অলকাভ নিয়োগী, বিধাননগর: বইয়ের সঙ্গে বাঙালির পুরানো প্রেম। নতুন শব্দ, অক্ষরের পাতায় পাতায় ‘নবান্নের ঘ্রাণ’। হাতের মুঠোয় গুগল, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, সোশ্যাল মিডিয়া। তবে ছাপা অক্ষরের কদর কমেনি বিন্দুমাত্র। তার সাক্ষী সারা বছরের বইপাড়া। পাঠ্য বইয়ের বাইরেও গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, কবিতায় ডুব দিতে ভালোবাসে লক্ষ লক্ষ মানুষ। তাই বইয়ের জন্য এই প্রথমবার বইপাড়ায় আজ রাত জাগার ডাক! তাও আবার লোভনীয় ছাড়ে! রাত শেষ হয়ে ১৫ আগস্টের ভোর হলেই প্রেসিডেন্সিব সামনে বসবে পুরানো বইয়ের হাটও। চলবে দিনভর। স্বাধীনতার সারাদিন বহু প্রকাশনা সংস্থা প্রতিবারের মতো এবারও বিশেষ ছাড় রেখেছেন পাঠকদের জন্য। উদ্দেশ্য একটাই—বইয়ের বিক্রি বাড়ুক, বাঙালি বইয়ের ফিরুক।
স্বাধীনতার দিন বিশেষ ছাড় নতুন নয়। কিন্তু স্বাধীনতার আগে সারারাত বই বাজার নতুন। উদ্যোগ নিয়েছে দে’জ পাবলিশিং। বঙ্কিম চ্যাটার্জি স্ট্রিটে দে’জ এর ঘরে আজ রাত ১২টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত চলবে ওই বাজার। দে’জ এর কর্ণধার শুভঙ্কর দে বলেন, ‘বইয়ের জন্য রাত জাগবে বাঙালি। এটা একটা আবেগ। আমরা ন্যুনতম ছাড় রেখেছি ৩৫ শতাংশ। প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বাড়তি আরও ৫ শতাংশ। তবে কিছু নির্বাচিত বইয়ে থাকবে ৫০ শতাংশ ছাড়ও। রাতভর পাঠকদের সঙ্গে থাকবেন বেশ কয়েকজন লেখক। সিনেমার জন্য, নাটকের জন্য রাত জাগতে পারলে, বইয়ের জন্য বইপাড়ায় রাত জাগব না কেন?’
১৫ আগস্ট দিনভর সমস্ত বইয়ে ৩০ শতাংশ ছাড় দিচ্ছে পত্রভারতী। কর্ণধার ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘সাহিত্যিক সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় উপস্থিত থাকছেন। ফলে শুধু বই কেনা নয়। লেখকের সই, সঙ্গে সেলফিও।’ পুনশ্চ প্রকাশনার স্নেহা নায়েক বলেন, ‘হাজার টাকার উপর বই কেনাকাটা করলে আমরা ৩০ শতাংশ ছাড় দিয়ে থাকি। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে হাজার টাকার উপর বই কিনলে ৩০ শতাংশের সঙ্গে আরও ১৫ শতাংশ ছাড় থাকছে। কলেজ স্ট্রিট কাউন্টারে সেই অফার চলবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত।’ দীপ প্রকাশনের কর্ণধার দীপ্তাংশু মণ্ডল বলেন, ‘স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে আমরা ন্যুনতম ৩০ শতাংশ ছাড় দিচ্ছি। আমাদের কিছু নির্বাচিত বই রয়েছে। সেগুলির উপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পাওয়া যাবে।’ -ফাইল চিত্র