নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ব্যাঙ্ক ডিপোজিটের উপর ধার্য সুরক্ষা বিমার পরিমাণ বৃদ্ধির কথা ভাবা হচ্ছে। কয়েকদিন আগেই কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের ডিপার্টমেন্ট অফ ফিনান্সিয়াল সার্ভিসের সচিব এম নাগারাজু এমনই আভাস দিয়েছিলেন। বর্তমানে এই বিমার অঙ্ক ৫ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ গ্রাহকের যত টাকাই জমা থাকুক, কোনও কারণে ব্যাঙ্কের আর্থিক স্বাস্থ্য ভেঙে পড়লে অথবা ব্যাঙ্ক দেউলিয়া হলে সর্বোচ্চ যে ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে, সেটা ওই ৫ লক্ষ টাকা। যা আগে ছিল ১ লক্ষ টাকা। জানা যাচ্ছে, প্রথমত ব্যাঙ্কিং সেক্টরে ডিপোজিটের প্রবণতা হ্রাস এবং সাধারণ গ্রাহকের ক্রমবর্ধমান দাবির জেরে ডিপোজিটের উপর সুরক্ষা বিমার কভারেজ দ্বিগুণ অথবা তার বেশিও বাড়ানো হতে পারে। এব্যাাপারে ৮ থেকে ১২ লক্ষ টাকার সীমা নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। ডিপোজিট ইনসিওরেন্স অ্যান্ড ক্রেডিট গ্যারান্টি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে এই বিমা প্রদান করা হয়। সহায়ক হিসেবে থাকে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। মুম্বইয়ের একটি সমবায় ব্যাঙ্ককে আচমকা গত সপ্তাহে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক বন্ধ করে দিয়েছে। যা নিয়ে মহারাষ্ট্রে প্রবল জলঘোলা চলছে। গ্রাহকদের মধ্যে টাকা হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমতাবস্থায় আবার এই বিমা কভারেজ নিয়ে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক সক্রিয় হয়েছে। অর্থমন্ত্রক সূত্রের খবর, চলতি আর্থিক বছর সমাপ্ত হওয়ার আগেই এই ঘোষণা করা হতে পারে। অর্থাৎ ডিপোজিটের উপর ধার্য হওয়া সুরক্ষা বিমা যে বাড়ছে সেটা নিশ্চিত। কিন্তু তা কতটা হবে, তা নিয়েই আপাতত চর্চা চলছে। দীর্ঘদিন ধরে ডিপোজিট প্রবণতা নিম্নগামী। মধ্যবিত্ত অর্থসঞ্চয়ের জন্য চলে যাচ্ছে শেয়ার বাজারে। মোটা অঙ্কের অর্থ ফিক্সড ডিপোজিটে রাখা কমে এসেছে। কারণ সুদও কম এবং সুরক্ষাও নগণ্য। ১৫ লক্ষ টাকা ব্যাঙ্কে ফিক্সড ডিপোজিট থাকবে, অথচ সুরক্ষা বিমা ৫ লক্ষ টাকা! এই ব্যবস্থায় বিরক্ত ও অখুশি গ্রাহকরা। ইয়েস ব্যাঙ্ক অথবা অন্য কয়েকটি সমবায় ব্যাঙ্কের আর্থিক সঙ্কট এব্যাপারে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। আর এই সমস্যা মেটাতেই অর্থমন্ত্রক এবং রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। জানা যাচ্ছে, বিমা কভারেজ বৃদ্ধির বিষয়ে উভয় পক্ষই সহমত হয়েছে। ৫ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ওই বিমার পরিমাণ অন্তত ১০ লক্ষ টাকা হোক, এমনটাই চাইছে অর্থমন্ত্রক। তবে আপাতত ৮ থেকে ১২ লক্ষ টাকার একটি সীমার সম্ভাবনা নিয়েই আলোচনা চলছে।



