Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নির্ধারিত সময়ের পরেও প্রচার, বিজেপি প্রার্থীকে ঘরে আটকে রাখলেন বাসিন্দারা

নির্ধারিত সময়ের পরেও বাড়িতে ঢুকে প্রচার করছিলেন। তার জেরে বড়ঞার বিজেপি প্রার্থীকে ঘরে ভরে আটকে দিলেন বাসিন্দারা। বুধবারের ঘটনায় ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা বিক্ষোভ দেখাতেই প্রার্থী সেখান থেকে চম্পট দেন।

নির্ধারিত সময়ের পরেও প্রচার, বিজেপি প্রার্থীকে ঘরে আটকে রাখলেন বাসিন্দারা
  • ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কান্দি: নির্ধারিত সময়ের পরেও বাড়িতে ঢুকে প্রচার করছিলেন। তার জেরে বড়ঞার বিজেপি প্রার্থীকে ঘরে ভরে আটকে দিলেন বাসিন্দারা। বুধবারের ঘটনায় ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা বিক্ষোভ দেখাতেই প্রার্থী সেখান থেকে চম্পট দেন। পরে কেন্দ্রীয় বাহিনী পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার পিছনে তৃণমূলের ইন্ধনের অভিযোগ তুলেছেন বিজেপি প্রার্থী। তবে তৃণমূলের দাবি, বিজেপির বিরুদ্ধে আমজনতা একজোট হয়েছে।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বড়ঞা বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত রয়েছে ভরতপুর-১ ব্লকের তিনটি পঞ্চায়েত। এর মধ্যে এদিন বেলা ১১টা নাগাদ বড়ঞার বিজেপি প্রার্থী সুখেনকুমার বাগদিকে ভরতপুর-১ ব্লকের গড্ডা পঞ্চায়েতের গড্ডা গ্রামের কয়েকটি বাড়িতে ঘুরতে দেখা যায়। অথচ মঙ্গলবার রাজনৈতিক দলগুলির ভোটের প্রচারের সময়সীমা পার হয়ে গিয়েছে। এরপরেও বিজেপি প্রার্থীকে বাড়ি বাড়ি ঘুরতে দেখে বাসিন্দারা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। স্থানীয় বাসিন্দা বজলে রহমান বলেন, মঙ্গলবার প্রচারের সময় পার হয়ে গেলেও এদিনও বিজেপি প্রার্থী কয়েকজনকে নিয়ে বাড়ি বাড়ি প্রচার করছিলেন। তারই প্রতিবাদ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিজেপি প্রার্থী ওই গ্রামের একটি বাড়িতে থাকার সময় বাসিন্দারা তাঁকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। পরে বিজেপি প্রার্থীকে ওই ঘরে ভরে আটকে দেন। বাসিন্দাদের সঙ্গে বচসা বেধে যায় বিজেপি প্রার্থীর সঙ্গে থাকা সিকিউরিটির। ওই সিকিউরিটি সাধারণ পোশাকে থাকা নিয়েও ঝামেলা হয়। সেই ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে। যদিও তার সত্যতা যাচাই করেনি ‘বর্তমান’। তাতে দেখা গিয়েছে, গেরুয়া রঙের জামা ও সাদা পাজামা পরে বিজেপি প্রার্থীকে একটি চৌকিতে বসিয়ে রাখা হয়েছে। পাশে রয়েছেন আরও কয়েকজন বিজেপি কর্মী। একটি প্লাস্টিকের চেয়ারে বসে রয়েছেন প্রার্থীর সিকিউরিটি। ঘরের ভিতরেই বাসিন্দারা বিজেপি প্রার্থীকে এদিন কেন ভোট প্রচারে বেরিয়েছেন, জানতে চেয়ে ঝামেলা করছেন।
কিছুক্ষণ আটকে রাখার পর বিজেপি প্রার্থী সেখান থেকে চলে যাবেন বলে জানালে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু, বিজেপি প্রার্থী বাইরে বের হতেই বহু মানুষ তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। এসআইআরে নাম বাদ যাওয়া নিয়ে প্রার্থীর কাছে কৌফিয়ৎ তলব করতে থাকেন বাসিন্দারা। এরপর সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনী পৌঁছালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ঘটনার পর বিজেপি প্রার্থী বলেন, এদিন কোনো প্রচারে আসিনি। এই বুথে আমাদের কর্মীদের কাছে এখনো ভোটার তালিকা এসে পৌঁছায়নি। যে কারণে ব্যাপারটি দেখতে এসেছিলাম। তৃণমূল এখানকার মানুষদের ইন্ধন দিয়ে ওই ঘটনা ঘটিয়েছে। তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার রাতে এই গ্রামে একটি ঝামেলা হয়েছে। যে কারণে আমাদের কর্মীরা আতঙ্কিত। এদিন তাঁদের সাহস জোগানোর জন্য এসেছিলাম। প্রশাসনের কাছে এদিন থেকেই এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের অনুরোধ করা হয়েছে। তৃণমূলের বড়ঞা ব্লক উত্তর সভাপতি গোলাম মুর্শিদ বলেন, বিজেপি যে কাণ্ড কারখানা করে চলেছে, তাতে মানুষকে ইন্ধন জোগানোর দরকার নেই। বিজেপির বিরুদ্ধে মানুষ জেগে উঠেছে। এদিন ঘটনার পিছনে আমাদের দলের কোনো কর্মী জড়িত নেই। মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ