোভ দেখান। চাপে পড়ে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। প্যাসেঞ্জার ট্রেনের সিনিয়র ট্রেন ম্যানেজার পোস্টে অবসর নিয়েছেন শম্ভু সিং। আসানসোলের বাসিন্দা ২০২৩ সালে চাকরি থেকে অবসর নেন। ২০২৪ সাল থেকে তিনি কাশির সমস্যায় আক্রান্ত হন। শিল্পাঞ্চলে দীর্ঘদিন চিকিৎসা করানোর পর আসানসোল রেলওয়ে ডিভিশন হাসপাতালই তাঁকে চিকিৎসার জন্য মুম্বইয়ের টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে তাঁর ফুসফুসে ক্যান্সার ধরা পড়ে। রোগীর দাবি ক্যান্সারটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এমন ক্যান্সারে তিনি আক্রান্ত হয়েছেন। ১১ মার্চ সেখানে প্রথম কেমো দেওয়া হয়। তারপর সেই হাসপাতাল রেলওয়ে হাসপাতালকে বাকি তিনটি কেমো দেওয়ার সুপারিশ করে। রোগীর দাবি, দ্বিতীয় কেমো দেওয়ার কথা ছিল ১ এপ্রিল ও তৃতীয় কেমো পড়ার সময় ছিল তার থেকে ২১ দিন পর। এই অবস্থায় তিনি হাসপাতালে ফিরে পুরো বিষয়টি হাসপাতালের চিফ মেডিক্যাল সুপারিন্টেন্ডেন্ট বীণা মারডিকে জানান বলে রোগীর দাবি। অভিযোগ এরপরই শুরু হয় টালবাহানা। শিয়ালদহতে রেলের বিআরসিং হাসপাতালে কেমো দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু কেমোর ওষুধটি আসানসোল ডিভিশনাল হাসপাতালকেই কিনে দিতে হবে। তা না হওয়ার নির্ধারিত সময়ে তিনি কেমো পাননি। উল্টে আসানসোল ও শিয়ালদহ হাসপাতালে ছোটাছুটি করে শরীরিক অবস্থার অবনতি হয় তাঁর। এই অবস্থায় এদিন প্রাক্তন রেলকর্মীরা একত্রিত হয়ে শম্ভু সিংকে নিয়ে হাসপাতালে আসেন। একজন ক্যান্সার আক্রান্ত রেলকর্মীকে রেলের হাসপাতালে হয়রানির করানোর অভিযোগ সরব হন তাঁরা। ধর্নায় বসার প্রস্তুতিও ছিল তাঁদের। প্রাক্তন শ্রমিকদের ক্ষোভের আঁচ পেয়ে জটিলতা কাটাতে তৎপর হয় রেল প্রশাসন। সিদ্ধান্ত হয় বৃহস্পতিবারই বিআর সিং হাসপাতালে তাঁকে কেমো দেওয়া হবে। 

Advertisement

শম্ভু সিং বলেন, আমরা রেলকে এতবছর সার্ভিস দেওয়ার পরও এমন ভোগান্তি কী আমাদের পাওনা? শ্রমিক নেতারা সরব না হলে হয়তো সমাধান হতো না। রেল তার কর্মীদের প্রতি আরও মানবিক হোক।
আসানসোল ডিভিশনের জনসংযোগ আধিকারিক বুদ্ধদেব বাউরি বলেন, সমন্বয়ের অভাব হয়েছিল। এখন জটিলতা মিটে গিয়েছে। যদিও হাসপাতালের এক শীর্ষ আধিকারিক দাবি করেছেন, রোগী সময়মতো তথ্য না দেওয়ার জেরেই বিভ্রান্তি হয়েছিল। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ