নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শহর থেকে তারের জঙ্গল সাফ করতে নানা আলোচনা আগেও হয়েছে। এখনও হচ্ছে। বিভিন্ন সময় পরীক্ষামূলক পদক্ষেপ করা হচ্ছে। কলকাতার বড় রাস্তাগুলিতে বিদ্যুতের তার সেভাবে ঝুলে থাকতে না দেখা গেলেও টিভি, ইন্টারনেট সহ নানা পরিষেবার তার প্রায় সর্বত্র চোখে পড়ে। তবে বিভিন্ন বস্তি এলাকা সহ অলিগলিতে বিদ্যুতের তারের সঙ্গেই জড়িয়ে থাকা অসংখ্য কেবল মাথার উপর ঝুলতে দেখা যায়। এর ফলে একদিকে যেমন দৃশ্যদূষণ ঘটছে, তেমনই বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। অগ্নিকাণ্ডের আশঙ্কাও। এমন তারের জঞ্জাল থেকে কয়েকটি বস্তি অঞ্চলকে মুক্ত করা হয়েছে আগেই। সেই জায়গাগুলিতে কেবল ও ইলেকট্রিক তারের গুচ্ছ একত্রিত করে বিশেষ ধরনের জিআই (গ্যালভানাইজড আয়রন) ট্রে’র মধ্য দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আগামী দিনে ঝুলে থাকা তারের জঞ্জাল সরানোর ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থাই মডেল হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞকরা। সম্প্রতি টালিগঞ্জ বিধানসভার অন্তর্গত প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোড সংলগ্ন দু’টি বস্তিকে এভাবেই তারের জঙ্গল থেকে মুক্ত করা হয়েছে।
পুরসভার ৯৪ ওয়ার্ডের হোগলাপাড়া এবং বড়বাগান বস্তিতে এই কাজ হয়েছে। নির্দিষ্ট দূরত্ব অন্তর লাগানো হয়েছে পোল। তার উপরে বসানো হয়েছে জিআই ট্রে। হোগলাপাড়ায় ৩৫টি পোল বা স্তম্ভ তোলা হয়েছে। প্রায় ২৫০ মিটার দীর্ঘ ট্রে পাতা হয়েছে সেখানে। বড়বাগান অঞ্চলে ৭৫টি পোল বা স্তম্ভ বসানো হয়েছে। এখানে ইলেকট্রিক সহ বিভিন্ন তার নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রায় ৪৫০ মিটার দীর্ঘ পথে বসানো হয়েছে ট্রে। বড়বাগান বস্তির বাসিন্দা জয়ন্ত লোহার, রেবা হালদারদের কথায়, ‘গলির ভিতরে মাথার উপর সব তার ঝুলে থাকত। গলির মধ্যে হাঁটতে চলতেও সমস্যা হতো। বাচ্চারা খেলাধুলো করে। দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকত। সেই ভয় খানিকটা হলেও কমেছে।’
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, হোগলাপাড়া এবং বড়বাগান বস্তিতে এই কাজের জন্য খরচ হয়েছে যতাক্রমে ৫ লক্ষ ও ১০ লক্ষ টাকা। ৯৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার সন্দীপ নন্দী মজুমদার বলেন, ‘বস্তিতে একটা নির্দিষ্ট জায়গায় সিইএসসি মিটার বসায়। ঘরে ঘরে মিটার দেয় না। সেই মিটার থেকে তার টেনে নিয়ে যাওয়া হয় ঘরে ঘরে। ফলে তারগুলি ঝুলে থাকে। অনেকেই সেই তারে কাপড়-জামা শুকোতে দেয়। শর্ট সার্কিট সহ নানা ধরনের বিপদের আশঙ্কা থাকে। তাছাড়া দেখতেও খারাপ লাগে। এই ট্রে ব্যবহারের ফলে সার্বিক পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেকটা ভালো হয়েছে।’
প্রসঙ্গত, এর আগে রাসবিহারী এলাকায় ১৬/২, গরচা দ্বিতীয় লেন, ১২১, ১২৮, ১২৯ মতিলাল নেহরু রোড, ৩০ সি বি মনোহরপুকুর রোডের একাধিক বস্তিতেও এই পদ্ধতিতে কাজ হয়েছে। উত্তর কলকাতার কয়েকটি বস্তি অঞ্চলেও শুরু হয়েছে এই কাজ। মুচিবাজার সংলগ্ন ৬, গোরাপদ সরকার লেন, জহরলাল দত্ত লেনের বস্তিতেও তারের জঙ্গল সরানোর কাজ হয়েছে এভাবেই। বাইপাসের ধারে হাটগাছিয়া, ঝোড়ো বস্তিতেও এমন উদ্যোগ নিয়েছে কলকাতা পুরসভা।