নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: এতদিন উদ্বেগের কারণ ছিল ব্যাঙ্কিং সেক্টরে কমে যাচ্ছে ডিপোজিট। অর্থাৎ সাধারণ মানুষের ব্যাঙ্কে অর্থ সঞ্চয়ের প্রবণতা কমছে। মূলত ফিক্সড ডিপোজিটের পরিমাণ বিপজ্জনকভাবে কমেছে। কিন্তু শেষ ত্রৈমাসিকে দেখা যাচ্ছে সব ব্যাঙ্কেই ডিপোজিটও কমছে, লোনও কমছে। ফলে অর্থনীতির হাল নিয়েই উদ্বেগ দেখা দিয়েছে খোদ অর্থমন্ত্রকের অন্দরেই।
Advertisement
ব্যাঙ্কিং সেক্টরের লেনদেনের বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ঋণ ও আমানত। লোন টু ডিপোজিট রেশিও (এলডিআর) তে ভারসাম্য না থাকলে তা ব্যাঙ্কের স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক। গত কয়েক বছর ধরে দেখা যাচ্ছিল, একদিকে লোনের পরিমাণ বেড়ে চলেছে, অন্যদিকে ডিপোজিটের পরিমাণ কমছে। কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছিল, মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব ও আয়-রোজগারে অনিশ্চয়তার কারণে সাধারণ মানুষের হাতে উদ্বৃত্ত অর্থ থাকছে না। সেজন্যই ব্যাঙ্কে অর্থ রাখার প্রবণতা কমেছে। সেজন্য আয় বাড়ানো, নগদ অর্থের সাশ্রয়ের মতো ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে। কিন্তু চলতি আর্থিক বছরের তৃতীয় ত্রৈমাসিকের রিপোর্টে অর্থমন্ত্রক ও অর্থনৈতিক মহলের কপালে ভাঁজ পড়েছে। কারণ, এবার দেখা যাচ্ছে আরও বিপজ্জনক প্রবণতা। ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর ত্রৈমাসিকে ঋণের পরিমাণ কমে গিয়েছে ব্যাঙ্কিং সেক্টরে। কমেছে ডিপোজিটও। অর্থাৎ বাইরে থেকে টাকা জমা হওয়ার প্রবণতাও কমে চলেছে, ব্যাঙ্ক ঋণ নেওয়ার প্রবণতাও কমেছে। সোজা কথায় ব্যাঙ্কিং সেক্টরের প্রধান দুই লক্ষ্যই বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। থমকে যাচ্ছে অর্থনীতির লেনদেন। আর্থিক সমীক্ষক সংস্থা সেন্ট্রামের রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, ২০২৩ সালের এই সময়সীমায় যেখানে ঋণদান প্রবণতায় বৃদ্ধিহার ছিল ৫.৪ শতাংশ। ২০২৪ সালের ওই ত্রৈমাসিকে তা কমে হয়েছে ২.৮ শতাংশ। ডিপোজিট বৃদ্ধিহার ছিল ৩.৯ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ২.৭ শতাংশ। লোন কমে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে মাইক্রোফিনান্স ধাক্কা খাওয়া। অর্থাৎ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প তুলনামূলকভাবে বৃদ্ধি হচ্ছে না। তারা লোন নেওয়ার প্রবণতা কমিয়ে দিয়েছে। যা গ্রামীণ ও আধা শহরের অর্থনীতির পক্ষে সুখকর বার্তা নয়। আয়কর কমিয়ে ডিপোজিট বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে এবার বাজেটে। কিন্তু তারপরই নতুন উদ্বেগ হাজির হল।



