আবুধাবি: নিলামে রেকর্ড গড়া কলকাতা নাইট রাইডার্সের পুরোনো অভ্যাস। এর আগে ২৪ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকায় মিচেল স্টার্ককে কিনেছিল তারা। নিলামে সেটাই এতদিন ছিল বিদেশিদের সর্বাধিক দর। কিন্তু মঙ্গলবার কেকেআরের হাতেই ভাঙল সেই রেকর্ড। ২৫.২ কোটি টাকায় ক্যামেরন গ্রিনকে নিয়ে চমক শাহরুখ খানের ফ্রাঞ্চাইজির।
মিনি নিলামের আগে আন্দ্রে রাসেলকে ছেড়ে দিয়েছিল কেকেআর। ক্যারিবিয়ান তারকা এখন কলকাতা ফ্র্যাঞ্চাইজির পাওয়ার কোচ। রাসেলের বিকল্প হিসেবেই পাওয়ার হিটার-অলরাউন্ডার গ্রিনকে পাখির চোখ করে নাইটরা। তবে নিলামে এই অজি তারকাকে পেতে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স, রাজস্থান রয়্যালস ও শেষে চেন্নাই সুপার কিংসের বিরুদ্ধে হাড্ডাহাড্ডি দর কষাকষি চলল কলকাতার। শেষ পর্যন্ত যদিও জয়ী কেকেআর। কারণ, মিনি নিলামে সবচেয়ে বেশি ৬৪. ৩ কোটি টাকা নিয়ে নেমেছিল তারা। তার মধ্যে খরচ হয়েছে ৬৩.৭৫ লক্ষ টাকা। মোট ১৩ জনকে নিলামে নেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে ছয়জনই বিদেশি।
গ্রিনই অবশ্য সবচেয়ে বেশি নজর কাড়লেন। নিলামে ‘ক্যামেরন গ্রিন সোল্ড টু কেকেআর’ ঘোষণা হতেই কোচ অভিষেক নায়ারের মুখে দেখা গিয়েছিল হাজার ওয়াটের হাসি। কারণ, বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি রাসেলের মতো বল হাতেও কার্যকরী ভূমিকা নেওয়ার ক্ষমতা ধরেন ২৬ বছর বয়সি। ভিডিও বার্তায় গ্রিন বলেছেন, ‘ইডেনে খেলতে মুখিয়ে আছি। প্রতিটা মুহূর্ত উপভোগ করতে চাই। শীঘ্রই দেখা হবে। আমি কেকেআর।’ উল্লেখ্য, জন্মের সময়ই কিডনির সমস্যা ধরে পড়ে তাঁর। তা নিয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সফল গ্রিন।
অস্বীকার করার জায়গা নেই, এবার নিলামে সবচেয়ে বেশি অঙ্কের ভাঁড়ারের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করেছে কেকেআর। ১৮ কোটিতে তারকা পেসার মাথিশা পাথিরানাকে তুলে নেওয়া তার বড় প্রমাণ। শ্রীলঙ্কান এই তরুণ এখন বিশ্বক্রিকেটের অন্যতম সেরা টি-২০ স্পেশালিস্ট পেসার। পাথিরানা বলেছেন, ‘রোমাঞ্চিত। ডোয়েন ব্রাভোও রয়েছে ওখানে। সবাইকে ধন্যবাদ।’ এছাড়া বাংলাদেশের অভিজ্ঞ পেসার মুস্তাফিজুর রহমান (৯.২ কোটি), টিম ইন্ডিয়ার পেসার আকাশদীপকেও (১ কোটি) নিয়েছে কেকেআর। দীর্ঘদিন পরে বাংলা দলে খেলা কোনও ক্রিকেটার গায়ে চাপাবেন বেগুনি-সোনালি জার্সি। নেওয়া হয়েছে আর এক পেসার কার্তিক ত্যাগীকেও (৩০ লক্ষ)।
অলরাউন্ডার ও পেসারের পাশাপাশি দক্ষ উইকেটরক্ষক ব্যাটারের খোঁজে ছিল কেকেআর। ফিন অ্যালেন (২ কোটি), টিম সেফার্ট (১.৫ কোটি) ও অনামী তেজস্বী সিংয়ের (৩ কোটি) সংযুক্তিতে সেই শূন্যস্থানও পূরণ হয়েছে। ব্যাটিংয়ে রাচীন রবীন্দ্র (২ কোটি), রাহুল ত্রিপাঠিকে (৭৫ লক্ষ) নিয়েছে তারা। এছাড়া বিহারের সাংসদ পাপ্পু যাদবের ছেলে অলরাউন্ডার সার্থক রঞ্জনও নাইট শিবিরে।
এদিন আনক্যাপড প্লেয়ারের সর্বাধিক দরের রেকর্ড ভেঙে দিলেন কার্তিক শর্মা ও প্রশান্ত বীর। এই দুই তরুণ ক্রিকেটারকেই ১৪.২ কোটি টাকায় দলে নিয়েছে চেন্নাই সুপার কিংস। রবীন্দ্র জাদেজার বিকল্প হিসেবে উত্তরপ্রদেশের ২০ বছর বয়সি বাঁ-হাতি স্পিন অলরাউন্ডার প্রশান্তকে ভাবছে সিএসকে। ১৯ বছর বয়সি উইকেটকিপার ব্যাটার কার্তিক আবার বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের জন্য সুপরিচিত। এছাড়া, ১৩ কোটি টাকায় লিয়াম লিভিংস্টোনকে নিয়েছে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। ৮.৬ কোটি টাকায় জস ইংলিসকে নিয়েছে লখনউ। অনামী আকিব দারকে ৮.৪ কোটি টাকায় কিনে চমক দিয়েছে দিল্লি ক্যাপিটালস। পৃথ্বী সাউকেও শেষ বেলায় কিনেছে রাজধানীর ফ্র্যাঞ্চাইজি। রবি বিষ্ণোই (৭.২০ কোটি) ও বেঙ্কটেশ আয়ারের (৭ কোটি) ঠিকানা যথাক্রমে রাজস্থান ও আরসিবি।