নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: পাকিস্তান জঙ্গিদের মদতদাতা। এই তকমা লাগিয়ে বিশ্বমঞ্চে পাকিস্তানকে একঘরে করার নতুন পন্থা নিল মোদি সরকার। এবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজধানী শহরগুলিতে গিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জঙ্গি মদতের অভিযোগ এবং অপারেশন সিন্দুরের প্রচার বাড়ানো হবে। তবে বিষয়টিকে নেহাতই সরকারি কর্মসূচি না করে গণতান্ত্রিক ভারতের রূপ দেওয়া হচ্ছে। সেই মতো সর্বদলীয় প্রতিনিধিদল পাঠানো হবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। বিদেশমন্ত্রকের ব্যবস্থাপনায় আগামী ২২-২৭ মে আমেরিকা, ব্রিটেন, দক্ষিণ আফ্রিকা, কাতারের মতো দেশে যাওয়া হবে বলেই জানা গিয়েছে।
সংসদ বিষয়কমন্ত্রী কিরেন রিজিজু বৃহস্পতিবার রাতে বিষয়টি জানিয়ে সব রাজনৈতিক দলের নেতাকে ফোন করেন। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গেকে ফোন করে প্রতিনিধিদলে যোগ দিতে অনুরোধ করেন। ফোন যায় তৃণমূলের লোকসভার নেতা সুদীপ বন্দ্যেপাধ্যায়ের কাছেও। বলা হয়, পাঁচ-সাতজন সাংসদকে নিয়ে ছোট ছোট গ্রুপ করে বিভিন্ন দেশে পাঠানো হবে। একটি গ্রুপে কংগ্রেস সাংসদ তথা বিদেশ সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান শশী থারুরকে সভাপতি করা হয়েছে। সেই গ্রুপেই ওয়াশিংটন এবং লন্ডন যেতে সুদীপবাবুকে অনুরোধ করা হয়। যদিও এত অল্প সময়ের মধ্যেই বিদেশ যাওয়ার এই কর্মসূচিতে তিনি যোগ দিতে পারছেন না বলেই রিজিজুকে সবিনয়ে জানিয়ে দেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।
অন্যদিকে, কংগ্রেসের প্রধান মুখপাত্র তথা রাজ্যসভার মুখ্য সচেতক জয়রাম রমেশ শুক্রবার বলেন, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সরকারের এই উদ্যোগে অবশ্যই অংশ নেব। কারণ দেশ সবার আগে। তাছাড়া সেনাবাহিনীর অপারেশন সিন্দুর অত্যন্ত গর্বের বিষয়। তাদের কুর্নিশ করে কংগ্রেস। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এই দ্বিচারিতা কেন? জয়রামের মন্তব্য, পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার ইস্যুই হোক বা অপারেশন সিন্দুর, দেশের মধ্যে সরকার সর্বদলীয় বৈঠক ডাকলে সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আসেন না। নিজেও কোনও বৈঠক ডাকছেন না। সংসদের বিশেষ অধিবেশনও ডাকা হচ্ছে না। অথচ এখন বিদেশে গিয়ে পাকিস্তানে জঙ্গি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে ভারতের অবস্থানের প্রচারে সর্বদলীয় প্রতিনিধিদল পাঠানো হচ্ছে। এ তো মোদির দ্বিচারিতা।