সংবাদদাতা, কাটোয়া : সাইবার দুস্কৃতীদের এবার টার্গেট গ্রামীণ অঞ্চল গুলি৷ ধারাবাহিক ভাবে একটি রাষ্ট্রায়াত্ত ব্যাঙ্কের শাখার নাম করে গ্রাহকদের ফোন করা হচ্ছে৷ হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো হচ্ছে ‘অ্যাপ’৷ কেওয়াইসি এর নাম করে ওই ‘অ্যাপ’ তে ক্লিক করতে বলা হচ্ছে৷ সেই ফাঁদে পা দিয়েই আমানতকারীদের অ্যাকাউন্ট সাফ হয়ে যাচ্ছে৷ লক্ষ লক্ষ টাকা গায়েব হয়ে যাচ্ছে মঙ্গলকোটের মাজিগ্রামে শুধু মাত্র ওই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের শাখায় থাকা গ্রাহকদের অ্যাকাউন্ট৷ এ নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন বাসিন্দারা৷
মাজিগ্রামে শুধুমাত্র একটি ব্যাঙ্কের শাখার গ্রাহকদেরই ধারাবাহিক এরকম টাকা গায়েব হয়ে যাচ্ছে৷ ব্যাঙ্কের নাম করে ফোন করা হচ্ছে৷ তাঁদের বাড়িতে বসেই কেওয়াইসি জমা করার নামে অ্যাপ পাঠানো হচ্ছে৷ সেখানে আবার ভিডিও কল করে গ্রাহকদের ডেবিট কার্ড দেখতে চাওয়া হচ্ছে৷ তারপর নিমেষেই অ্যাকাউন্ট সাফ হয়ে যাচ্ছে৷ গ্রাহকদের প্রশ্ন, তাহলে ওই ব্যাঙ্ক থেকে গ্রাহকদের তথ্য কি সাইবার অপরাধীদের হাতে চলে গিয়েছে? তানাহলে শুধু একটি ব্যাঙ্ক থেকেই বহু গ্রাহকদের ধারাবাহিক ভাবে এমন ঘটনা ঘটবে কেন৷ এসব কাণ্ড যখন ঘটছে৷ তখন ব্যাঙ্ক থেকে একদিন মাত্র সচেতন করার জন্য মাইকিং করা হয়েছে৷ গ্রাহকদের অভিযোগ, টাকা যখন গায়েব হয়ে যাচ্ছে৷ তখন ব্যাঙ্কে গিয়ে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করতে বললে ব্যাঙ্ক কর্মীরা গড়িমসি করছেন৷ এখানেই সন্দেহ বাড়ছে আমনতকারীদের একাংশের৷ মাজিগ্রাম অঞ্চলের কোঁয়াপুর গ্রামের বাসিন্দা দিব্যেন্দু কুমার রায়ের কাছে মাজিগ্রামের ওই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের শাখার নাম করে গত ৮ সেপ্টেম্বর ফোন গিয়েছিল৷ তারপর তাঁকে অ্যাপ পাঠিয়ে তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে ধাপে ধাপে ৩ লক্ষ ৩৪ হাজার ৫৭৮ টাকা গায়েব করে দেওয়া হয়েছে৷ দিব্যেন্দু বাবু বলেন, আমার মেয়ের বিয়ের জন্য জমি বিক্রি করে ব্যাঙ্কে টাকা রেখেছিলাম৷ টাকা যখন কেটে নেওয়া হচ্ছে তখন ব্যাঙ্কে গিয়ে বলেছিলাম তড়িঘড়ি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করতে৷ কিন্তু আমাকে সহযোগীতা করা হয়নি৷ আর আমাদের সন্দেহ হচ্ছে শুধু একটা ব্যাঙ্ক থেকেই এমনটা ঘটবে কেন৷
দিব্যেন্দু বাবু ইতিমধ্যেই গত ১১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলকোট থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন৷ কাটোয়ার এসডিপিও কাশীনাথ মিস্ত্রী বলেন, আমি পুরো ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত করে দেখছি৷
শুধু দিব্যেন্দু বাবুর সঙ্গেই এমন ঘটনা ঘটেনি৷ মাজিগ্রাম অঞ্চলের চাকুলিয়ার বাসিন্দা অজিত পাইনের সঙ্গেও ঘটেছে৷ তাঁর কাছে গত সোমবার ফোন এসেছিল। তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে একই ভাবে ২৭ হাজার টাকা গায়েব হয়েছে৷ একই অঞ্চলের শাঁড়ি গ্রামের এক গ্রাহকের কাছে ৪৪ হাজার টাকা গায়েব করেছে সাইবার দুস্কৃতীরা৷ মাজিগ্রামের পার্শ্বশিক্ষক মৌমিতা দত্তের কাছ ১ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। সাইবার বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, মূলত সাইবার অপরাধীরা এবার গ্রামাঞ্চলের বাসিন্দাদের টার্গেট করছে। এখনও যাঁরা মোবাইলে নানা অ্যাপ সম্পর্কে অবহিত নয়৷ কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় একটা ব্যাঙ্কের এত গ্রাহকের তথ্য পাচ্ছে কিভাবে। এটা পুলিশের তদন্ত করা উচিত বলে দাবি তুলেছেন মাজিগ্রামের বাসিন্দাদের৷