নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তদন্তে গাফিলতির জেরে এবার এজলাসে দাঁড়িয়ে ল্যাজেগোবরে পরিস্থিতির মুখে পড়তে হল হুগলির শ্রীরামপুর থানার আইসিকে। ক্ষমা চেয়ে কোনও মতে শেষরক্ষা হয়েছে ঠিকই। কিন্তু একটি প্রতরণা সংক্রান্ত মামলার ভার কেন সিআইডি-র হাতে তুলে দেওয়া হবে না, আপাতত সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে তাঁকে।
ঘটনা হল শ্রীরামপুর থানা এলাকার বাসিন্দা কমলেন্দু কোমারের চার সন্তানের মধ্যে ছোট কল্যাণ কোমার। কল্যাণবাবুর বাবা কমলেন্দু কোমারের মৃত্যুর পর একে একে তাঁর তিন ভাইয়েরও মৃত্যু হয়। অভিযোগ, সমস্ত ভুয়ো নথি দিয়ে ভুয়ো দলিল তৈরি করে কল্যাণবাবুর তিন ভাইয়ের সম্পত্তি নিজের নামে করে নেন রণেন্দ্রনাথ সোম নামে এক ব্যক্তি। এই ঘটনায় শ্রীরামপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রতারণার ধারা যুক্ত করেনি পুলিস। নিম্ন আদালত নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দিলেও দায়সারা তদন্ত করে চার্জশিট পেশ করা হয় বলে অভিযোগ। শেষে বাধ্য হয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন কল্যাণবাবু।
সেই মামলায় কেস ডায়েরি দেখতে চান বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। তা দেখার পর শ্রীরামপুর থানার আইসিকে সশরীরে হাজিরার নির্দেশ দেন। শুক্রবার আইসি হাজিরা দিতেই বিচারপতি বলে ওঠেন, পুলিস নিম্ন আদালতে একরকম চার্জশিট দিয়েছে আর মামলাকারীকে চার্জশিটের অন্য কপি হস্তান্তর করছে। একই মামলায় কেন দু’টি ভিন্ন কপি হবে? একবার পুলিস ৪৬৩, ৪৭১, ৪২০ আর ১২০বি ধারা যুক্ত করে হাইকোর্টে রিপোর্ট দিচ্ছে। আর মামলাকারীকে যে নথি দেওয়া হয়েছে তাতে রয়েছে শুধু ৪২০ আর ১২০বি ধারা! এই তদন্ত করেছে পুলিস? এই প্রশ্নের উত্তরে রীতিমতো বিব্রত আইসি বলেন, ‘ভুল হয়ে গিয়েছে।’
উত্তর শুনে বিচারপতি বলে ওঠেন, পুলিসি রিপোর্টে আর ভরসা করা যাবে না। পুলিস খুব ক্যাজুয়ালি কাজ করছে। এইভাবেই কী পুলিস কাজ করবে। পুলিসের গাফিলতির জন্য কতবার সরকার বিব্রত হতে হবে? হাইকোর্টের সমনেও এত ক্যাজুয়াল অ্যাপ্রোচ? এরপরই বিচারপতি নির্দেশে জানান, এই মামলা কেন সিআইডিকে হস্তান্তর করা হবে না ২৫ মার্চের মধ্যে তার উত্তর দিতে
হবে আইসিকে।