সংবাদদাতা, রামপুরহাট: মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লা পরিবহণ সহজতর করার লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ করল পূর্ব রেল। পূর্ব রেল ‘প্রেস রিলিজ’ দিয়ে জানিয়েছে, ঝাড়খণ্ডের পাকুরের নতুন কয়লা ব্লক থেকে সাগরদিঘি সাইটে সহজে কয়লা আনতে নলহাটি-পাকুর এবং নলহাটি-আজিমগঞ্জ রুটের মধ্যে একটি বাইপাস রেল লাইন করা হবে। ইতিমধ্যেই সেই কাজের ডিপিআর চূড়ান্ত হয়েছে।
রেল জানিয়েছে, বর্তমানে সাগরদিঘি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ৩০০ মেগাওয়াটের দু’টি ইউনিট চালু আছে। ৬৬০ মেগাওয়াট করে আরও দু’টি নতুন ইউনিট তৈরি হয়েছে। যার জন্য প্রয়োজন অতিরিক্ত কয়লা। সেই কয়লার চাহিদা মেটাতে ভারত সরকারের কয়লা মন্ত্রণালয় চালু ইউনিটগুলির জন্য ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড (ইসিএল) থেকে ২.০ এমটিপিএ কয়লা সরবরাহ অনুমোদন করেছে। বর্তমানে অন্ডাল, সাঁইথিয়া এবং নলহাটি হয়ে সাগরদিঘিতে যাতায়াত করে কয়লা বোঝাই মালগাড়ি। অতিরিক্ত কয়লা আসবে পাকুরের নতুন কয়লা খনি থেকে। পাকুর থেকে সহজে কয়লা বোঝাই মালগাড়ি চলাচলের জন্য নলহাটি-পাকুর এবং নলহাটি-আজিমগঞ্জ বিভাগের মধ্যে একটি বাইপাস রেল লাইন তৈরি করা হবে। এতে নলহাটি জংশনের যানজটপূর্ণ অংশের বাধা অতিক্রম করা যাবে।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে নলহাটি থেকে আজিমগঞ্জ পর্যন্ত ডাবল লাইন করা হয় ও তার বিদ্যুদয়ন হয়। দিনের অধিকাংশ সময় এই লাইনে মালগাড়ি চলে। বিশেষ করে সাগরদিঘি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কয়লা বোঝাই মালগাড়ি যায়। লোকাল ট্রেন হাতেগোনা। এক্সপ্রেস ট্রেন বলতে হাওড়া-আজিমগঞ্জ কবিগুরু ও গণদেবতা এক্সপ্রেস। বোলপুর রাজগ্রাম রাজ্য সড়কের বুক চিরে গিয়েছে এই লাইন। দিনের অধিকাংশ সময়ে লেভেল ক্রসিং বন্ধ থাকায় ব্যাপক ভোগান্তির মুখে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। এলাকার বাসিন্দারা বলেন, বাইপাস লাইন হলে ট্রেনগুলি এই লেভেল ক্রসিং এড়িয়ে চলতে পারবে। নলহাটি জংশনে ঢুকতে হবে না। তাতে মানুষও রেলগেটের যন্ত্রণা থেকে খানিকটা রেহাই পাবে।
রেল জানিয়েছে, বাইপাস অ্যালাইনমেন্টের সম্ভাব্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। নতুন লাইনটি নলহাটি জংশনের থেকে ২.৬৮১ কিলোমিটার দূরে চাতরা স্টেশন থেকে শুরু হয়ে আজিমগঞ্জ রুটের নলহাটির পরের তকিপুর স্টেশনের সঙ্গে যুক্ত হবে। এতে সাগরদিঘি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লা পৌঁছতে সময় কম লাগবে এবং পশ্চিমবঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদনকে সহজ করবে।
নলহাটির নাগরিক মঞ্চের সহ সম্পাদক রাজেন্দ্র মিশ্র বলেন, পাকুড়ের সঙ্গে সরাসরি আজিমগঞ্জের যোগাযোগ ছিল না। এই লাইন হওয়ার ফলে সুবিধা হবে। রেল যদি পরবর্তী সময়ে বাইপাস লাইন দিয়ে যাত্রীবাহী ট্রেন চালায় তাহলে সাহেবগঞ্জ-বর্ধমান লুপ লাইন থেকে নতুন এই রুটে শিয়ালদহ যেতে সময় কম লাগবে। তেমনি বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে দূরপাল্লার ট্রেনগুলিকে নতুন এই রুট দিয়ে চালাতে পারবে রেল।