


সংবাদদাতা, করিমপুর: নতুন সরকারের কড়া অবস্থানের পর তেহট্ট মহকুমা জুড়ে হেলমেটবিহীন মোটরবাইক চালকদের বিরুদ্ধে জোরদার অভিযান শুরু করেছে ট্রাফিক পুলিশ। গত তিন দিনে ২৫ জন বাইক আরোহীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের কাছে থেকে জরিমানাও আদায় করা হয়েছে। পাশাপাশি বহু চালককে সতর্ক করে সচেতনতার বার্তাও দেওয়া হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
ট্র্যাফিক পুলিশ সূত্রে খবর, শুধুমাত্র জরিমানা করাই নয়, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন মূল লক্ষ্য। হেলমেট ছাড়া বাইক চালানো, বেপরোয়া গতি এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করার বিরুদ্ধে প্রতিটি এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। করিমপুর, থানারপাড়া, হোগলবেড়িয়া, মুরুটিয়া, তেহট্ট, পলাশীপাড়া ও চাপড়া থানার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় চেকিং চলছে।
জানা গিয়েছে, তেহট্ট মহকুমা ট্র্যাফিক পুলিশের অধীনে তিনটি উইংসে সাতটি থানা এলাকা রয়েছে। করিমপুর উইংসের অধীনে রয়েছে করিমপুর, থানারপাড়া, হোগলবেড়িয়া ও মুরুটিয়া থানা। তেহট্ট উইংসে রয়েছে তেহট্ট ও পলাশীপাড়া থানা এবং চাপড়া উইংসে রয়েছে চাপড়া থানা। এই সমস্ত এলাকাতেই একযোগে অভিযান চালানো হচ্ছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর সোমবার নবান্নে পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে প্রথম বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দেন যে, রাস্তায় হেলমেট ছাড়া মোটরবাইক চালানো কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। এরপরই জেলা ও মহকুমা স্তরে পুলিশ প্রশাসন সক্রিয় হয়ে ওঠে। তারই অংশ হিসেবে তেহট্ট মহকুমা ট্রাফিক পুলিশ বিশেষ অভিযান শুরু করেছে। পুলিশ আধিকারিকদের দাবি, হেলমেট না পরার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের অজুহাত প্রায়ই শোনা যায়। কিন্তু, এবার সরাসরি আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হেলমেট ছাড়া ধরা পড়লেই এক হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় থানার সঙ্গে সমম্বয় রেখে বাইক আরোহীদের নিরাপত্তা বিধি মানতে বাধ্য করার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে, করিমপুর সহ সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, শুধু হেলমেটবিহীন আরোহীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেই হবে না, এলাকায় দ্রুতগতির এবং বিকট শব্দ করা বাইকের বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। স্থানীয়দের দাবি, বহু অল্পবয়সি যুবক বেপরোয়া গতিতে বাইক চালিয়ে সাধারণ মানুষের আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠছে। বাজার এলাকা ও জনবহুল রাস্তায় এই ধরনের বাইকের দৌরাত্ম্য বাড়ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।