চশমায় ক্যামেরা, হাতে পিস্তল! গুয়াহাটির হোটেলে হত্যাকাণ্ডে ধৃত যুবক, বাবা-মাকে হারিয়ে অসহায় দুই শিশু, জখম কর্মীর অবস্থা স্থিতিশীল
  • ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

বিশেষ সংবাদদাতা, গুয়াহাটি: সোমবার রাত ন’টা। গুয়াহাটির এক হোটেলে শ্যুটআউটে মৃত্যু হয় পাঁচজনের। গুয়াহাটির বরাসার্ভিস এলাকার ‘হোটেল বিলাস ইন’-এ এই ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, হোটেলের মালিক হেলেনা ভরালি, তাঁর ছেলে দেবর্ষি কাশ্যপ, পুত্রবধূ রিনিকি কাশ্যপ, ভাই ভূদেব ভরালি এবং হোটেলকর্মী নারায়ণ দাস। গুলিবিদ্ধ আর এক কর্মী সত্যেন্দ্র পাঠক বর্তমানে চিকিৎসাধীন। হাসপাতাল সূত্রে খবর, তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল। এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ঘনকান্ত গগৈকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। খুনে ব্যবহৃত  পয়েন্ট ৩২ পিস্তলও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, খুনের সময় ঘনকান্তের চোখে ছিল ক্যামেরা বসানো চশমা। সেই চশমা থেকে কোনো ভিডিয়ো পাওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। 

Advertisement

প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, প্রায় এক বছর আগে হেলেনার কাছ থেকে হোটেলটি লিজে নিয়েছিলেন ঘনকান্ত। নিহতদের পরিবারের সদস্য নব ভরালির দাবি, গত ন’মাস ধরে হোটেলের ভাড়া বকেয়া ছিল। পাশাপাশি, লিজের মেয়াদ এবং হোটেলের অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জায় ৩৫ লক্ষ টাকা খরচ নিয়েও বিবাদ চলছিল। সোমবার রাতে বকেয়া টাকা ও চুক্তি নিয়ে কথা বলার সময় দু’পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনও জানা যায়নি। মৃত হেলেনা ও ভূদেব ভরালির দাদা বলেন, ‘ঘনকান্ত নিজেই মিটিং ডেকেছিল। আমারও থাকার কথা ছিল। কিন্তু অন্য একটি কাজে ব্যস্ত থাকায় যেতে পারিনি। অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় এই খুন করা হয়েছে। আমরা এর শাস্তি চাই।’ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য মঙ্গলবার গুয়াহাটির জয়েন্ট পুলিশ কমিশনার অঙ্কুর জৈনের নেতৃত্বে সিট গঠন করেছে অসম পুলিশ।
এরইমধ্যে নিহত দেবর্ষি ও রিনিকি কাশ্যপের দুই শিশুসন্তানের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। ওই শিশুদের একজনের বয়স দু’বছর, অন্যজনের মাত্র তিন মাস। তাদের নিয়ে উদ্বিগ্ন পরিজন-প্রতিবেশীরা। এক প্রতিবেশীর কথায়, ‘হেলেনারা খুব মিশুকে ছিলেন। সকলের বিপদে এগিয়ে আসতেন। অনেক লড়াই করে ব্যবসায় সফল হয়েছিলেন। শিশু দুটির কী হবে, সেটাই চিন্তার।’