সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: নদী বাঁচলে পরিবেশ, কৃষি, মৎস্যসম্পদ ও নদী-নির্ভর মানুষের জীবন বাঁচবে। কিন্তু, জলপ্রবাহ ক্রমশ কমে যাওয়া, দূষণ, দখল এবং জলাভূমির অবক্ষয়ের জেরে নদীয়া জেলার জলঙ্গি ও অঞ্জনা নদী আজ অস্তিত্ব সংকটে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষে জলঙ্গি ও অঞ্জনা নদীকে বাঁচানোর দাবিতে কৃষ্ণনগর দ্বিজেন্দ্র মঞ্চে সম্মেলনের আয়োজন করল নদী সংগঠন। সম্মেলনে নদী বিশেষজ্ঞ, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, কৃষক, মৎস্যজীবী সহ নদী নির্ভর সাধারণ মানুষ অংশ নেন। সম্মেলনে নদীর বর্তমান পরিস্থিতি, জলপ্রবাহ কমার কারণ, দূষণ, দখলের সমস্যা ও নদী নির্ভর মানুষের জীবিকার উপর তার প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়। জলঙ্গি নদীর বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। পাশাপাশি মৎস্যজীবীরাও তাঁদের দৈনন্দিন জীবনে তৈরি হওয়া সমস্যার কথা তুলে ধরেন। নদী পুনরুদ্ধারের কি করণীয় তা নিয়েও আলোচনা হয়।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর জলঙ্গি নদীর বিসর্জন ঘাটে প্রতিমার কাঠামো, ফুল সহ পুজোর নানা সামগ্রী পড়ে থাকার ছবি ও পরিস্থিতি নিয়ে ‘বর্তমান কাগজে’ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এদিন বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষে জলঙ্গির সেই বিসর্জন ঘাট পরিষ্কার করা হয়। পরিষ্কারের পাশাপাশি নদী দূষণমুক্ত রাখতে সচেতনতার বার্তা দেওয়া হয়। সেভ জলঙ্গির সদস্য শুভঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, নদীতে বাঁধ, ভূমির পরিবর্তন ও নোংরা নিকাশি জল পড়ায় জলঙ্গি আজ বিপন্ন। সদিচ্ছা থাকলে নদী বাঁচাতে অনেক কিছুই করা সম্ভব। তবে পরবর্তী প্রজন্ম নদী ও পরিবেশের কাজ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। তাই নদী রক্ষায় এখনই সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
সেভ জলঙ্গির আরব এক সদস্য শুভব্রত মৈত্র বলেন, বিশ্ব নদী দিবসে প্রত্যেক বছরই সেভ জলঙ্গি নদী ও পরিবেশ সংক্রান্ত সেমিনার হয়। এবার যোগ হয়েছে বিসর্জন ঘাট পরিষ্কার কর্মসূচি। নদী শুধু জলপ্রবাহের মাধ্যম নয়, এলাকার পরিবেশ, অর্থনীতি ও মানুষের জীবন-জীবিকার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখার আহ্বান জানানো হয় সম্মেলনে।