নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএর মাধ্যমে আবেদন করে বহু কাঠখড় পুড়িয়ে মিলেছে ভারতীয় নাগরিকত্বের শংসাপত্র। দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে ইস্যু করা হয়েছে এই সার্টিফিকেট। কিন্তু সেই সার্টিফিকেট কোনো কাজেই লাগানো যাচ্ছে না বলে অভিযোগ। ভোটার তালিকায় নাম তোলা হোক বা রেশন কার্ডের জন্য আবেদন—এরকম নানা প্রয়োজনে ওই শংসাপত্র দাখিল করে কোনো লাভ হচ্ছে না। পাসপোর্ট বা ডোমিসাইল সার্টিফিকেট ইস্যুর ক্ষেত্রেও সিএএ সার্টিফিকেট গ্রহণ করছে না স্থানীয় প্রশাসন। এমনই অভিযোগে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। সেই মামলায় এবার কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনের রিপোর্ট তলব করল হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ।
সোমবার প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে মামলাকারী সংগঠনের আইনজীবী দাবি করেন, একটি পোর্টালের মাধ্যমে সিএএ সার্টিফিকেট দাখিল করে ভোটার তালিকায় নাম তোলা, আধার ও রেশন কার্ড তৈরি বা পার্সপোর্ট, ডোমিসাইল সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করতে হয়। সেই মতো ওই পোর্টালে সিএএ সার্টিফিকেট আপলোড করে গোটা প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার পর দেখাচ্ছে, ‘মার্কড ইনকমপ্লিট’। অর্থাৎ আবেদন সম্পূর্ণ নয়। মামলাকারীর আইনজীবীর এই বক্তব্যের জবাবে কেন্দ্রের তরফে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল বলেন, ‘পোর্টালে গোলযোগের কারণেই যাবতীয় বিপত্তি। মন্ত্রকের তরফে যাঁদের আইন অনুযায়ী শংসাপত্র দেওয়া হয়েছে, তাঁরা নাগরিক হিসাবে যাবতীয় সুবিধা পাবেন। সিএএ সার্টিফিকেটকে স্বীকৃতি দেওয়ার ব্যাপারে পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষের জারি করা একটি লিখিত নির্দেশিকাও আদালতে পেশ করেন তিনি। নির্বাচন কমিশনের আইনজীবীও এই বক্তব্যে সিলমোহর দেন। এরপরই নির্দেশে আদালত জানিয়ে দেয়, পোর্টালে গোলমাল ঠিক করতে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, আগামী শুনানির দিন তার বিস্তারিত রিপোর্ট দিতে হবে কেন্দ্রকে। ২২ সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানি।