Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

শহরের আরও ১০ রাস্তার নীচে কেবল, ৮ কোটি বরাদ্দে বসছে ৪০ কিমি দীর্ঘ পাইপলাইন

মাথার উপর তারের জটলা। বাতিস্তম্ভে জড়িয়ে আছে অজস্র কেবল। কোনওটা কেবল টিভির। কোনওটা বিদ্যুতের। কোনও তার আবার টেলিফোন-ইন্টারনেটের।

শহরের আরও ১০ রাস্তার নীচে কেবল, ৮ কোটি বরাদ্দে বসছে ৪০ কিমি দীর্ঘ পাইপলাইন
  • ১১ নভেম্বর, ২০২৫ ১৭:১১
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মাথার উপর তারের জটলা। বাতিস্তম্ভে জড়িয়ে আছে অজস্র কেবল। কোনওটা কেবল টিভির। কোনওটা বিদ্যুতের। কোনও তার আবার টেলিফোন-ইন্টারনেটের। কলকাতার যত্রতত্র এমন দৃশ্যের সঙ্গে কমবেশি পরিচিত সবাই। তবে একে দৃশ্য না বলে দৃশ্যদূষণ বলাই ভালো! শহরকে আরও সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন রাখতে কয়েক বছর আগেই এনিয়ে পদক্ষেপ করতে শুরু করে পুরসভা। প্রথমে হরিশ মুখার্জি রোডে ফুটপাতের নীচে পাতা হয়েছিল কেবল ডাক্ট। এই ডাক্ট আদতে একটি পাইপলাইন, যার মধ্য দিয়ে বিভিন্ন কেবল যায়। ইতিমধ্যে শহরের ৩০ কিলোমিটার রাস্তা বা ফুটপাতের নীচে এই কাজ শেষ হয়েছে। সম্প্রতি বড়বাজারে জগদ্ধাত্রী পুজোর উদ্বোধনে গিয়ে রাস্তার উপর ঝুলে থাকা তারের জঞ্জাল নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপরই তৎপরতা বাড়িয়েছে পুরসভা। সোমবার সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নিয়ে এ সংক্রান্ত বৈঠক করেন পুর-কমিশনার সুমিত গুপ্তা। চলতি অর্থবর্ষ (২০২৫-২৬) শেষ হওয়ার আগে অর্থাৎ আগামী মার্চের মধ্যে আরও ৪০ কিলোমিটার পথে এই কাজ সেরে ফেলতে চাইছে পুরসভা। সেই সঙ্গে তারা চাইছে, ট্রাফিক সিগন্যাল থেকে শুরু করে পুলিশের সিসি ক্যামেরার তারও যেন এই কেবল ডাক্টের মধ্য দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এই মর্মে লালবাজারকে পুরসভা শীঘ্রই চিঠি দেবে বলে খবর। 

Advertisement

পুর কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, ইতিমধ্যে ছ’টি রাস্তায় দু’ধরনের পাইপলাইন বা কেবল ডাক্ট পাতা হয়েছে। একটি ‘পাওয়ার কেবল’। এর মধ্য দিয়ে বিদ্যুতের তার নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। অন্যটিকে বলা হচ্ছে ‘অপটিক্যাল কেবল’। এর ভিতর দিয়ে বিভিন্ন ধরনের ইন্টারনেট সহ অন্যান্য কেবল তার নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পাওয়ার কেবলের পাইপগুলি দুই ইঞ্চি চওড়া। অপটিক্যাল কেবেলের পাইপ রাস্তা বিশেষে ন্যূনতম ৬ ইঞ্চি থেকে ১৮ ইঞ্চি পর্যন্ত হচ্ছে। মূলত দুই রাস্তার সংযোগস্থল বা রাস্তা অতিক্রম করার ক্ষেত্রে ১৮ ইঞ্চি চওড়া করা হচ্ছে পাইপলাইনগুলি। পুরসভার এক কর্তা বলেন, ‘হরিশ মুখার্জি রোডে প্রথম এই কাজ করা হয়েছিল। সেখানে দু’দিকের ফুটপাত মিলিয়ে তিন থেকে সাড়ে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইন পাতা হয়। তারপরে ধাপে ধাপে আরও পাঁচটি রাস্তায় এই কাজ হয়েছে। সব মিলিয়ে দু’দফায় ৩০ কিমি অংশে ডাক্ট পাতা হয়েছে। এবার নতুন করে ১০টি রাস্তা চিহ্নিত করা হয়েছে। শীঘ্রই সেখানে কাজ শুরু হবে। আরও ৪০ কিলোমিটার কেবল ডাক্ট পাতা হবে। আমাদের টার্গেট, শহরে ১৬০ কিমি রাস্তায় কেবল ডাক্ট পাতা। বাকি কাজ ধাপে ধাপে করা হবে।’ কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, প্রথম দুই ধাপে ছ’টি রাস্তায় এই কাজের জন্য সাড়ে চার কোটি টাকা খরচ হয়েছিল। এবার ৮ কোটি টাকা খরচ ধরা হয়েছে। এই কাজের জন্য রাজ্যের তরফে এখনও পর্যন্ত ৪ কোটি ২৫ লক্ষ টাকার বেশি দেওয়া হয়েছে পুরসভাকে। আরও তহবিল চাওয়া হয়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ